ভাস্কর্য: ব্রিটেনে দৃষ্টি দূষণ

worst_art1

।মিজানুর রহমান।

পাবলিক আর্টের বহুমুখী কাজের মধ্যে একটি হচ্ছে নান্দনিক উপায়ে গণমানুষের চিন্তার বিকাশ ঘটানো। সম্প্রতি ব্রিটেনের কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ কিছু কিছু শিল্পকর্ম তাদের চিন্তা চেতনাকে বিকশিত করা তো দূরে থাক,চোখের স্বস্তিটাও দিচ্ছে না। কেমন লাগবে যদি সমুদ্র দেখায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তীরে বসানো অতিকায় এক ভাস্কর্য!

দেখে নেয়া যাক বৃটেনের সবচেয়ে বাজে কয়েকটি শিল্পকর্ম।

স্ক্যালর্প

আলদেবার্গে অবস্থিত ম্যাগি হাম্বলিংয়ের এই শিল্পকর্মটিকে গতানুগতিক ও কিম্ভুতকিমাকার বলে বর্ননা করা হয়। এটি একটি বিশাল সামুদ্রিক শেল (ঝিনুকের খোলস) যা এমনভাবে স্থাপিত যেন কোনও কাব্যিক অর্থ প্রকাশ করে। অথচ সমুদ্রের তীরে স্থাপনের কারণে এটি বাসিন্দাদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। তাদের অভিযোগ এটি তাদের সমুদ্র দেখাকে বিঘ্নিত করছে।

বি অব দ্য ব্যাং

আলোক রশ্মির আদলে তৈরি ম্যানচেস্টারের এই শিল্পকর্মটি তৈরি করা হয়েছিল শুরুর লাইন থেকে প্রথম লাফ দেয়ার সময় একজন দৈড়বিধের শক্তিকে দেখানোর জন্য। বাস্তবে এমন কোনও অর্থই বহন করেনি এটি। উপরন্তু মানুষের বিরক্তির কারণ হয়েছে। তাই কারগরি ত্রুটির কারণে যখন এটি নষ্ট হয়ে যায় তখন কেউ এর জন্য শোক ও প্রকাশ করেনি।

নিউবিগিন

শন হেনরির একটি যুগলের ভাষ্কর্য যা টাইনসাইডের সমুদ্র উপকুলে রাখা রয়েছে। যা ২০ বছর ধরে ওই জায়গাতেই রয়েছে। কোনও চিন্তার গভীরতাহীন এই ভাষ্কর্যটি একেবারে অযৈক্তিক ও প্রয়োজনহীন। একটি পুরুষ ও নারীর দৈহিক গড়ন দেয়া ছাড়া আর কিছুই নেই এই ভাষ্কর্যে।

ফুটপ্লেট

ভাষ্কর ব্রায়ান ফলের এই ভাষ্কর্যটি লন্ডন থেকে হলিহার্ডের মধ্যে ভ্রমণ করা ট্রেন যাত্রিদের জন্য এক ধরণের ধাঁধার মত। একটি পা’র চিত্রায়ন। এটি আসলে কী বুঝায়? এটি ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায়। শৈল্পিক গুরুত্ব নেই বললেই চলে। যার ফলে এটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কার্কবির বিতর্কিত গাছ

কার্কবি শহরে ৪০০ বছরের পুরাতন মরা গাছের একটি ভাষ্কর্য স্থাপিত ছিল। যা দৃষ্টিসুখের নাকি দৃষ্টিকটু তা নিয়েই চলেছে দীর্ঘ বিতর্ক। টাউন কাউন্সিল মনে করে এটি সৌন্দর্য বাড়াবে আর সাধারণ মানুষের মতে এর পেছনে অন্তত ৬০ হাজার পাইন্ড খরচের কোনও মানেই নেই।

কাইনবার্গ টাওয়ার

এই ভাষ্কর্যটি কাগজে কলমে ঐতিহাসক তাৎপর্য বহন করলেও এটি দেখে বুঝার উপায় নেই এর এটি কোন অনুপ্রেরণায় তৈরি। কাইনবার্গ যিনি একজন স্যক্সন রাজকন্যা ছিলেন। তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দুটি পাব্লিক আর্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় গ্লচেস্টার শহরের সিটি কাউন্সিল। যার একটি এই টাওয়ারটি। যেটি আপতদৃষ্টিতে কিছুই বুঝায় না।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »