শিল্পী আলমগীর হকের ওয়াটারল্যাস লিথোগ্রাফি প্রদর্শনী

রেখা আর রঙে প্রকৃতির আহ্বান

 

alamgir_haque

শিল্পী আলমগীর হক

।মুজিবুল হক।  হলুদ রঙের পটভূমিতে মোটা ব্রাশে আঁকা হয়েছে লাল রঙের সর্পিল স্ট্রোক; তার উপরে মোটা ও চিকন তুলিতে আঁকা কালো ছোপ। মাঝে মাঝে সাদা রঙের পটভূমি। এমনি মনোরম দৃশ্যের দেখা মিলে মৃম্ময় আর্ট গ্যালারিতে শিল্পী আলমগীর হকের ‘আন টাইটেল ল্যান্ডস্কেপ’ (শিরোনামহীন প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য) শিরোনামের শিল্পকর্মটিতে। চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থিত খুলশীর মৃম্ময় আর্ট গ্যালারিতে গত ২৫ মে শিল্পী আলমগীর হকের এলসহোয়ার (অন্য কোথাও) শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম ওয়াটারল্যাস লিথোগ্রাফি (পানিবিহীন প্রস্তরের ওপরে মুদ্রণশিল্প) শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম ক্লাবের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, অতিথি ছিলেন বিস্তার আর্ট কমপ্লেক্সের পরিচালক আলম খোরশেদ, আলিয়ঁস ফ্রসেজের পরিচালক রাফায়েল ইয়েগার, বিএসআরএম’র পরিচালক জোহায়ের তাহেরাহি, শিল্পী জসিম উদ্দিন, মৃম্ময় আর্ট গ্যালারির পরিচালক সামিনা এম করিম।

লিথোগ্রাফ প্রাচীন শিল্পকলার একটি মাধ্যম। সাধারণত তেল ও পানির মিশ্রণে সাদা চুনাপাথরের তুস ও গ্লাসমার্কারের সমন্বয়ে এই শিল্প তৈরি হতো। আর ওয়াটারল্যাস লিথোগ্রাফ হচ্ছে টিনের শীট বা মেটালিক শীটের ওপর খোদাই করে কপার ও রাসায়নিক মিশ্রণে প্রতিটি প্লেটে আলাদা আলাদা রঙে এচিং ও লিথো প্রেসের মাধ্যমে প্রিন্ট নেওয়ার প্রক্রিয়া। প্রখ্যাত শিল্পী ম্যাক্স সেভেন আপ ও তাঁর সহযোগিদের সঙ্গে শিল্পী আলমগীর হক মিলে ওয়াটারল্যাস লিথোগ্রাফি আবিষ্কার করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাপচিত্র বিভাগের আমন্ত্রণে দু’মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তিনি কানাডা থেকে চট্টগ্রাম আসেন। এই প্রশিক্ষণ কমর্শালা পরিচালনার সময় মৃম্ময় আর্ট গ্যালারির আমন্ত্রণে শিল্পী আলমগীর হক এবারের প্রদর্শনীটি করেন।

কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর শেষের কবিতায় লিখেছেন ফ্যাশনটা হলো মুখোশ আর স্টাইলটা হলো মুখশ্রী। তেমনি শিল্পের সঙ্গে শিল্প উপকরণ বা মাধ্যমের সঙ্গে শিল্পীর আত্মিক যোগাযোগ না থাকলে নতুন কোন স্টাইল বা ধারার শিল্প সৃষ্টি হয় না। শিল্পী আলমগীর হকের ওয়াটারল্যাস লিথোগ্রাফে আঁকা শিল্পকর্মসমূহ দেখে এ কথাই বিশ্বাস করবে যে কেউ। সুদূর কানাডায় থাকলেও তার প্রসূত শিল্পের ভাষা এ দেশের ভূদৃশ্য। উৎসব মুখর সজীবতার রঙই ফুটে উঠে তার লিথোগ্রাফে। বেশির ভাগ কাজে সর্পিল রেখা ও স্তরে স্তরে পলেস্তারের মতো রং চাপানো হয়েছে। বর্ণ সুষমায় শোভিত আবেগে নিজেকে উম্মোচন করেছেন শিল্পী। অসংখ্য ধাবমান রেখা ছাপচিত্র সমূহে গড়েছেন তৃপ্ত-অতৃপ্তের বণর্মালায়। সৃজন স্পৃহা থেকে টাইপোগ্রাফিকে করে ফেলেছেন শিল্পের অন্তর। তিনি চিরচেনা দৃশ্যকে সরাসরি প্রকাশ না করে করেছেন বিমূর্ত আকৃতিতে। পরস্পর বিরোধী রং লাল, হলুদ, কালো, নীল, সবুজ, খয়েরি, কমলার প্রয়োগে সংঘর্ষ তৈরি করেছেন শিল্পী। তিনি তাঁর ছাত্রচিত্রগুলোতে বিরামহীন রঙের ব্যবহার করে পটভূমিকে এতটা ভারী করেছেন এতে তাঁর একটি শিল্পকর্মের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে ভাবনার গর্ভে বিলীন হয়ে যান যে কোন দর্শক। এসব কারণেই শিল্পে নতুনত্ব খুঁজে পেতে সহায়তা করবে যে কোন দর্শককে।

প্রদর্শনী সম্পর্কে সামিনা এম করিম বলেন, শিল্পী আলমগীর হকের মতো প্রখ্যাত শিল্পীর কাজের প্রদর্শনী করতে পেরে মৃম্ময় আর্ট গ্যালারি সত্যিই গর্বিত। চট্টগ্রামে অনেক ভালো মানের শিল্পী থাকার পরও তাদের কাজ বিক্রি হয়না। তাই শিল্পীদের কাজের প্রদর্শনী ও বিক্রির লক্ষ্যে মৃম্ময় আর্ট গ্যালারির যাত্রা শুরু হয়েছে। ২৫ মে শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি চলে ১৫ জুন ২০১৫ পর্যন্ত।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »