৬৪ জেলায় একযোগে চলচ্চিত্র উৎসব

film_fest_chitram

।চিত্রম প্রতিবেদন। চলচ্চিত্রকে বলা হয় সমাজের আয়না। রূপালি পর্দার মধ্য দিয়ে একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ফুটে উঠে নানাভাবে। শক্তিশালী এ মাধ্যম দেশের চলচ্চিত্রকে ঘিরে এবার এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। একাডেমির উদ্যোগে এবং ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ১০ ডিসেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এবং সকল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একযোগে একই ধরনের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীর শুরু হতে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৫’ শীর্ষক এই আয়োজনে ১৫ দিনে সারাদেশে প্রদর্শিত হবে ২২টি দেশীয় চলচ্চিত্র।

১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী, মস্হিউদ্দিন শাকের এবং মোরশেদুল ইসলাম।

উদ্বোধনী দিন সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে তারেক মাসুদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’। মঙ্গলবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রকার মস্হিউদ্দিন শাকের, মোরশেদুল ইসলাম, চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ, এই আয়োজনের আহ্বায়ক ও শিল্পকলার সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী ও একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদ।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প সংস্কৃতি এই স্লোগান সামনে রেখে আমরা এগিয়ে চলেছি। চলচ্চিত্রের মতো একটি বিশাল শিল্প মাধ্যম জাতির শিল্পবোধ ও মনন গঠনে বিরাট ভূমিকা পালন করে। আমরা এই কার্যক্রমটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চাই। ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই চলচ্চিত্রের সুফল।’

মস্হিউদ্দিন শাকের বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র ঘরে ঘরে পৌঁছতে না পারার একটি অন্যতম কারণ আমরা কখনোই রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থাটি পাইনি। এই চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরের দর্শকরাও সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপভোগের সুযোগ পাবেন।’

মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি ব্যাপক আয়োজন। আমি আগামীতে এই আয়োজনের সঙ্গে স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং প্রামাণ্যচিত্রও সংযুক্ত করার পাশাপাশি জেলা শহরগুলোতে চলচ্চিত্র বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করারও প্রস্তাব করছি।’
এই উৎসবে ১১ ডিসেম্বর থাকবে অ্যাডাম দৌলার ‘বৈষম্য’ (সকাল ১০টা), আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’ (বিকেল ৪টা), জহির রায়হানের ‘কাচের দেয়াল’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১২ ডিসেম্বর মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলীর ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ (বিকেল ৪টা), প্রসূন রহমানের ‘সুতপার ঠিকানা’ (সন্ধ্যা ৬টা)।

১৩ ডিসেম্বর গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৪ ডিসেম্বর বাদল রহমানের ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৫ ডিসেম্বর হারুনুর রশীদের ‘মেঘের অনেক রং’ (সন্ধ্যা ৬টা)।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মোরশেদুল ইসলামের ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ (বিকেল ৪টা), নাসিরউদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৭ ডিসেম্বর সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৮ ডিসেম্বর নোমান রবিনের ‘কমন জেন্ডার’ (সকাল ১০টা), তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’ (বিকেল ৪টা), মুরাদ পারভেজের ‘বৃহন্নলা’ (সন্ধ্যা ৬টা)।

১৯ ডিসেম্বর আবু সাইয়ীদের ‘কীত্তনখোলা’ (বিকেল ৪টা), আকরাম খানের ‘ঘাসফুল’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২০ ডিসেম্বর সাইদুল আনাম টুটুলের ‘আধিয়ার’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২১ ডিসেম্বর তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালন’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২২ ডিসেম্বর সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকীর ‘ঘুড্ডি’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২৩ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘সারেং বৌ’ (সন্ধ্যা ৬টা) এবং ২৪ ডিসেম্বর গাজী রাকায়েতের ‘মৃত্তিকা মায়া’ (সন্ধ্যা ৬টা)।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »