আইনের দেয়াল টপকে ফ্রিদা মোহ

frida

।নূসরাত জাহান। জীবনের প্রথম এক্সিবিশন। শিল্পীকে আসতেই হয়। এসেছেনও। অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে! আর এমন সব খেয়ালী কাণ্ডের জন্যই তো শিল্পী পেয়ে যান মিথিক্যাল স্ট্যাটাস। মানে তিনি সত্যিকার অর্থে মানুষ ছিলেন নাকি অন্য জগতের দূত, তা নিয়ে সংশয়ে পড়বে কেউ কেউ।

বলছিলাম লাতিন আমেরিকার শিল্পজগতের শুভেচ্ছা দূত ফ্রিদা কাহলোর কথা। ভ্যান গঘদের মতো লিজেন্ডদের মতো একেও মানুষজন চিনেছে খানিক দেরিতে। আর এত দেরি হয়ে গেছে যে মেক্সিকোর বাইরে আসাই ফ্রিদার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানে ফ্রিদা কাহলোর ছবি এখন চাইলেই মেক্সিকোর বাইরের কেউ কিনতে পারছেন না। এ শিল্পীর গুরুত্ব এখন এতটাই মহাকাশছোঁয়া যে, সরকারই তার ছবিগুলোকে দেশের বাইরে যাওয়ার ভিসা দিচ্ছে না।

কিন্তু ১৯৭০ সালের আগে ফ্রিদা কিন্তু তালিকাতেই ছিলেন না। লোকে তার গুরুত্ব টের পেতে শুরু করে ১৯৮০ সালের পর থেকে। ওই সময়েই মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দে লা মাদ্রিদ ইউনেস্কো অনুমোদিত একটি ডিক্রি জারি করেন। ডিক্রি মোতাবেক ফ্রিদার যাবতীয় ছবি, ইজেল থেকে শুরু করে নথিপত্রগুলোও দেশের বাইরে পাঠানো নিষিদ্ধ হয়। আর এ ঘটনার পর থেকেই মেক্সিকোর ভেতর ও বাইরে বাড়তে থাকে ফ্রিদার কদর।

শিল্পের কদর বোঝানোর জন্য বরাবরই আমাদের বস্তুগত মাপকাঠি অর্থের কাছেই হাত পাততে হয়েছে। তাই ফ্রিদা কাহলোকেও উঠতে হলো সেই পাল্লায়। ২০০৬ সালে সোদবিজের নিলামে ফ্রিদার ১৯৪৩ সালে আঁকা রুটস ছবিটি বিক্রি হয় ৫৬ লাখ ডলারে। অবশ্য ফ্রিদা লাতিন আমেরিকান শিল্পীদের মধ্যে ১০ লাখ ডলারের বাঁধ অতিক্রম করা প্রথম শিল্পী হয়েছিলেন সে-ই ১৯৯০ সালেই। ওই বছরের মে’তে সোদবিজের নিলামেই ১৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল দিয়েগো ওয়াই ইয়ো।

টাকার অংকে এটা কমই বলতে হবে। নিউইয়র্কের আর্ট ডিলার ম্যারি অ্যান মার্টিনের হিসাবে এটা দশ শতাংশও না। ফ্রিদাকে নিয়ে কয়েক দশকে পাবলিক ফ্যাসিনেশন তথা জনগণের যে মোহ জন্মেছে তাতে আমেরিকায় তার ছবির দাম ছাড়িয়ে যেত কোটি ডলার।

গত ১২ মার্চেই ডেট্রয়েট ইন্সটিটিউট অব আর্টে চালু হলো ‘দিয়েগো রিভেরা অ্যান্ড ফ্রিদা কাহলো ইন ডেট্রয়েট’। অতিসম্প্রতি আবার নিউইয়র্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে চালু হয়েছে ‘ফ্রিদা কাহলো: আর্ট গার্ডেন লাইফ’। আবার গত ২১ মে থেকেই নিউইয়র্কের থকমর্টন ফাইন আর্ট সেন্টারে শুরু হয়েছে ‘ফ্রিদা কাহলো: মিরর মিরর’ প্রদর্শনী। এখানে অবশ্য ফ্রিদার ছবি নয়, আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় বিভিন্ন সময় তোলা ফ্রিদার ছবিই দেখানো হচ্ছে।

প্রকৃতির সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়া ছিল ফ্রিদার ছবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর সঙ্গে আবার মেক্সিকান সংস্কৃতি হিসেবে আত্মপ্রতিকৃতিগুলোতে দেখা যায় নেকলেস, কানের দুল ও চুলের স্টাইল। মেক্সিকো তো হাতছাড়া করতে চাইবেই না। আর তাই ফ্রিদার ছবির ভুয়া সংস্করণেও বাজার সয়লাব। মার্টিন জানান, প্রতি বছর তিনি নিজেই নাকি ৫০-১০০টা ফেইক ফ্রিদার দেখা পান। তার মতো আরও অনেকের মনে মৃদু আকাঙ্ক্ষা- ফ্রিদার ছবির ওপর নিষেধাজ্ঞা যদি উঠে যেত! এক লহমায় তিনি কত শত শিল্পীকে যে টপকে যেতেন…!

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »