শিল্পী মনসুর উল করিমের একটি ছবি

প্রকৃতির সৌন্দর্য্যইে আনন্দ

monsur-ul-karim-single-art-pic।মুজিবুল হক। শীতের ভোরে সূর্যের আলোয় কুয়াশা ভেদ করে বেরিয়ে আসে পাহাড়। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় সারি সারি গাছ, তারই ফাঁকে  দেখা যায় সর্পিল মেঠো পথ আর পাহাড়ের চূড়ায় আদিবাসীদের ছোট ছোট ঘর। এমনি মনোরম দৃশ্যের দেখা মিলে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সার্সন রোডের হাটখোলার আর্ট গ্যালারীতে শিল্পী মনসুর উল করিমের ‘বান্দরবান’ শিরোনামে শিল্পকর্মে।
গত ২৬ মে ২০১৫ চট্টগ্রাম নগরীর হাটখোলাতে একটি মাত্র শিল্পকর্ম দিয়ে হয়ে গেল শিল্পী মনসুর উল করিমের ২৪তম একক প্রদর্শনী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী হলেও বাংলাদেশে সম্ভবত এটিই কোন শিল্পীর একটি মাত্র শিল্পকর্মের প্রথম প্রদর্শনী। প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহাবুবুল আলম। অতিথি ছিলেন ওস্তাদ আজিজুল হক, ইস্টার্ন গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষিকা হাসিনা জাকারিয়া বেলা, হাটখোলার সমন্বয়ক ইউসুফ মুহাম্মদ। শিল্পী মনসুর উল করিম এবারের প্রদর্শনীটি উৎসর্গ করেন প্রেম ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।
ঢাকা ল্যাব এইডের সৌজন্যে বাংলাদেশের ৩০ জন শিল্পীকে নিয়ে বান্দরবানে আয়োজন করা হয় আর্টক্যাম্প। সেই আর্টক্যাম্প থেকে ফিরে এসে বান্দরবানের সৌন্দর্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে শিল্পী মনসুর উল করিম বান্দরবানের পাহাড় ও অরণ্য নিয়ে ‘‘বান্দরবান” শিরোনামে ছবিটি আঁকেন। চলমান প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে বিষয়ানুভবতার খোঁজ মেলে তাঁর ছবিটিতে। প্রকৃতির আকৃতিকে তুলে এনেছেন প্লাসিক রেক্সিনে তৈরি ক্যানভাসে কালো রঙের মার্কার কলম দিয়ে। কোথায় ও গাঢ়ো, কোথায়ও হালকা লাইনের ব্যবহার করে পরিপেক্ষিত সৃষ্টি করেছেন। অসংখ্য বিন্দু, আড়া আড়ি আলাদা করা যায়। শুধুমাত্র কালো কালিতে আঁকা কম্পেজিশনে ছবিটির কোন কেন্দুবিন্দু নেই। কোন কোন স্থানে হয়ত ইচ্ছা করে দিয়েছেন অবাঞ্ছিত লাইন। নন্দন নির্ভর আনন্দ হয়তো ছবিটিতে নেই কিন্তু দর্শককে প্রকৃতিকে খোঁজার আনন্দ দেয়। ক্যানভাসে ছবির দিকে তাকালে আমরা একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারি; ক্যানভাসে কালো রঙের রেখার গতি যেন আমাদের শিল্পে নতুন স্পন্দন দেয়। প্রকৃতি থেকেই শিল্পজ্ঞান অন্বেষনের পাঠ নিয়েই শিল্পী মনসুর উল করিমের এই শিল্পকর্মের যাত্রা। প্রদর্শনীর ছবিটি সম্পর্কে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মনসুর উল করিম বলেন, ‘বান্দরবানের প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য  সবসময় আমাকে আলোড়িত করে। সেই সৌন্দর্য্যরে প্রতি অনুরাগী হয়ে বৃক্ষ নির্ভর এই শিল্প রচনা করেছি। এছাড়াও বর্তমান সময়ে মানুষ যেভাবে বৃক্ষ নিধন করে প্রকৃতির সাথে বিরুদ্ধতাপূর্ণ আচরণ করছে তার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ নিয়ে আমি এই ছবিটি এঁকেছি।’ লাইন, সমান্তরাল ও কৌনিক লাইনের বৈচিত্র দেখা মিলে, তবে কিছু কিছু অংশে কালো কালিতে ক্যানভাস ভরাট করেছেন আবার কাজের প্রয়োজনে কিছু অংশে ক্যানভাস একেবারে খালি রাখেছেন। যার কারণে একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের পার্থক্য, মেটো পথ, ঘরবাড়ি সহজেই ধরা পড়ে দর্শকের চোখে।
হাটখোলাতে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীটি চলে ২৯ মে পর্যন্ত।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »