রাজনীতিকদের ‘পশু’ বলায় শিল্পীর ১২ বছরের জেল

irani-artist

ইরানি চিত্রশিল্পী ফারঘাদানি

।নূসরাত জাহান। তার চোখে ইরানের পার্লামেন্টে কোনও মানুষ থাকে না। থাকে বাঁদর আর ছাগলের পাল। তো ‘চোখে’ যা দেখেন তাই তো দেখাবেন শিল্পী। শিল্পীকে দিয়ে আর যাই হোক, নির্জলা মিথ্যে বলা হয় না। আর ওটাই কাল হয়ে দাঁড়ালো ইরানি শিল্পী আতেনা ফারঘাদানির জন্য। ১২ বছরের জন্য তাকে জেলে পুরে দিল সেই ‘বাঁদর’ আর ‘ছাগল’রা।

গোটা পৃথিবীতে কারাবরণ করা শিল্পীদের মতো ফারঘাদানির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। তিনি সরকারের পদ্ধতিতে নাক গলিয়েছেন। সিস্টেমটার অপমাণ করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগটা হলো তিনি তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য ও সুপ্রিম নেতাদের অপমাণ করেছেন।

প্রতিবাদ জানিয়ে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এ ধরনের কাজের জন্য ইরানের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ শাস্তিটাই তাকে দেওয়া হয়েছে। আর এ শাস্তিটাকে ফারঘাদানির আঁকা কার্টুনগুলোর মতোই বিচার ব্যবস্থার একটা ব্যাঙ্গচিত্র বলেছেন অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা শাখার পরিচালক হাসিবা শাহরাউই।

ইরানের ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের বিরোধিতাকারীদের ওপর যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, ছবি এঁকে সেটাই দেখিয়েছিলেন ফারঘাদানি। আর এ প্রদর্শনীর পরপরই ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড ‘বৈপ্লবিক’ পদক্ষেপ নিয়ে বসে। ফারঘাদানির বইপত্র সহ সমস্ত কিছু জব্দ করে তারা। বিচারের আগেই ২ মাস এভিন কারাগারে আটকে রাখা হয় তাকে। তাতেও ঠিক মন ভরছিল না সরকারের। ফারঘাদানিকে ১৫ দিনের সলিটারি কনফাইনমেন্টেও রাখা হয়। অর্থাৎ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলারও চেষ্টা করা হয় তাকে (সাধারণত জেলখানায় অসদাচরণের জন্য দুর্ধর্ষ কয়েদিদের এ শাস্তি দেওয়া হয়, তাও বড়জোর ২-৩ দিনের জন্য)।

নভেম্বরে ছাড়া পান ফারঘাদানি। ছাড়া পেয়েই ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করেন। বলেন, এভিন কারাগারে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আরও বলেন, কারাগারে সরবরাহ করা যে পেপার কাপগুলোতে তিনি ছবি আঁকতেন, সেটাও জব্দ করে কারারক্ষীরা।

এই ভিডিও পোস্ট করার পর ফের গ্রেফতার হন ফারঘাদানি। দক্ষিণের ভারামিন শহরের ঘারচাক কারাগারে আটকে রাখা হয় তাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে এক ধরনের অনশন শুরু করেন ফারঘাদানি। দীর্ঘদিন পানি ছাড়া আর কিছু মুখে নেননি তিনি। পরে এ বছরের মার্চে তাকে আবার এভিন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন সেখানেই বন্দি দিন কাটাচ্ছেন।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »