দুনিয়া কাঁপানো পনের শিল্পী দম্পতি

diego-rivera-y-rrida-kahlo

শিল্পকলার ইতিহাস বদলে দিয়েছেন যে সব শিল্পী, তাঁদের কাছে আমরা ঋণী। যাঁদের অবদানের জন্য পৃথিবীর শিল্পের ইতিহাস নতুনভাবে লেখা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার স্ত্রী বা স্বামীর কাছ থেকে পেয়েছন অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা। হয়তো ঐসব শিল্পীদের স্ত্রী বা স্বামীর নিরঙ্কুশ সহয়তা ব্যতীত শিল্পীকলার ইতিহাসে সেসব শিল্পীদের আজকের অবস্থান তৈরি নাও হতে পারতো। চিত্রম-এর জন্য শিল্পকলার ইতিহাস পাল্টে দেওয়া এমন পনের শিল্পী দম্পতি নিয়ে লিখেছেন মাহমুদ আলম সৈকত

রবার্ট এন্ড সোনিয়া ডিলনে

দুনিয়া কাঁপানো বিমূর্তশিল্পী ইহুদি-ফরাসি বংশোদ্ভূত সোনিয়া ডিলনের সাথে তার স্বামী রবার্টের পরিচয় ঘটে ১৯০৮ সালে, উভয়েরই পরিচিত এক বন্ধুর মাধ্যমে। বন্ধুটি আর কেউ নন, জার্মান শিল্পসংগ্রাহক উইলহ্যাম উহদে। তৎকালীন বিখ্যাত সব শিল্পীদের কাছ থেকে এই জুটিটি বেশ প্রশংসা কুড়োয়। এই তালিকায় আছেন পল সেজান আর ভ্যান গঘ-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীরা। এই জুটিটি তাদের শিল্পকর্ম সম্পূর্ন অন্যরকম একটি ধারায় প্রবাহিত করেন এবং এর নাম দেন ‘সিমল্টানিএটি’ – ভিন্নভিন্ন রঙের বৈসাদৃশ্যকে ক্যানভাসে ছড়িয়ে দিয়ে রঙিন গতিময়তার আবেশ তৈরী করে নতুন আমেজ নতুন আবেগ তৈরী করেন তারা।

দিয়েগো রিভেরা এবং ফ্রিদা কাহলো:

যদিও শুরুর দিকে রিভেরা কেবলই ফ্রিদার গুরু হিসেবেই ছিলেন, পরবর্তী দিনগুলোয় ম্যাক্সিকোর কিংবদন্তীতুল্য এই শিল্পীদ্বয় উভয়েই উভয়ের শিল্প চর্চাকে, পারস্পরিক ভাবনাকে দারুণভাবে আন্দোলিত করেন। ১৯৫৪ সালে ফ্রিদার মৃত্যুর অব্যবহিত পরপরই রিভেরা জানান – এই মুহূর্তটিই তার জীবনের সবচেয়ে বেদনার।

মেদিলন ভিসেনড্রপ এবং র্যাম কুলহাস

বহুমাত্রিক নকশায় এই জুটির প্রতিভা, উৎকর্ষতা আর অভিনবত্ব এক কথায় অসাধারণ। ১৯৭৫ থেকে যৌথ প্রয়াসে চালিয়ে যাচ্ছেন ‘অফিস ফর মেট্রোপলিটন আর্কিটেকচার। যুক্ত আছেন সিয়াটল সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এবং ম্যাজেস্টিক নেদারল্যান্ডস এমবেসি ইন বার্লিনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে।

এন্টনি গর্মলে এবং ভিকেন পার্সন্স

ল্যান্ডস্কেপের নিবিড় চিত্রকর পার্সন্স আর ভাষ্কর এন্টনির পরিচয় ঘটে ১৯৭৯ সালে লন্ডনের ‘স্লেইড স্কুল অব ফাইন আর্টস-এ। যদিও দুজনের শিল্পপ্রকাশের ভাবনা বা ভঙ্গি আলাদা, কিন্তু ২০১২-এ এসে দুজনের একটি যৌথ প্রদর্শনী বেশ সাড়া জাগায়। যদিও প্রদর্শনীর পরপরই পার্সন্স সবিনয়ে জানিয়েছেন যে এইরকম যৌথ প্রদর্শনীতে তারা আর অংশ নেবেন না।

উলে এবং মারিনা আব্রামোভিচ

নানা বিবেচনায়-প্রগাঢ় ভাবনায়, উলে আর মারিনা আব্রামোভিচের করা আভা-গার্দ পারফর্মেন্স আর্টগুলো (যেমন: ১৯৮৮ সালে করা লাভার্স) অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের একযুগের যৌথবাসের সমাপ্তিটাকে স্মরনীয় করে রাখতে, গ্রেট ওয়াল অব চায়নার দুই প্রান্ত থেকে হাঁটা শুরু করে গ্রেটওয়ালের মাঝামাঝি এসে মিলিত হওয়ার ভাবনাটিও ছিলো বেশ চিত্তাকর্ষক।

ম্যাক্স আর্নেস্ত এবং ডরোথি ট্যানিং:

সুররিয়ালিজম আন্দোলনের পুরোধা ম্যাক্স এবং ট্যানিং-এর মধ্যে প্রথম পরিচয় ১৯৪২-এ, নিউইয়র্ক গ্যালারিতে। প্রেমের সূত্রপাত এক প্রলম্বিত দাবা খেলার বোর্ডে চাল চালতে চালতে। ১৯৪৬-এ হলিউডে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, একই বিয়ের আসরে আরও একটি জুটির বিয়ে হয় সেদিন, ম্যান রে এবং জুলিয়েট ব্রাউনার জুটি। এর তিনবছর পর উভয় জুটি-ই ফ্রান্সে থিতু হন।

গিলবার্ট এবং জর্জ

ধারনা করা হয়, গিলবার্ট প্রয়েস এবং জর্জ পাসমোর একে অপরকে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়েন। সেটা ১৯৬৭ সালের কথা, সেন্ট মার্টিন্স স্কুল অব আর্টস-এ। সামাজিক সমস্যাবলীর বিরুদ্ধে প্রথাভাঙা শিল্পী জুটি হিসেবে সামনের সারিতেই আছেন তারা।

লি ক্র্যাসনার এবং জ্যাকসন পোলক

দুইজন বিমূর্ত অভিব্যক্তিবাদী শিল্পী কত নিঁখুতভাবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠেন, তা লি ক্র্যাসনার এবং জ্যাকসন পোলককে অনুধাবন করলেই বোঝা যায়। ক্র্যাসনারের শিল্প বিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষণ থেকে নিজের বোধকে যেমন উন্নত করেছেন পোলক, তেমনি পোলকের নিরন্তর প্রভাব লি-কে আরও বেশি রঙ আর স্বীয় ভাবনার প্রতি অর্ন্তজ্ঞানী করে তুলেছে।

ওয়েসলি কান্ডনস্কি এবং গ্যাব্রিয়েল মুঁতেরো

মিউনিখের ফ্ল্যাঙ্কস স্কুলে কিন্ডনস্কির দেওয়া একটি বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলেন মুঁতেরো। আর সেই বক্তৃতা শোনার পর থেকেই তার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। পরে একসাথে এক্সপ্রেশনিস্ট ধারার বেশকিছু কাজে করেন, ‘দ্য ব্লু রিডার’ ও ‘নিউ আর্টিস্ট এসোসিয়েশন’ নামক দুটি এক্সপ্রেশনিস্ট গোষ্ঠী গঠনের সহযোদ্ধা হিসেবে ছিলেন।

ম্যান রে এবং লি মিলার:

পেশাদার মডেল লি মিলার প্যারিস আসেন মূলত শিল্পী ম্যান রে-এর শিক্ষানবীশ হিশেবে। পরবর্তীতে মিলার, ম্যান রে-এর ফটোগ্রাফি কাজের সহযোগী এবং চিত্রকর্মের মডেল হিশেবে কাজ করেন। অবশ্য কিছুদিনের মধ্যেই মিলার নিজ প্রতিভার সাক্ষর রাখতে শুরু করেন এবং সুররিয়ালিস্ট আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

জেসপার জোন্স এবং রবার্ট রসেনবার্গ

বিমূর্ত ঘরানা দিয়ে শুরু করে ও পপ আর্ট-এ বিচরণকারী শিল্পীদ্বয়, জেসপার জোন্স এবং রবার্ট রসেনবার্গ-এর পরিচয় ও পরিণয় গত শতকের পঞ্চাশের দশকে।

ফ্রাঁসো গিলোৎ এবং পাবলো পিকাসো

পিকাসোর বয়স যখন তেষট্টি, তখন তার থেকে চল্লিশ বছরের ছোট এক তরুণ শিক্ষার্থী ফ্রাঁসো গিলোৎ-এর প্রতি তিনি অনুরক্ত হন। পরবর্তী দশবছর তারা যৌথবাসে ছিলেন। এই সময়কালে করা তার কিউবিক কাজগুলো পূর্বেকার কৌণিক কাজগুলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্নমাত্রার বলেই প্রতয়িমান হয়।

 রে এবং চার্লস ইমেস

বিশ শতকের সমধিক স্বীকৃত স্থাপত্যশিল্পী এবং নকশাকার হিসেবে রে এবং চার্লস ইমেস জুটি নমস্য। এই জুটির প্রণিধানযোগ্য দুটি কাজ হচ্ছে : টাইম-লাইফ স্টল ও ইমেস সোফা, যা যেকোনো আধুনিক শিল্পরসিকদের প্রলুব্ধ করে।

এলাইনে মারি ফ্রায়েড এবং উইলিয়াম দে কুনিং

১৯৩৮-এ পরিচয় হয় শিল্পী এলাইনে মারি ফ্রায়েড এবং শিল্পী উইলিয়াম দে কুনিং-এর, বিয়ে করেন ১৯৪৩ এ এসে। বিমূর্ত ধারার এক্সপ্রেশনিস্ট শিল্পী হিসেবে সমধিক পরিচিত হন, পাশাপাশি ষাটের দশকের শিল্প আন্দোলনে নিজেদের যুক্ত করেন।

ক্রিস্তো এবং জেন ক্লদ

বুলগেরিয়ান বংশোদ্ভূত শিল্পী ক্রিস্তো ১৯৫৮ তে জেন ক্লদ-এর মায়ের ছবির আঁকার কাজে তাদের বাড়িতে আসেন। সেখানেই এই জুটির পরিচয় এবং সখ্যতা। এর চার বছরের মাথায় বিয়ে করেন এই জুটি। পরবর্তী সময়ে এই জুটি এক সাথে বেশ কিছু বৃহদাকার স্থাপনাশিল্প এবং পরিবেশবাদী শিল্পউদ্যোগে শামিল হন।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »