২১তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী

rumee_national

মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছ থেকে শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার গ্রহন করছেন শিল্পী রুহুল করিম রুমী

 

।ফরিদা ইয়াসমিন রত্না। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশের চারুশিল্পের একটি বৃহত্তম উৎসব। আজ থেকে ঠিক ৪২ বছর আগে ১৯৭৪ সালে সমকালীন চিত্রকলা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর চারুকলা বিষয়ক কর্মকাণ্ড শুরু হয়। এই কর্মকান্ডের সূত্র ধরে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে প্রথম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর যাত্রা শুরু। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি দুই বছর পর পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে এই প্রদর্শনী আয়োজিত হয়।

গত ২৪ মে উদ্বোধন হয়েছে ২১তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী । শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর,, বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ২১তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৫ এর পুরষ্কার নির্বাচন কমিটির সভাপতি শিল্পী সমরজিত রায় চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ২৬১ জন শিল্পীর মোট ২৭৩টি শিল্পকর্ম। যার মধ্যে পেইন্টিং (তেল রং, অ্যাক্রেলিক, জল রং, গোয়াশ, ট্যাপেস্ট্রি, প্যাস্টেল, পেন্সিল ও মিশ্রমাধ্যম) ১৫৮টি, ভাস্কর্য (কাঠ, সিমেন্ট, পাথর, প্লাস্টার, ধাতু, সিরামিক, ফাইবার গ্লাস ও মিশ্রমাধ্যম) ৪৯টি, ছাপচিত্র (উডক্যাট, এচিং, ড্রাই পয়েন্ট, লিথোগ্রাফ, এচিং অ্যাকুয়াটিন্ট ও মিশ্রমাধ্যম) ৩২টি, স্থাপনা ও ভিডিও স্থাপনা ৩১টি এবং পারফরমেন্স আর্ট ৩টি।

প্রদর্শনী ঘিরে বিভিন্ন মাধ্যমে দেয়া হয়েছে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কারসহ ১০টি পুরষ্কার। যার মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী কর্তৃক ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুরষ্কার শীর্ষক শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পান শিল্পী রুহুল করিম রুমি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী কর্তৃক ৩টি সম্মানসূচক পুরষ্কার পান শিল্পী মিঠুন কুমার সাহা, রুহুল আমিন তারেক ও শিল্পী শিমুল সাহা। বেঙ্গল ফাউন্ডেশান পুরস্কার পান শিল্পী মো: আব্দুল মোমেন মিল্টন, সোসাইটি ফর প্রমোশন অব বাংলাদেশ আর্ট পুরষ্কার পান শিল্পী রাসেল কান্তি দাস, এবি ব্যাংক পুরস্কার পান শিল্পী আরিফ আল করিম ভূঁইয়া, ভাষা সৈনিক গাজীউল হক পুরষ্কার পান শিল্পী ইফাত রেজোয়ানা রিয়া, দীপা হক পুরস্কার পান শিল্পী মো: সানা উল্লাহ এবং আজিজুন্নেসা পুরস্কার পান শিল্পী হাবিবা আক্তার পাপিয়া।

২১তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৫ এর সম্মানিত জুরী কমিটিতে ছিলেন শিল্পী রফিকুন্নবী, শিল্পী সমরজিত রায় চৌধুরী, শিল্পী ড. ফরিদা জামান, শিল্পী নিসার হোসেন এবং শিল্পী মো: ইউনুস এবং জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৫ এর শিল্পকর্ম নির্বাচন কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দরা ছিলেন: শিল্পী হামিদুজ্জামান খান, শিল্পী কে, এম, এ কাইয়ুম, শিল্পী আহমেদ শামসুদ্দোহা এবং শিল্পী কনক চাঁপা চাকমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, এসব প্রদর্শনীতে এলে আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের শিল্পকলা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি, শিল্পকলায় এখন আধুনিক প্রযুক্তি প্রবেশ করেছে, অনেক বৈচিত্র্য এসেছে শিল্পীদের কাজে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমি ঢাকায় আসার পর থেকে ঢাকা আর্ট কলেজের সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত ছিলাম, এখনও আমার অনেক সন্ধ্যা কাটে চিত্রশিল্পীদের সান্নিধ্যে। আমার আফসোস, আমি ছবি আঁকতে পারি না।সরকারীভাবে এ বছর আমরা ১ কোটি টাকার ছবি কিনেছি, সামনের অর্থবছরে আরও বড় অংকের ছবি ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমিতে একটি স্থায়ী প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে চাই। শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ছাপচিত্রের কারখানা করতে চাই, এখানে শিল্পীদের আড্ডা দেওয়ার জন্যও একটি জায়গা করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

প্রদর্শনীর প্রবেশ পথেই চোখে পড়ল ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপাপড়া এক মানুষ আশ্রয় চাইছেন। তার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, ইট, টকটকে লাল গোলাপ, ছেলেটি কখনো স্পর্শ করতে চাইছে গোলাপ, কখনো হাতে ইট নিয়ে আরেক ইটের পৃষ্ঠে আঘাত করছে। পেছনে প্রজেক্টরে প্রদর্শিত হচ্ছিল নেপালের সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসচিত্র। নেপালে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপাপড়া মানুষের যন্ত্রনার চিত্র পারফর্মিংয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী অসীম হালদার সাগর। তার বাম পাশেই আর একটি স্থাপনা শিল্প, নাম ‘প্লাস্টিক: দ্যা সাইলেন্ট কিলার’। কোমল পানীয়ের বোতল। সেগুলোকে পলিথিনে মুড়িয়ে তার উপর নানা রংএর আলোর প্রক্ষেপন। পেছনের তিন দেয়ালে শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিপন্ন জীবন।

২১তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৫ এর সম্মানিত জুরী শিল্পী সমরজিত রায় চৌধুরী বলেন, অনেক ভালো গুণগতমানে অনন্য শিল্পকর্ম চোখে পড়েছে এবারের জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে। দিনে দিনে জাতীয় এ প্রদর্শনী একটি নিজস্ব মানে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে। যা ভবিষ্যত শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ।

শিল্পী ড: ফরিদা জামান বলেন, গতবারের তুলনায় এবারের ছবির মান ভালো মনে হয়েছে আমাদের কাছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা।

মোট ৭ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকার বাজেটে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৫। এতবড় একটি শিল্পকলা প্রদর্শনী আয়োজনের ক্ষেত্রে এটা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন শিল্প সমালোচকরা। তারা বলেন, এরকম উদ্যোগে আরও বেশি সরকারী অর্থায়ন দরকার।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »