শততম মঞ্চায়নে লোক নাট্যদলের ‘মুজিব মানে মুক্তি’

Mujib mane mukti

।চিত্রম প্রতিবেদন। পিনপতন নীরবতা ভেদ করে মঞ্চকাঁপিয়ে উচ্চকণ্ঠে সেই ঐতিহাসিক উচ্চারণ–‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।  প্রতীকী বঙ্গবন্ধু মঞ্চে তখন মঞ্চে। বজ্রকণ্ঠে সেই অমর স্বাধীনতার ডাক। যেন ফিরে এসেছে সেই ৭ই মার্চ। মিলনায়তনটিই যেন রেসকোর্স ময়দান। বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে গমগম করছে হল। গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে মঞ্চস্থ হওয়া ‘মুজিব মানে মুক্তি’র একটি দৃশ্য এটি। নাট্যজন লিয়াকত আলীর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় লোক নাট্যদল এটি মঞ্চস্থ করে। এটি ছিল নাটকটির শততম মঞ্চায়ন।

বঙ্গবন্ধুর মহান সংগ্রামী জীবনভিত্তিক ঐতিহাসিক নাট্য আখ্যান ‘মুজিব মানে মুক্তি’। নাটকের শুরুতে নেপথ্যে বাজতে থাকা একটি দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে মঞ্চ ঘুরে বেড়ান শিশু মুজিব। এভাবে এগিয়ে যায় নাটকের গল্প। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একে একে ৬ দফা, ১১ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা উপস্থাপিত হয়। তারপর মহাকাব্যিক ৭ মার্চ এবং এর ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ঘটনাবলীও স্থান পায় নাটকে। নাটকটির উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন। ঘটনার বর্ণনার সাথে দেশাত্মবোধক গানের সমন্বয় ছিল অনবদ্য।

আবহমান বাংলার হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শোষণ-বঞ্চণা, দ্রোহ ও মুক্তির স্বপ্ন বিনির্মাণ এই নাটকের মূল উপপাদ্য। এতে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ধারাবাহিক ইতিহাসের সাথে বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশোর, যৌবন, সংগ্রামী জীবন ও মহাপ্রয়াণ ক্রমান্বয়ে সন্নিবেশিত হয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, তেইশ বছরের পাকিস্তানি অপশাসন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরে দেশ গঠন এবং তার মহাপ্রয়াণে বর্ণনা করা হয়েছে সুনিপুণভাবে।
পরিশেষে একটি প্রত্যয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে নাটকটির সমাপ্তি ঘটে : ‘যেখানে ঘুমিয়ে আছো, শুয়ে থাকো বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রেমিক। তোমার সৌরভ দাও, দাও শুধু প্রিয় কণ্ঠ, শৌর্য আর অমিত সাহস। টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে, আমাদের গ্রামগুলো তোমার সাহস নেবে, নেবে ফের বিপ্লবের মহান প্রেরণা’।

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন ৪৬ নাট্যকর্মী। মূল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিয়াউদ্দিন শিপন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া কলাকুশলী সবাই কালো পোশাক পরে অভিনয় করেছেন।

এর আগে শততম প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন দলের অধিকর্তা ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। শততম প্রদর্শনীর স্মারক হিসেবে অতিথিরা নাটকের কলাকুশলীদের হাতে স্মারক তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, লোক নাট্যদল দেশের বিভিন্ন জেলায় নাটকটি এ পর্যন্ত ৯৯টি প্রদর্শনী করেছে। নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫টি নাট্যসংগঠন নিজস্ব প্রযোজনা হিসেবে ‘মুজিব মানে মুক্তির নিয়মিত মঞ্চায়ন করছে।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »