মনসুর-উল-করিম

একজন স্বভাবজাত শিল্পীর পথ পরিক্রমা

Print

।সুফিয়া বেগম। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে যে প্রাতিষ্ঠানিক চারুকলা চর্চার উন্মেষ ও ক্রমবর্ধমান ধারার দশকওয়ারী জের ধরে সত্তর দশকে কিছু উজ্জ্বলতম নক্ষত্র চারুকলার জ্যোর্তিমন্ডলে আপন সৃজন প্রতিভার দ্যুতি ছড়াচ্ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম শিল্পী মনসুর উল করিম। তিনি একজন স্বভাবজাত শিল্পী।

ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার (বাংলাদেশের) প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রীক শিল্পচর্চা যখান বিমূর্ততার ঘেরাটোপে আবদ্ধ ছিল তখন দেশের অন্যক্ষেত্র চট্টগ্রামে পঞ্চাশের দশকের আরেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পচর্চার কান্ডারী শিল্পী রশিদ চৌধুরীর আদর্শ অনুসরণ করে যে ক’জন তরুণ শিল্পী গতানুগতিকতার বাইরে জীবনধর্মী ও মানবতাবাদী শিল্পচর্চার করে চলেছেন তাঁদের মধ্যে মনসুর উল করিম নিরীক্ষা প্রবণতার মাধ্যমে নিয়মিত শিল্পচর্চা করে বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার জগতকে এক স্বকীয় অনুষঙ্গে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেন।

শিল্পী মনসুর উল করিম এর জন্ম ১৯৫০ সালে রাজবাড়ির সজ্জনকান্দা গ্রামে। যার পরিবৃদ্ধি দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ, বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত, সুবজ, সোনালী আভা ও বর্ণ সম্ভারের মাঝে। বর্ষায় অঝোরে বৃষ্টি, দিগন্তে পদ্মা নদী, কখনো শান্ত-সমাহিত, কখনো ভয়ংকর। শরতে উদার মাতোয়ারা, শীতে জুবুথুবু, সেই সঙ্গে আনন্দ উন্মাদনা, বসন্তে রঙিন চঞ্চলতা।

শিল্পী শৈশবে, কৈশোরে গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে পড়াশোনাকালীন সময়ে পাঠ শেষে মাঠে কিষান কিষানীর সাথে ফসলের ক্ষেতে ধান কাটা, মাড়াই কাজে লেগে থাকতেন। সমবয়সীদের সঙ্গে ডানকানা মাছ ধরা। অমানিশার রাতে মৌচাক ভাঙ্গতে গিয়ে মৌমাছির কামড়ে চোখ, মুখ ফুলে যাওয়া, এসবই তাঁর বাল্য স্মৃতি। এই স্মৃতি বিস্মৃতির দোলাচলে ছবি আঁকাও ছিল তাঁর নিত্যদিনকার কর্মকান্ডের অংশ।

শৈশবের রঙিন স্বপ্নময় জীবনের স্মৃতি মননে ধারণ করে তিনি পাড়ি জমান ১৯৬৭ সালে ঢাকায় চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে (বর্তমানে চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের জন্য। ১৯৭২ সালে বি.এফ. এ ডিগ্রী ও ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে এম.এ. ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। চাকুরীসূত্রে স্থায়ী বাসিন্দা হলেন চট্টগ্রামে। সহধর্মিনী হিসেবে গ্রহণ করেন শামীমা আকতারকে। একপর্যায়ে তাঁর সহধর্মিনী সাধারণ সহজ সরল এই নারী চিত্রশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রায় ত্রিশটি শিল্পকর্মের একটি একক চিত্র প্রদর্শনী করেছিলেন। দীর্ঘদিন শিল্পী মনসুরের সান্নিধ্য তাঁকে শিল্পী হবার লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করেছিল? নাকি শিল্পী মনসুর উল করিমের সুচারু শিল্পসৃষ্টিতে নিগূঢ় অভিনিবেশ তার স্ত্রীর মনে এক আত্মভিমানের জন্ম দিয়েছিল?

শিল্পী মনসুর সুসংগঠিত, পরিশীলিত, শিল্পীর শিক্ষানবিশীকাল থেকেই। তাঁর সৃষ্টির ধারাবাহিকতার কালানুক্রমিক বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি ১৯৭২ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত মোট তেরটি একক চিত্র প্রদর্শনী ও অগনিত যৌথ চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণ করেছেন এবং নানান পুরষ্কার অর্জন করেছেন। ২০০৯ সালে একুশে পদক (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান) এবং ১৯৯৪ সালে ভারতীয় ললিতকলা একাডেমী আয়োজিত অষ্টম ভারতীয় ত্রিবার্ষিক আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ষষ্ঠ এশীয় দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত একাদশ জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে একাডেমী পুরস্কারসহ (সকল মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার) বেশ কয়েকটি সম্মান সূচক পুরষ্কার লাভ করেছেন।

মনসুর-উল-করিম দীর্ঘ চার দশক ধরে বিরোমহীন ভাবে শিল্পচর্চা করে চলেছেন। সম্বৃদ্ধ করেছেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিল্প ভান্ডার। আঙ্গিক পশ্চিমা, বিষয়ে বাঙ্গালিপনা। কখনো সেজান, পিকাসো, কখনো মাতিস, সালভাদর দালি হতে চেয়েছেন। শৈলী ও অনুসন্ধানের নিমিত্তে আধুনিক পাশ্চাত্য চিত্রকলার প্রতিটি অধ্যায়ের অনুকৃতি দান করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে প্রথম দিকে তাঁর শিল্পকর্ম গুলিতে ছিল কিউবিজমের প্রভাব। তাঁর আঁকা একটি শিল্পকর্ম ঢেঁকিতে ধান ভানার দৃশ্যে আমরা দেখি গ্রামীণ বিষয়বস্ত-পিকাসোর আঙ্গিক মাতিসের রং, অত্যন্ত সযত্ন উপস্থাপনা। পিকাসোর “দ্যামোয়সেল দ্য অ্যাভিগঁন” শিল্পকর্মটি তাঁকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল, তাঁরই ধারাবাহিকতায় মনসুর এর শিল্পকর্ম “লাল সুর্যের নীচে আমার গ্রাম”।

পরবর্তীতে পরাবাস্তব অভিমুখে একাগ্র যাত্রা সেজান পিকাসোর মত ত্রিমাত্রিক অবয়বকে দ্বিমাত্রিকতায় জ্যামিতিক ভাঙচুরের মাধ্যমে রূপারোপের সমান্তরালে তাঁর উপলব্ধির অর্ন্তলীন চেতনায় রেখা বিশেষ স্থান জুড়ে ছিল। এই উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশে রেখাচিত্রের মাধ্যমে অসংখ্য পূর্ণাঙ্গ চিত্র রচনা করলেন। মনসুর উল করিমের সার্থকতার বড়ো ভিত্তি ভূমি হচ্ছে রেখা সৌষ্ঠব। রং এর দ্যেতনা ও রেখার পক্ষপাত শিল্পকর্মের আলাদা অনুষঙ্গে ও বৈভবে স্থান করে নিয়েছে। চিত্রকলায় রং ও রেখার সমন্বয় সাধন করে পারঙ্গমতা তথা দীর্ঘ সাধনা খুব কম শিল্পীর ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়।

১৯৭৪ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত প্রায় এক দশক শিল্পী পূর্বোক্ত আঙ্গিকের ধারাবাহিকতায় বিশ্লোষিত করে পাহাড় বনানী ঘেরা সবুজ চট্টলার প্রকৃতিকে সবুজ বর্ণের প্রাধান্য বজায় রেখে শিল্প রচনা করলেন। সবুজ তাঁর প্রিয় রং, এ সময় নিজের আত্মজ এর নামও সবুজ রেখেছেন।

জীবন ও প্রকৃতি, পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে একটি যোগসূত্রের উপলব্ধি নীল আকাশ, সবুজ বনভূমি, নীল সবুজের সাথে আলোর নাচনে আঁকলেন নিসর্গ। যেখানে রয়েছে জলে পাতা ঝরার পর জলতরঙ্গের শব্দ, শিল্পকর্মের আঙ্গিক প্রকরণে মৌলিকত্বের অনুসন্ধানী মননের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য্য ও সেই সাথে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক তাঁর স্মৃতির জানালায় আনাগোনা করতো। বিষয়বস্ত যেমন স্বভাবজাত, ছবির কাঠামো ও গাঁথুনী তেমনি পরিপক্কতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলে। আবেগে অবগাহন করেছেন সত্যি কিন্তু বৈয়াকরনিক মাপকাঠিতে প্রকৃতি এবং মানব মানবীর নানা বিষয়কে রং ও ফর্মের মায়ময়তায় এক অপরূপ রূপের রূপায়ন করেছেন। একটি কাব্যিক মূর্চ্ছনায় মানুষ ও প্রকৃতি জীবনের আবহে আবদ্ধ।

মানবতাবাদী শিল্পী মনসুরের চিন্তার বিস্তারে জায়গা করে নেয় জীবন, পারিপার্শ্বিকতা ও ব্যক্তিগত মুহুর্ত, প্রাসঙ্গিক অনুভূতি তাঁকে আলোড়িত ও নস্ট্যালজিক ভাবালুতায় পূর্ণতা দেয়, যার প্রতিফলন হিসেবে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত অসংখ্য শিল্পকর্মের বিষয়বস্তুতে এসেছে প্রিয়তমা স্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধে নারীর সম্ভ্রমহানীর করুণ আর্তনাদ, বিপন্ন মানবতা, দুঃশাসন, চেয়ার ও রাজনীতি। এর সাথে স্যুররিয়ালিষ্টিক ভাব ও ক্ষেত্রবিশেষে আঙ্গিকের সংযোজনে ফিগারগুলি হয়ে উঠে যতীনসদৃশ্য। ভারতীয় শিল্পী যতীন দাস ও স্যুররিয়ালিজম এর সমন্বিত আভাষ লক্ষ্য করা যায় এই পর্বের মনসুর উল করিমের শিল্পকর্মে।

“মুনসাইন” – “পূর্নিমা ও পূর্ণতা” জ্যামিতিকভাবে বিভক্ত ক্যানভাসে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ, রোমান্টিক আবহ, একপাশে তাঁর প্রেমময়ী স্ত্রী, অপর পার্শ্বে চৌকাঠে চাঁদের আলো রহস্যের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। ছবিতে এক নস্ট্যালজিক আবেগ সৃষ্টি হয়। শিল্পীর আবেগ একান্ত, শাশ্বত, চিরন্তন। হারিয়ে গেছেন তাঁর স্ত্রী স্মৃতির অতলে। চৌকাঠে পড়ে আছে স্মৃতির চাঁদর, একান্ত সুখকর প্রেমময় স্মৃতি যা যুগপথভাবে বেদনার স্বাক্ষর বহন করছে শিল্পকর্মে।

প্রসংগত “waiting for a moment’ ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘কৃষক ও পোড়ামাটি’, ‘কৃষক ও সমাজ’ ‘চেয়ার ও রাজনীতি’, ‘ফেরা’ এইসব তৈলচিত্রে দৈহিক অবয়ব বেশীর ভাগ জায়গা দখল কিের নেয় মানব জীবনের নানা পর্যায়। এ সময় মানব অবয়ব রূপায়নে ফিগারের ভাঙচুরে কালো রেখার চাইতে মোটা অপেক্ষাকৃত চওড়া সাদা রেখা দিয়ে কন্টুর তৈরী তাঁর ছবিতে ভিন্ন মাত্রা তৈরী করে।

ভাবের গভীরতা প্রকৃতির সীমানা ছাড়িয়ে অর্ন্তজগতের গভীলতায় স্থান করে নেয় ক্যানভাসে। এতে চিত্রপটে অমসৃণ তল সৃষ্টি চেষ্টায় ব্যাপৃত হলেন। এই অমসৃণ চিত্রপটে মানব অবয়বের আবক্ষ অবস্থার সাথে ছবির আনুষঙ্গিক উপাদান হিসেবে স্থাপত্য অবকাঠামোর (দরজা, জানালা, ছিটকিনি) সংযোজন লক্ষনীয়। বর্ণারোপ হালকা, ছবির পুরুজমিনে কাঠের টেক্সচার বা বুনট সম্বৃদ্ধ তল সৃষ্টিতে সূক্ষাতিসূক্ষ অসংখ্য রেখা, ফুটি ফাটকা ইত্যাদির আধিক্য, তেমনি বর্ণপ্রয়োগ ও কৃৎকৌশলের নতুনত্ব খুঁজে পাওয়া যায়।

তাঁর শিল্পকর্মের পুরো পদ্ধতি চারুকলার অন্যতম মাধ্যম, ছাপচিত্রের নানা মাধ্যম নির্ভর, কখনো এচিং কখনো এ্যাকুয়াটিন্ট সাদৃশ্য প্রভাব, চিত্রপট নির্মাণ ও বিন্যাসের এই প্রবণতার পেছনে শিল্পীর আর এক অনুসন্ধিৎসু মনন কাজ করে। শিক্ষা নবীশিকাল থেকে ছাপচিত্রের প্রতি অতিআগ্রহ, চারুকলা বিভাগে শিক্ষকতা জীবনের প্রারম্ভে ছাপচিত্র বিষয়ে পাঠদানের অভিজ্ঞতা সর্বোপরি বাংলাদেশের পঞ্চাশের দশকের আধুনিক বিমূর্তধারার অন্যতম রূপকার, ছাপচিত্র শিল্পের পুরোধা শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়ার বুনট সম্বৃদ্ধ তলের উপস্থাপনা চিত্রকলার জগতে ভিন্নমাত্রা তৈরীতে সচেষ্ট শিল্পী মনসুর উল করিমের ক্রম অগ্রসরমান শিল্পী স্বত্ত্বা কৃৎকৌশলের আধার খুঁজে নেন। তাঁর শিল্পকর্মের উৎকর্ষ ও অনন্যতার প্রতি গভীর অভিনিবেশের ফল ছিল এটি।

এভাবে রচিত হয় অনন্য শিল্পকর্ম ‘কবি ও কবিতা’, ‘ভাবনা’, ‘অবগাহন’, ‘প্রজন্ম’। অত্যন্ত পরিশ্রমী এই শিল্পীর ছাপচিত্রের খোদাই প্রক্রিয়া প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠলো। পুরোপুরিভাবে কাজে লাগালেন এই টেকনিককে। যদি বলা হয় বাংলাদেশের সত্তর এর দশকের শিল্পীদের মধ্যে সবচাইতে ভিন্ন আঙ্গিকে জীবন ঘনিষ্ঠ আবহে পরিপূর্ণ শিল্পের ভান্ডার গড়ে তুলেছেন শিল্পী মনসুর-উল-করিম তাহলে অযৌক্তিক কিছু হবেনা। অহেতুক বর্ণের প্রলেপন বা তথাকথিত পট তৈরীর প্রবণতার আড়ালে হঠাৎ ঘটে যাওয়া শৈল্পিক আভাসের ক্ষণস্থায়ী উপস্থাপনাকে ধারণ করে এগোন নি তিনি। শিল্পকর্মূ সৃষ্টি সম্যক জ্ঞান ও নান্দনিক বোধকে সর্বদা সমান্তরালভাবে ব্যবহার করেছেন।

শুধু আত্মকেন্দ্রিক শিল্পী স্বত্ত্বা মনসুরের মননে বিরাজমান নয়, সর্বদা তিনি তাঁর ছাত্র-ছাত্রী, প্রতিষ্ঠান, তাদের উৎকর্ষতা ও সৃজন মেধার বিস্তৃতি যাতে বিকশিত হয় সেদিকে অত্যন্ত যতœবান ছিলেন। ‘নব্বই সালের দিকে এম.এ ক্লাসে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীরা একদিন যথারীতি অনুশীলন না করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। শিল্পীর জিজ্ঞাসার উত্তরে তারা জানালো যে রঙ এর দুস্প্রাপ্যতার কারণে ছবি আঁকা সম্ভব হচ্ছেনা। বিষয়টি সৃষ্টিশীল এই শিল্পীকে এত বেশী নাড়া দিল যে তৎক্ষনাত একমাসের মধ্যে পেন্সিল মাধ্যমে এঁকে ফেললেন একুশটি ছবি, প্রমাণ করলেন মাধ্যম কোন প্রতিবন্ধকতা নয়।

পূর্ণশীট কার্টিজ কাগজে কাঠ পেন্সিলে পূর্ণাঙ্গ পেইন্টিং আঙ্গিকে করা চিত্রকর্ম গুলিতে উঠে এসেছে গ্রাম বাংলার জীবন, নারীর সামাজিক নিপীড়ন, মানসিক দহন ও রোমান্টিক অস্তিত্ব। সবকিছু সাদাকালো ফর্ম ও রেখার বিন্যাসে শিল্পী যতীনের অনুরূপ মেজাজের উপস্থিতি লক্ষ্য করি। বিষয়বস্তু উপস্থাপনায় পুরোপুরি মূর্ত বাস্তবতার মধ্যে ভাবের গভীরতা, ত্রিমাত্রিক ও দ্বিমাত্রিকতার সম্মিলন ঘটালেন তিনি।

এই পর্বে সাদাকালোর মাধ্যমে চিত্রতলকে বিভক্তকরণ ও রেখার ব্যবহার তাঁর চিন্তার জগতে নতুন আগল খুলে দেয়। একই বিষয়কে তেল রং এ রূপায়ন করেন। পেন্সিলের সাদাকালো মাধ্যমে যেমন সাদাকালোর দ্বন্দ্বের সহাবস্থান অন্যদিকে রঙিন এইসব চিত্রের এক অপরূপ রূপের উন্মোচন লক্ষ্য করা যায়। যার গূঢ় অনূভূমি নান্দনিক, সাঙ্গীতিক। ধারাবাহিক পথ পরিক্রমায় এইসব নির্মিতি যেন এক মৌলিক অবস্থান পেয়ে যায়।

একক রং নীল ও সবুজের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে সিঁদূরে লাল, খয়েরী, কমলা, উজ্জ্বল নীল সবুজের বর্ণচ্ছটা ও তৎসঙ্গে খোদাইকৃত জমিনে অবদমিত আবেগময় মনের এলোপাথাড়ি আঁচড়, কখনো আক্সমময় রেখা, মাঝে মাঝে সাদা জমিন। উজ্জ্বল বর্ণের আভা আরো দৃষ্টিনন্দন হয় যখন এসব বর্ণ বিভার মাঝে খন্ড খন্ড সাদা মেঘের মত খালি জমি রেখে এক অদ্ভুত মায়াময় কাব্যিকতা সৃষ্টি করে। রং ও রেখার যে দ্যুতিময় আলোর নাচন সেখানে চঞ্চলতার সৃষ্টি করলো তা ক্রমশ পরবর্তী ছবিগুলিতে প্রাধান্য বিস্তার করে।

একদিকে যেমন বর্ণের জাদুকর তেমনি অন্যদিকে রেখার কারিগর। শিল্পী মনসুর উল করিমের এগিয়ে যাওয়ার শৈল্পিক প্রচেষ্টা কোনটাই বিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া নয়। আধুনিক শিল্পের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে অনুঃপুংখভাবে প্রকৃত রং, রেখা ও ফর্ম নিয়ে নিরীক্ষা বৈচিত্র বজায় রেখেছে। তাঁর কাজের কেন্দ্রীয় থিম নষ্টালজিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবহার করেছেন তিনি অতীতের নির্দিষ্টতা, অভিজ্ঞতা, অস্পষ্ট অতীত এবং বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের মধ্যকার সীমারেখা বিভ্রান্ত করার জন্য। সরলীকরণের মাধ্যমে স্বকীয়তাকে প্রকট করে তুললেন ‘উৎস’ সিরিজের মাধ্যমে। এখানে একদিকে নারীকে যেমন অনুপ্রেরণা বা সৃষ্টির উৎস (উৎস-৩, উৎস-৮) হিসেবে চিরন্তন আসনে সমাসীন করেছেন অন্যদিকে গ্রামীন পরিসরে ফসলী মাঠে কৃষকের ভূমিকর্ষন (উৎস-৭) নিজ অস্তিত্বের উৎসরূপে উপস্থাপিত হয়েছে।

রঙের উজ্জ্বলতা অপসৃয়মান হয়ে ক্রমশ সাদা চিত্র পরিসরে জায়গা করে নেয়। রং ও রেখা ছবির পশ্চাৎ ভাবনাকে জাগায়। দৃশ্যমান পৃথিবীর অন্তরালে অদৃশ্যালোককে অনুভব করা, মাত্রা সর্বস্ব বাস্তবতার উর্ধ্বে একনিকষিত বাস্তবতার সন্ধানে নিবিষ্ট শিল্পী মনের ভাবনার প্রকাশ এই শিল্পকর্মগুলি। একই আঙ্গিকে ‘মাঠের গল্প’ সিরিজ আঁকেন। ফসলী জমি ধুধু মাঠ। ফোর গ্রাউন্ডের সুপার ইম্পোজেরা মত মাথাল মাথায় কৃষকের অবয়ব। সাদা কালোর আধিক্য প্রধান তার মধ্যে মাধ্যম পরিবর্তন এ্যাক্রেলিক রং এর ব্যবহার। কোথাও জল রং এর স্বচ্ছ আভাস, কোথাও তেল রং এর মত অস্বচ্ছতা ছবিতে কালো ও রঙ্গিন রেখার ব্যবহার সূক্ষাতিসূক্ষ নিয়ন্ত্রিত আবেগকে দৃশ্যমান করে অন্যপক্ষে প্রচন্ড আবেগে সেই রেখাগুলিকে চওড়া তুলির টানে হৃদয় কম্পমান অনুভূতির প্রকাশ জাগায়।

আধুনিক পাশ্চাত্য মানবতাবাদী শিল্পী মার্ক রথকো কে স্মরণ করিয়ে দেয় এই মোটা রেখাগুলি। অভিব্যক্তিবাদের গভীর প্রনোদনা প্রতিভাষ হয় তাঁর ছবিতে। প্রতিনিয়ত অজস্র চিত্র নির্মাণ করে চলেছেন যে অবিমিশ্র শিল্পীত অনুভূতি থেকে ২০০৪ সালে এসে সেই সমস্ত অভিজ্ঞতার সমাহার ঘটালেন “ফিরে দেখা” শীর্ষক সিরিজ চিত্র প্রদর্শনীতে। যেখানে ক্যানভাস জুড়ে বিশাল আকৃতির মানব মানবীর চারিত্রিক উপস্থাপনা। Destination, Unbidden- এ দুটো চিত্রে দেখা যায়, নারী পুরুষের বিচিত্র আদলে যারা জাগতিক কোলাহলকে ছাপিয়ে আত্মার পারস্পরিক কথোপকথনে মগ্ন। একী আত্মপ্রেম? নাকি আত্মদর্শন?

পার্থিব জগতে আমরা সবাই কোন না কোন গন্তব্যের দিকে ধাবমান, কেউবা গন্তব্যহীন বোহেমিয়ান জীবন যাপনে অভ্যস্ত। In Todays Context, I Aimless এ দুটো ছবি এই গূঢ়ার্থ বহন করে। তাঁর পারিপার্শ্বিকতার লোকজনে জীবনাচারে তাঁর দর্শনে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। অবয়বগুলি কোন পরিচিত ব্যক্তির সাদৃশ্য নয়, অদৃশ্য টেনশন ও উদ্বেগের দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়া মাত্র। তাঁর ছবিতে নারীর রহস্যময়ী। যে রহস্য তার শারীরিক অবস্থানকে আরও প্রতীতি দান করে। কখনো নারী ও প্রকৃতির সহাবস্থান অনুমেয়  The Six Season শিরোণামের  শিল্পকর্মে। পূর্ববর্তী আঙ্গিকের উপাদান সমূহের বিক্ষুব্ধ ব্যবহার শিল্পীর বেগবান আবেগময় সত্ত্বার বহিঃপ্রকাশ, করণকৌশলের সম্বৃদ্ধি ও মুন্সিয়ানা প্রশ্নাতীত।

পুরোপুরি বাঙালি পদ্মা পাড়ের এই সন্তান খুঁজে পেয়েছেন পদ্মা নদীর উত্তাল  স্রোত ও ভাঙাগড়ার মাঝে। তাঁর বাল্য কৈশোরের বহমান খরস্রোতা পদ্মা যেমন পাড় ভাঙ্গা-গড়ায় নিয়ত উত্তাল পদ্মার ঢেউয়ের মাঝে হারিয়ে যেত পালতোলা নৌকা। সোনালী রোদে ঝকমক করতো রূপালী ইলিশ তারই মাঝে জেলেদের বিরামহীন জাল ফেলে মাছ ধরা, বেদেকুলের পদ্মা নদীর তীরে ভাসমান জীবনের পালাবদল। পদ্মার উন্মত্ততার সাথে পদ্মাপাড়বাসীর জীবন সংগ্রাম এসবই স্মৃতি এখন। সেই স্মৃতির পাতা হাতড়ে খুঁজে সচিত্রিত করলেন ক্যানভাসে। এ্যাক্রেলিক মাধ্যমে আঁকা এই ‘পদ্মা পুরাণ’ সিরিজের শিল্পকর্ম গুলিতে উপরোক্ত বিষয়াবলী বিধৃত হয়েছে। কখনো শান্ত পদ্মার মাঝে ঢেউয়ের ফাঁকে ফাঁকে রঙিন পালতোলা নৌকা, কখনো মালবোঝাই ট্রলার, যাত্রীবোঝাই লঞ্চের ধোঁয়া উড়িয়ে দ্রুতগতিতে ধাবমান দৃশ্য। কখনো রং এর উজ্জ্বলতা, কখনো বর্ণের বিবর্ণতা।

পদ্মা যখন সুখের কারণ হয় তখন দেখি উজ্জ্বল রক্তিম লাল কমলা রং এর সংমিশ্রনে পদ্মাপাড়ে সুখী দম্পতি (পদ্মা পুরাণ-২৬)। সুখের রোমান্টিকতা অনুভবে বিলীন আত্মা। যেখানে নদীতে ভাসমান এক ফালি রহস্যময় চাঁদ অবস্থান করছে। সেই নদীর উত্তাল  স্রোতের ছোবলে হারিয়ে গেছে সেই সাজানো জীবন (পদ্মা পূরাণ-৩০)। বিলীন হয়ে যাওয়া জীবনের স্মৃতি অনুভব করতঃ পদ্মা পাড়ের সবুজ চত্বরে দেখা যায় আবক্ষ রমনীর চিহ্ন (পদ্মা পূরাণ-২০)। পদ্মা সবকিছু কেড়ে নিলেও জীবনের শেকড় গেঁথে রয়েছে এখানে, বৃক্ষ সদৃশ্য ভূমি উন্থিত এই নারী অবয়বে এর পশ্চাৎপদে শান্ত নীল গভীর বহমান পদ্মা। পদ্মা কখনো তার ছবিতে উজ্জ্বল হলুদ সূর্যাস্ত পরিচ্ছন্ন নীল আকাশের মধ্যে উপস্থাপিত হয়েছে কখনো মেঘলা আকাশের জন্য বিবর্ণ রহস্যময় জলরাশি। এই রহস্যের পৃথিবী ভেদ করে যেসব জেলে জেলেনী মাছ ধরে যাপিত জীবন যাপনে ব্যাপৃত তাদের উপস্থিতি, উদ্বেগ, শঙ্কা সেই সাথে মাছ ধরার জাল, নৌকা, ছবির আনুসঙ্গিক উপাদান হিসেবে ধরা দেয় শিল্পীর শিল্পকর্মগুলিতে। আগাগোড়া পদ্মা নদীতে বিলীয়মান জেলেদের অস্তিত্ব জলের গভীরে যুদ্ধ বন্ধের মধ্যে জীবনের সত্যকে উপলব্ধি করেছে এই জেলে সম্প্রদায়। নদী ও জালের মাঝে তাদের স্বকীয়তা খুঁজে ফেরে তারা (পদ্মা পূরাণ-৭)।

শিল্পী মনসুর পরিণত। ভাবনা ও অনুভবের এক চমৎকার পরিশীলিত প্রকাশ। এই শিল্প সম্ভার দেখে আমরা বলবো শিল্পী বিমূর্ততার দিকে পা বাড়াচ্ছেন। আঙ্গিকে বিমূর্ততার উপস্থিতি পাশাপাশি প্রকাশ বিশ্লেষণধর্মী। এই দুইয়ের চমৎকার যুগপৎ সম্মিলন ঘটালেন তিনি। যদিও বিমূর্ততার প্রকাশ ঘটান তদুপরি ছবিতে ফর্ম, রেখা, রং, পরিপ্রেক্ষিত যাই করেছেন তা সম্পূর্ণ তাঁর মনের গভীর থেকে উৎসারিত এবং নিজস্ব। এই সিরিজের শিল্পকর্ম সমূহে একটি কেন্দ্রীয় ভাবনা কাজ করছে।

ছবিতে ব্রাশের আঁচড় এর মাধ্যম রেখার পরিপূর্ণ ও বিভিন্ন ব্যবহার তার ভাবনাকে বর্ণের মাধ্যমে রূপায়িত করেছেন সময়ের আবর্তে। পদ্মার মাঝে শেকড় অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্বদেশ মাত্রিকার লোকজ জীবনের বন্ধনে বাঁধা পড়লেন। তাঁর পরিচিত ভালোলাগার নীল, সবুজ, লাল এর সাথে কড়া হলুদ, কমলা রং এর বর্ণিল আবহে শুধুমাত্র লোকজ মোটিফ উপস্থাপনায় শিল্পকর্ম সৃষ্টি করলেন, যেখানে রয়েছে মাছ ধরার সরঞ্জাম, লোকজ বাদ্যযন্ত্র উজ্জ্বল বর্ণের ছটায় ও রেখায় উদ্ভাসিত। এসব কী শুধুই বিমূর্ততা অনুসন্ধানী মন? নাকি একঘেঁয়েমী থেকে মুক্তির প্রয়াস?

প্রশান্তি খুঁজছে শিল্পী মন। জীবনের নিগূঢ় সারাৎসার তুলে ধরেছেন সাম্প্রতিক “হিউম্যান হাউওয়ে” সিরিজে ছিন্নমূল পথাশ্রয়ী মানুষদের রাত্রি যাপন প্রায় বিমূর্ত আঙ্গিকে উপস্থাপন। চিত্রপট আগাগোড়া অমসৃণ আবহে মানব দেহ-ফর্ম সদৃশ্য, জীবন কী শহুরে পিচঢালা পথ ও ইট, বালি, কংক্রীটের সম্মিলনী গল্পে বিলীন হয়ে গেছে? পুরো বিমূর্ত ইমেজের উপস্থাপনার মাঝে হারিয়ে গেছে দৈহিক অবয়ব। সারফেসের সাথে অর্ন্তলীন উপাদানের মত বিমূর্ততার মাঝে দ্রবীভূত সারবস্তু। মানব মানবতা জীবনের ঘনিষ্টতা শিল্পী মনসুর উল করিমের অনুভূতীর সীমানা ছাড়িয়ে যায়নি কখনো। পথচারী মানবের অবস্থা কখনো তাঁর নিজের অবস্থান অনুভূতিকে নাড়া দেয় শিল্পীকে।

দীর্ঘ শিল্পী জীবনের ৪০ বছর অতিক্রান্ত করে কর্মজীবনের শেষের পর্যায়ে তাঁর একান্ত অনুভূতির বহিঃ প্রকাশ (My Destination My Soil)  মাটি ও শিকড়ের টানে জন্মভূমির (রাজবাড়ী) প্রতি তীব্র আকর্ষণ। নিজের অস্তিত্ব নিজের বিলীয়মান সত্ত্বা, নদীর জলের গভীরতায় প্রিয়জনের সান্নিধ্য এসব বোধিস্বত্বাগত অনুভূতি তাঁর চিত্রকল্পে এক নতুন প্রতীতি নিয়ে মূর্ত হয়। স্বভাবজাত এই শিল্পীর প্রতিটি শিল্প অধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সাথে ওতেপ্রতোভাবে জড়িত।

নিজের ব্যক্তি জীবনকে, স্বার্থকে শিল্পস্বার্থের উর্ধ্বে কখনো স্থান দেননি। তাই শিল্পীজীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় দ্রাঘিমার শেষ বৃন্দুতে এসে দীর্ঘদিনের আবাসস্থল চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে রাজবাড়িতে স্থায়ী হবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সন্দিক্ষণে প্রস্থান বিন্দু (Destination Deperture)  অত্যন্ত সমৃদ্ধ। শিল্প সম্ভারে ভরপুর নিজের কর্মজীবনের এক বিশাল বিস্তারকে গুটিয়ে উৎসভূমি অভিমুখে যাত্রা।

নিবেদিত প্রাণ স্বভাবজাত শিল্পী মনসুর উল করিম বরেণ্য শিল্পী রশিদ চৌধুরীকে আত্মায় ধারণ করেন। শিল্পী রশিদ চৌধুরীর স্বপ্নের মত মনসুরের শিল্পীমন অনুভব করেছিল একটি শিল্পী পল্লী গড়ে তোলার। বিরূপ পরিবেশের কারণে শিল্পী রশিদ চৌধুরীর পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তবে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ণে শিল্পী মনসুর উল করিমের স্বপ্নের সূতিকাগার গড়ে তুলেছেন নিজ জন্মস্থান রাজবাড়ীতে শিল্পাঙ্গন “বুনন আর্ট স্পেস”। যান্ত্রিকতার কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির কোলে নির্মিত এই আর্ট স্পেসটি শিল্পী, শিল্প রসিকদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে উঠুক। শিল্পী মনসুর উল করিমের সার্বিক সার্থকতার বলয়টি এখানেই পরিপূর্ণতা পাবে এই প্রত্যাশা।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »