৪০ বছরে পা রাখল ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী

rishij_chitram

।চিত্রম প্রতিবেদক। ১৯৭৬ সালে সংস্কৃতির পরিচর্যার প্রত্যয় নিয়ে পথচলা শুরু করে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী। হাঁটি হাঁটি করে ৩৯তম বছরে পর্দাপণ করেছে সংগঠনটি। এ উপলক্ষে ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন ও গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। স্ব স্ব ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিরূপ সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন গুণীজনকে ঋষিজ পদকে ভূষিত করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- শিক্ষা ও সাংবাদিকতায় অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, সংস্কৃতিতে সৈয়দ হাসান ইমাম ও সঙ্গীতে ফাহমিদা খাতুন।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা ভবন মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মুকসুদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রোকাইয়া হাসিনা নীলি’র কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে’ ও ‘দূরে কোথায় দূরে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর মঞ্চে আসে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী। ঋষিজের শিল্পীরা সমবেতভাবে ‘নোঙ্গর তোলো তোলো সময় যে হলো হলো’ গণসঙ্গীত। এরপর শুরু হয় গুণীজন সম্মাননা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাসানুল হক ইনু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, সৈয়দ হাসান ইমাম ও ফাহমিদা খাতুনের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল ইনু বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃৃতিকে যারা নির্বাসনে পাঠাতে চেয়েছিল এবং সে উদ্দেশ্যে গণহত্যা চালিয়েছিল, সেরকম দুজনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি কলঙ্কমুক্তির শেষ প্রান্তে। এ কাজটি করতে গিয়ে সরকার, প্রশাসন ও জনগণের আন্তরিকতা ছিল। অসমাপ্ত কাজটি সমাপ্ত করতে অতীতের মতো সকলের আন্তরিকতা থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।’

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘এমন একটি সময়ে ঋষিজ তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে যখন সমগ্র বাঙালি ভাল ও মন্দের কাছাকাছি অবস্থানে। ভাল এই অর্থে যে ইতোমধ্যে স্বচ্ছ বিচারকার্য সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে। আর মন্দ এই অর্থে যে স্বাধীনতাবিরোধী সেই দোসররা এখনও ওঁৎ পেতে আছে।’

পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করেন শিক্ষক ও সাংবাদিক সাখাওয়াত আলী খান। তিনি বলেন, ‘এপার-ওপার বাংলা মিলে আমরা বাঙালি সংস্কৃতিকে রক্ষা করে চলেছি। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা হিন্দির কাছে আত্মসমর্পণ করে বসেছে। তাই বাঙালি সংস্কৃতিকে অটুট রাখবার কাজটি এ বাংলায়ই সম্পাদন করতে হবে। এসব কাজে ঋষিজের মতো সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘আমার জীবনে কোনো আকাঙ্খা নেই। তাই পাওয়া নিয়ে কোনো রকম হতাশায় ভুগতে হয়নি। আমি সব সময় মানুষের কাছে থাকতে চেয়েছি।’

সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা যে সময়ে বেড়ে উঠেছি তখন শিশুরা মুক্তভাবে বিচরণ করতে পারতো আজ আর তেমনটি দেখি না। এতে একটি শিশুর মনন ঠিক মতো গড়ে ওঠে না। তবুও আশা রাখি একদিন আবারও অতীতের শিক্ষা নিয়ে শিশুরা বেড়ে উঠবে।’

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী, ক্রান্তি, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, স্বভূমি, আনন্দন ও ঋষিজ। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন আবদুল জব্বার, ফকির আলমগীর ও রথীন্দ্রনাথ রায়।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ফকির সিরাজ ও ঝর্ণা আলমগীর। অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় প্রয়াত স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি নয়ীম গহরকে।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »