রঙ্গমেলায় ‘তবুও মানুষ’

TABUO MANUSH 1

।চিত্রম প্রতিবেদন। শেষ হলো নান্দীমুখের নাট্যোৎসব রঙ্গমেলা। নাট্য সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে দুইদিন ব্যাপী এই উৎসব আয়োজিত হয়। বছরব্যাপী উৎসবের এটি ছিল তৃতীয় আয়োজন।

২৯ আগস্ট শনিবার শেষদিনের আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়ন হয় ‘তবুও মানুষ’ নাটকটি। এটি রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন অভিজিৎ সেনগুপ্ত। নাট্যপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

‘তবুও মানুষ’ নাটকের কাহিনিটা গড়ে ওঠে পৃথিবীর সভ্যতা ও মানুষকে নিয়ে। মানুষের ইতিহাস নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস। কখনো প্রকৃতির সাথে, কখনো নিজের সাথে, কখনো একদল শোষকের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করতেই করতেই মানুষের যাত্রা, সেই অতীত থেকে আগামী ভবিষ্যতের দিকে। এরই মাঝে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিস্বার্থে মানুষ মানুষকে ভাগ করেছে জাত, ধর্মের খড়গে। কিন্তু এই বিশাল বস্তুজগতে মানুষ অতি ক্ষুদ্রতম অংশ। ব্যক্তি মানুষ মানবেরই অংশ। মানুষ শুধু নিজের জন্য লড়াই করে না, লড়াই করে সমষ্টির জন্য।

লড়াই করতে গিয়ে শিখেছে জাত, ধর্ম, বর্ণ বলে কিছু নেই। আছে শুধু শোষক আর শোষিত। যখন থেকে সমাজে ব্যক্তি সম্পত্তির উদ্ভব হল তখন থেকেই মানুষ দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। সেই ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও সম্পত্তিজাত মানসিকতা বিলুপ্ত করেই আসবে সকল প্রকার শোষণ থেকে মানুষের মুক্তি।

মানুষের এই নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাসে শোষণের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছে তারাই জন্ম দিয়েছে নতুন নতুন নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের। এ নাটকে বিজয়দেব তেমনই একটি চরিত্র। অপর দিকে ব্যক্তিস্বার্থে বিচ্যুত চন্দ্রকেতু। শোষিতদের লড়াইয়ে সামিল হতে চন্দ্রকেতুর বিবেকের দরজায় বার বার করাগাত করতে থাকে বিজয়দেব। যারা শোষিতের পক্ষে অবস্থান নিতে জানে না তারা কখনো মানুষের লড়াইয়ে সাথি হতে পারে না। মানুষের মুক্তির প্রশ্নে মরণপণ লড়াইয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিজয়দেবের মত পথপ্রদর্শকরা পথ দেখান ব্যক্তিস্বার্থে বিচ্যুত চন্দ্রকেতুদের। ভুল, শুদ্ধ আর ঠিক বেঠিকের দ্বন্দ্বে মানুষ আবার পথ খুঁজে পায় এবং শেষ পর্যন্ত ন্যায়ের সংগ্রামে মানুষেরই জয় হয়। নাটকটিতে বিজয়দেবদের আত্মদানের ভিত্তিতেই চন্দ্রকেতুরা পরিবর্তন করেছে নিজেকে এবং সমাজকে। এমনই এক চিরচেনা গল্পের নাটক ‘তবুও মানুষ’।

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন অভিজিৎ সেনগুপ্ত, হাবীবুর রহমান, বিকিরণ বড়–য়া, জেসমিন আকতার, সাগর চৌধুরী, সজীবুর রহমান, জাহানারা বেগম, সুজিত দাশ, শাহীনুর সরোয়ার। নাটকটির পোশাক ও সেট পরিকল্পনায় ছিলেন অসীম দাশ, আলোক পরিকল্পনায় মোসলেম উদ্দীন সিকদার, আবহ ও সঙ্গীত পরিকল্পনায় পরিমল মজুমদার, কোরিওগ্রাফিতে অসীম দাশ ও অভিজিৎ সেনগুপ্ত এবং মুখোশ তৈরিতে ছিলেন কামরুল ইসলাম।

উৎসবের প্রথম দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার জাতীয় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় ‘ঊর্ণাজাল’ নাটকটির।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »