শিল্পকলায় নান্দীমুখের নাট্যোৎসব

Urnajal
।চিত্রম প্রতিবেদন।  চট্টগ্রামের নাট্যসাংগঠন ‘নান্দীমুখ’ এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকায় আয়োজিত হলো দুই দিনব্যাপী ‘নান্দীমুখ রঙ্গমেলা’। গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে উৎসবের উদ্বোধন করেন নাট্যনির্দেশক ও অভিনেত্রী রোকেয়া রফিক বেবী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি  ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান। এর আগে ‘নান্দীমুখ দক্ষিণ এশিয়া নাট্যোৎসব’ ও ‘নান্দীমুখ নাট্যত্রয়ী’ শিরোনামে দুটি নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল।

উৎসবস্থলের করিডোর ও টিকেট কাউন্টারের সামনে দেখা যায়, সংগঠনটির গত ২৫ বছরের নাটকের ছবি, পোস্টার, স্যুভেনির ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত নাট্য-সমালোচনা ও নানা আয়োজনের প্রদর্শনী। উদ্বোধনশেষে অতিথিরা বাংলাদেশে নাট্যচর্চায় নান্দীমুখের অবদান স্বীকার করে সংগঠনটির নাট্যকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এরপরই মঞ্চস্থ হয় তাদের দর্শকনন্দিত নাটক ‘ঊর্ণাজাল। এটি রচনা করেছেন বাকার বকুল এবং নিদের্শনা দিয়েছেন ফয়েজ জহির।

ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প নিয়ে রচিত এক মর্মন্তুদ উপাখ্যান ‘ঊর্ণাজাল। ছোট্ট একটি জোনাক পোকার মৃতুতেও যে খালেদ একসময় চোখের জলে বুক ভাসাত, সেই খালেদ এখন ধর্মের নামে যে কারো প্রাণ নিতে দ্বিধা করে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নেতৃত্ব দেয় সে। নিজ হাতে যাত্রার প্যান্ডেল পুড়িয়ে দিতে কিংবা যাত্রাবাবুদের লাশ দেখতে খালেদের এখন বুক কাঁপে না। ক্রমেই কাঞ্চনডাঙা গ্রামের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যে লাগতে শুরু করে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। অথচ হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ছিল এই জনপদের। নৌকা বাইচ, মেলা যাত্রাপালা, পুঁথিপাঠ থেকে শুরু করে কী না হত এই গ্রামে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও একসাথে লড়াই করেছিল পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এই গ্রামে বাসা বাঁধতে শুরু করে মৌলবাদ। বিকশিত হতে থাকে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতা।

হঠাৎ খালেদ একদিন জানতে পারে যে চোখ দিয়ে সে পৃথিবীর আলো দেখছে সে চোখ ঘোষ অপেরার মালিক মণিকান্ত ঘোষের কাছ থেকে দানসূত্রে পাওয়া। একজন মুরতাদের চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখলে সে চোখ খালেদকে বিভ্রান্ত করবে। তাই ধর্মগুরু আমিরের নির্দেশে উপড়ে ফেলা হয় খালেদের দুচোখ। চোখ হারিয়ে খালেদ পায় তার তৃতীয় চোখের সন্ধান। উপলব্ধির গভীর বেদনা থেকে দ্বিধাহীন সে বলে ‘এখনি বিনাশ করো তাদের, যারা বিভ্রান্ত করে। ক্ষমা করো আমাকে, হত্যা করো।’

এভাবেই গড়ে ওঠেছে নান্দীমুখের ‘ঊর্ণাজাল’ নাটকের নিটোল কাহিনী। সাম্প্রদায়িকতার কুৎসিত ও ভয়ংকর থাবার কাছে কীভাবে অসহায় হয়ে ওঠে সাধারণ জনগণ আর তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে একশ্রেণির ভ-তপস্বী। আবার নাটক শেষে সে দুঃসহ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ কিংবা খালেদের মতো মানুষের নতুন চেতনার আলো ছুঁয়ে যায় দর্শক-হৃদয়।

মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়। মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই তৈরি করে রীতিনীতি, মতবাদ। ধর্মান্ধতার জালে জড়িয়ে পড়ে যে মানুষ তার সুকুমারবৃত্তি, মানবতা ও সম্প্রীতিবোধ হারায়, নাটকের পরতে পরতে তা দৃশ্যায়িত করা হয়েছে।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন : বাপ্পা চৌধুরী, কামরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, বিটু ভৌমিক, কংকন দাশ, বিকিরণ বড়ুয়া, মুরাদ হাসান, জেসমিন আক্তার, সাগর চৌধুরী, সাইদুল আলম সাইদ, নূর রহমান, শাহীনুর সরোয়ার, সুজিত দাশ ও অভিজিৎ সেনগুপ্ত।

দুই দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিনে আজ ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় একই মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘তবুও মানুষ’। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন অভিজিৎ সেনগুপ্ত।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »