দৃক গ্যালারিতে ‘মনছবি’

nayeema parveen exhibision pic 1. edited

।চিত্রম প্রতিবেদন। গ্যালারি জুড়ে ছবিগুলো যেন নীরবতার ভাষায় কথা বলে যাচ্ছে। সে কথায় নানা আনন্দ-বেদনা যেন ছলকে উঠছে থেকে থেকে। একটি ছবির দিকে তাকিয়ে একটু থমকে দাঁড়াই। কলাগাছের ভেলার ওপর ভাসছে এক কিশোরী। চোখেমুখে তার অনিশ্চিত যাত্রার ভয়। গন্তব্যহীন, নিরাশ্রয় কিশোরীটির অনিশ্চিত যাত্রার উদ্বেগ যেন দর্শক মনকেও ভাবিয়ে তোলে। ‘ভেলার বাহন’ শিরোনামের চিত্রকর্মটির দিকে তাকিয়ে দর্শকও একাত্ম হয় কিশোরীর বেদনায়। আরেকটি চিত্রকর্ম। নাম ‘রংধনু’। সবুজ পাহাড়ের পাশে সোনালি ধানখেত। আকাশে ভাসছে কালোমেঘ। তার ফাঁক গলিয়ে উঁকি দিচ্ছে সাতরঙা রংধনু। অনিশ্চিতযাত্রার পাশেই যেন আশার আলো।

এমন অসাধারণ সব চিত্রকর্ম নিয়ে গত ২৭ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডির দৃক গ্যালারিতে শুরু হলো আলোকচিত্রী নাঈমা পারভীনের ‘মনছবি’ শীর্ষক একক প্রদর্শনী।

তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এশিয়াটিক গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী যাকের। স্বাগত বক্তব্য দেন আলোকচিত্রী নাঈমা পারভীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘অপরূপা বাংলাদেশের অনিন্দ্য সৌন্দর্য এবং এদেশের চিরায়ত জীবনপ্রবাহের বিভিন্ন ঘটনাবলীর অভিনব অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন নাঈমা পারভীন।’

সবক্ষেত্রে নারীর জয়গানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের পথচলা যত সহজ একজন নারীর ক্ষেত্রে ততটা সহজ নয়। তবে আজকের বাংলাদেশে নারীর পথচলা অনেকখানি সহজ হয়েছে। বিভিন্ন পেশায় নারী তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। গতানুগতিক জায়গা থেকে সরিয়ে এনে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারী তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।’

আলী যাকের বলেন, ‘নাঈমার ছবিতে নিসর্গকে যেমন পাই, তেমনি পাই মানুষের সুখ-দুঃখের প্রতিচ্ছবি। তরুন সমাজ এমন সৃজনশিল্পের কাজে যদি এগিয়ে আসেন তাহলে সমাজের অনেক অপরাধ কমে আসবে।’ এসময় তিনি প্রান্তিক এলাকায় ছড়িয়ে থাকা নারীর কাজকে মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

নিজের আলোকচিত্র নিয়ে বলতে গিয়ে নাঈমা পারভীন বলেন, ‘চিরায়ত সবুজের দেশ বাংলাদেশ। রয়েছে নানা রঙের মানুষ। রয়েছে জীবনের হরেক রকমের বৈচিত্র। তার ভেতরেও কোথাও একটা সূত্রে আমরা বাঁধা। আমাদের আবেগ আমাদের ভালবাসা কোথাও যেন ধরা দেয় একটিমাত্র রঙে। আর তা আমার ছবির মাধ্যমে ধারণ করে আমি আনন্দিত হই।’

নাঈমার ছবিতে পাহাড় আর সমতলের জনজীবন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ক্যামেরার জাদুতে তিনি ধরেছেন মুখোমুখি দেয়ালে বাঁধনহারা দুই আদিবাসী কিশোরীর জলকেলির সৌন্দর্যগাথা। নাম নির্বাচনেও এই আলোকচিত্রী পরিচয় দিয়েছেন শৈল্পিক বোধের। এ ছবিটির নাম বাঁধনহারা। আরেকটি ছবিতে দু’হাত মেলে এক কিশোরী ছুঁতে চাইছে আকাশ না কি মেঘ তা বোঝা না গেলেও আকাশ ছোঁয়ার এই অনুভূতি দর্শকের চোখে প্রশান্তি এনে দেয়। ছবিটির নামও তিনি দিয়েছেন ‘আকাশ ছোঁয়ার জন্য’।

ভাঙা টিভির ভেতর কিশোরের অকপট হাসিমাখা ছবিটির নাম ‘হ্যালো গুড ডে।’ প্রদর্শনীর অনেক ছবিতেই তিনি দুরন্ত কিশোরীর আনন্দ-বেদনার মুহূর্ত তুলে ধরেছেন। তবে তিনি চান বাংলাদেশের কিশোরীর এই দুরন্ত-সদাহাস্য মুখ যেন অটুট থাকে। তাই দর্শকদের হৃদয়েও তিনি গেঁথে দিতে চান দুরন্তপনা!

এছাড়া খরা, ঘোড়দৌড়, কচ্ছপের জলকেলি, বিশ্রাম, নৌকাডুবি, শিখ-ী, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, লবণশ্রমিক, মা ও শিশু, খেলি মোরা সকলে’সহ প্রায় সব আলোকচিত্রেই সমসাময়িক বাংলাদেশ ও এর ভেতর বিকশিত বাংলার অপরূপ অভিব্যক্তি।
মোট ৫০টি চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো প্রদর্শনীটি শেষ হবে ২৯ আগস্ট।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »