ফ্রেস্কো শিল্পে অনুপ্রেরণা ওস্তাদ সাইফুর রহমান

saifur_rahman_fresco

ফ্রেস্কো শিল্পী ওস্তাদ সাইফুর রহমান

।নিভৃত রহমান। চোখ জুড়ানো রঙের খেলায় দেয়ালগুলো রাঙিয়ে তোলাই তার নেশা। পকিস্তানের ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে আরও আকর্ষনীয় করে তোলা এবং মসজিদগুলোর নান্দনিকতা আরও বৃদ্ধি করতে তার জুড়ি নেই। ওস্তাদ সাইফুর রহমান, যিনি কাজ করেন শিল্পের এই দিকটি নিয়েই। ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টে তিনি ফ্রেস্কো শিক্ষক। সেই সঙ্গে কাজ করছেন ডিজাইন প্রতিষ্ঠান সিফামের সঙ্গেও।

‘পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তাম তখন। ছুটিতে লাহোরে বেড়াতে আসি। ওই সময়েই আমি প্রথম ফ্রেস্কোর মোহে পড়ে যাই। বাদশাহী মসজিদের সামনে শিল্পিরা সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করছিলেন। আমি অনেক্ষণ দেখেছি এবং এটা অসাধারণ অনুভূতি ছিলো।’- শিল্পে প্রথম আগ্রহের জন্ম নিয়ে কথাগুলো তিনি বলেছেন দ্য ডিপ্লোম্যাটের সোনিয়া রেহমানকে।

১৯৪২ সালে আত্তক জেলার একটি ছোট গ্রামে জন্ম নেন রহমান। লাহোরে এসে ফ্রেস্কোতে আগ্রহ জন্মানোর পর তিনি আর শিল্পটি থেকে দূরে থাকতে পারেননি। বছর তিনেকের মধ্যেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে আসেন লাহোরে। শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন ওই সময়ের প্রতিষ্ঠিত ফ্রেস্কো শিল্পিদের। ওস্তাদ গোলাম মহিউদ্দিন, ওস্তাদ আহমেদ বুখস তার শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম। তাদের সঙ্গে থেকে তিনি রঙ মেশাতেন। রঙ মেশানোটাই রহমানের কাছে অনেক আর্ষনীয় লাগতে শুরু করে।

শিল্পটির হাত ধরে চলতে চলতে আজ রহমান নিজেই শিল্পটির একটি পরিচয়। পাকিস্তানের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনে তার ভূমিকা অপরিশীম। উজির খান মসজিদ, মরিয়ম যামানি মসজিদ, লাহোর পোর্ট, বাদশাহী মসজিদ, সম্রাট জাহাঙ্গীরের কবর, শালিমার গার্ডেনস, দ্য গভর্নরস হাউসের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য তার তুলির আঁচড়েই পেয়েছে নতুন মাত্রা। তবে সমসাময়িক ভবনেও তিনি রঙের কাজ চালিয়েছেন, তার মধ্যে সেরেনা হোটেল অন্যতম।

শিক্ষকতার শুরু নিয়ে আছে ভিন্ন গল্প। ১৯৭৫ সালের দিকে উজির খান মসজিদে কাজ করার সময়ে পাঞ্জাব সরকার রীতিমত পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ দিয়ে আগ্রহী ফ্রেস্কো শিক্ষার্থী খুঁজে ওস্তাদ মহিউদ্দিন ও তাকে শিক্ষক বানিয়ে দিয়েছিলেন। মজার বিষয় হচ্ছে মসজিদটির ভেতরেই চলতো শিল্পের ক্লাস। শিক্ষার্থীদের পাঠদান শেষ হলে জেনারেল জিয়াউল হক শহরের সব ঐতিহাসিক স্থানগুলোর পুঃনরুদ্ধারের আদেশ দেন। তিনি সবকটি ঐতিহ্যবাহী ভবনকে প্রকৃতরূপে পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন।

২০০৪ সালে শিশ মহলের সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করার জন্য একটি কমিটি তার কাছে আসেন। ওই কমিটিতে পাকিস্তানের ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টের প্রিন্সিপাল সাজিদা ভেন্ডালও ছিলেন। তিনি রহমানকে ওই কলেজে ফ্রেস্কোর শিক্ষা দেওয়ার জন্য এক প্রকারের জোরাজুরি শুরু করেন। জবাবে রহমান বলেন, আমি অশিক্ষিত মানুষ, ইংরেজী জানি না আমি কী করে আপনাদের কলেজে শেখাবো। সাজিদা বলেন, আমাদের আপনার শিক্ষা বা ভাষা নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। আপনি শুধু আমাদের শিক্ষার্থীদের আপনার শিল্প শেখাবেন। এরপর ২০০৬ সাল থেকে তিনি ওই কলেজের শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন এবং নিজের উত্তরসূরী তৈরি করার কাজ করে যাচ্ছেন।

তাই রহমান মনে করেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের কাজ করে গেলে এক সময়ে সাফল্য আসবেই। যে’ই কাজই করুন না কেন নিজের সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ঢেলে দিয়ে কাজ করতে হবে। তবেই সাফল্য আসবে।

বর্তমানে শিল্পটির খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না। তাই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে ফান্ড ও মেধার দরকার। তার মতে এটি পাকিস্তানের মৌলিক শিল্প। এটিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকারের।

 

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »