প্রাচ্যকলা বিভাগের ৬০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী

oriental_dpt

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের ৬০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে  অতিথিবৃন্দ

ফরিদা ইয়াসমিন রত্মা।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন ও প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২২মে। চারুকলা চত্বরে  এই আয়োজনে  বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং  শিল্পীসহ অনেক গণ্যমান্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেশবরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক হাশেম খান, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক এবং বিশেষ অতিথি  ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মো: আব্দুল আযীয।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে দেশবরেণ্য ১০জন শিল্পীকে সম্মাননা দেয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন শিল্পী হাশেম খান, শিল্প মো: তাজুল ইসলাম, শিল্পী ড. আব্দুস সাত্তার, শিল্প রফিক আহমেদ, শিল্পী লক্ষ্মন কুমার সূত্রধর, শিল্পী অধ্যাপক নাসরীন বেগম। মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয় শিল্পী শফিকুল আমীন, শিল্পী রশিদ চৌধুরী, শিল্পী আমিনুল ইসলাম এবং শিল্পী শওকাতুজ্জামানকে।

অনুষ্ঠানে  শিল্পী হাশেম খান বলেন, ‘ধীরে ধীরে প্রাচ্যকলা বিভাগ শিল্প শিক্ষার এক সমৃদ্ধ  বিভাগে পরিণত হচ্ছে। এই বিভাগ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতি চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিশেষ ঘরানার শিল্পকলা উপস্থান করে চলেছে। প্রাচ্যকলা বিভাগ থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত অনেক চিত্রশিল্পী তাদের মেধার স্ফুরণ ঘটিয়ে বাংলাদেশের শিল্পকলাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।  ১৯৬৯ সালে এই বিভাগটির পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছিল আমাকে। সেই দিনগুলোর কথা আজ বার বার মনে পড়ছে।’

পুনর্মিলনীর আহ্বায়ক এবং প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল আযীয বলেন, নবীন-প্রবীণের পারস্পরিক সম্মিলনের মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটানো সম্ভব, এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলন মেলার আয়োজন করেছে বিভাগের ৬০ বছর পূর্তির শুভলগ্নে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘প্রাচ্যকলা বিভাগ  আয়োজিত নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীর মিলনমেলা সকলের মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ ও সম্প্রীতি সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ় করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পারস্পরিক চিন্তাধারা বিনিময়ের মাধ্যমে জ্ঞান বিকাশের পথ সুগম করবে। সংশ্লিষ্ট শিল্পী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রাচ্যকলা বিভাগ আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি ও সম্মান অর্জন করবে, এ আমার প্রত্যাশা।’

উল্লেখ্য, প্রাচ্যকলা বিভাগের ৬০ বছর পূর্তি এবং প্রথম পুনর্মিলনী উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের অংশগ্রহণে জয়নুল গ্যালারিতে প্রাচ্যধারার শিল্পকর্ম নিয়ে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক ভাব-বিনিময় ও আড্ডায়  চারুকলা চত্বরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। সন্ধ্যায়  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »