শুভ জন্মদিন শিল্পী মূর্তজা বশীর

 

murtaza_bashir3_bashir_photo_by samir_fb

শিল্পী মূর্তজা বশীর / ছবি: শিল্পীর ফেসবুক পেজ থেকে

।চিত্রম ডেস্ক। বাংলাদেশী শিল্পকলার একেবারে প্রথম দিকের শিল্পীদের একজন মূর্তজা বশীর। ১৯৩২ সালের আজকের দিনে ঢাকায় জন্ম। পিতা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। খ্যাতিমান পিতার ছায়া থেকে বের হওয়ার তাগিদে মূর্তজা বশীরুল্লাহ থেকে হন মূর্তজা বশীর। পিতার পরিচয়ে নয়, নিজের পরিচয় তিনি নিজেই। তাঁর পরিচয় চিত্রকলায়। তাঁর পরিচয় লেখালেখিতে, গবেষণায়। তবে সব ছাপিয়ে তিনি চিত্রশিল্পী। শিল্পী মূর্তজা বশীর। বাংলাদেশী চিত্রকলার জীবন্ত কিংবদন্তী।

১৯৪৯ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন কর্তৃক ঢাকায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন সরকারী চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। পাশ করেন ১৯৫৪ সালে। স্কুল জীবনেই জড়িয়ে পড়েন বামপন্থী রাজনীতিতে। সরকারী চারুকলা ইনস্টিটিউটে মূলত পার্টির নির্দেশেই ভর্তি হন। পিতা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লার সংগ্রহে থাকা শিল্পকলা বিষয়ক বই দেখে দেখে অনুপ্রাণিত হন। কৈশোর বয়স থেকেই শুরু করেন ছবি আঁকার চর্চা। বাবা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর পাঠাগারে চিত্রকলার যে বইগুলো শিল্পী বশীরের জন্য নিষিদ্ধ ছিল সেগুলো পিতাই একদিন পুত্রকে উপহার দেন। তবে সেটা সহজ ছিল না।

পেশাদার শিল্পী হবেন, ছবি আঁকবেন এরকমটা শিল্পী মূর্তজা বশীর কখনো ভাবেননি। পারিবারিক উৎসাহ ছিল না একেবারেই। কারণ বিদগ্ধ বাবা জানতেন শিল্পীর জীবন খুব কষ্টের। কিন্তু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার ভারতবর্ষের রাজনীতির ঢেউ শিল্পী মূর্তজা বশীরকে আচ্ছন্ন করেছিল। বাবার চাকুরি সূত্রে বগুড়ায় থাকাকালে বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন স্কুল জীবনেই। চিত্রচর্চা বিদ্যার ব্যবহারিক দিকটি কাজে লেগে যায় খুব। মার্কক্স-লেনিনের পোর্টেট আঁকতে শুরু করেন পার্টির জন্য। পোস্টার আঁকেন। রাতের অন্ধকারে সেগুলোই আবার দেওয়ালে দেওয়ালে সেটে দিয়ে আসেন। রাজনৈতিক কর্মী মূর্তজা বশীরের শিল্পী চেতনার বিকাশ ঘটতে থাকে সেখান থেকেই।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে রেহাই পায় ভারতবর্ষ। ভারত-পাকিস্তান নাম নেয়। এ এক অমোঘ ক্ষত। রেহাই পায়নি বাঙালি। রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে জিন্নার বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও শোষকের পদধ্বনির আভাষ পায় বাঙালী। শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। বাংলা ভাষা রক্ষায় ভাষা আন্দোলন। শিল্পী মূর্তজা বশীর যুক্ত হন ভাষা আন্দোলনে। রাতের অন্ধকারে পোষ্টার লাগাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। অমোঘ পরিণতি কয়েদখানা।

১৯৫৪ সালে ঢাকার চারুকলা পাঠ সমাপ্ত করেন তিনি। এ বছরই আর্ট এপ্রিসিয়েশন কোর্স করেন কলকাতার আশুতোস মিউজিয়ামে। ৫৬ সালে পাড়ি জমান ইতালিতে। চিত্রকলা বিষয়ে পাঠ নিতে শুরু করেন ফ্লোরেন্সের অ্যাকাডিমিয়া দি ব্যাল্লি আর্টি-তে। ১৯৫৭-৫৮ সালে একই প্রতিষ্ঠানে পড়েন ফ্রেস্কো বিষয়ে। ১৯৭১-৭৩ সালে মোজাইক ও এচিং একুয়াটিন্ট বিষয়ে পড়েন ফ্রান্সের প্যারিসে। এ সময় তিনি তাঁর বিখ্যাত দেওয়াল ও শহীদ স্মৃতি সিরিজের কাজগুলো করেন।

১৯৫৮ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১৮টি একক প্রদর্শনী করেন দেশের এই বরেণ্য শিল্পী। অংশগ্রহন করেছেন অনেক দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে। ১৯৮০ সালে পান একুশে পদক। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শিল্পী মূর্তজা বশীর।

আজ ১৭ আগস্ট ২০১৫ বাংলাদেশের এই কিংবদন্তী শিল্পীর ৮৪তম জন্মদিন। শিল্পকলা বিষয়ক পত্রিকা চিত্রম-এর পক্ষ থেকে শিল্পী মূর্তজা বশীরের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। শিল্পীর সুস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »