ছায়ানটের গানে কণ্ঠ মেলাবে ৪ হাজার মানুষ

chayanot_chitram

ছায়ানটে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের মহড়ার দৃশ্য

।চিত্রম প্রতিবেদন। ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জাতীয় পতাকার লাল সবুজে সাজিয়ে সবাই গেয়ে উঠবে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ অনুষ্ঠানের পুরো আবহের মধ্যে জড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশ, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত। হৃদয়ে থাকবে বাংলাদেশ। জাতীয় সঙ্গীত গাইতে গাইতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। উন্মুক্ত মাঠে চার হাজার পরিবেশনকারী খোলা গলায় সম্মেলক পরিবেশনার সঙ্গে কণ্ঠ মেলাবেন। ছায়ানটের সাথে বিজয় উদযাপনে এবার শামিল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৩টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে বর্ণিল এ আয়োজন। উদ্বোধনের পরই দুটি সম্মেলক নাচ পরিবেশন করবে নাচের দল নৃত্যনন্দন। ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ ও ‘আমি ভয় করব না ভয় করব না’ গানটিতে কণ্ঠ মেলাবেন হাজারো মানুষ আর তার তালে নাচবেন নৃত্যনন্দনের শিল্পীরা।

এরপর ‘নবীন আশা জাগল যে রে আজ’ গানের তালে নাচবেন ছায়ানটের ভারতনাট্যম বিভাগের নৃত্যশিল্পীরা। এরপরই মোহাম্মদ জহিরুল হক খানের একক আবৃত্তি ‘তুমি বাংলা ছাড়ো’। এ ছাড়া ছায়ানটের মণিপুরি বিভাগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্রতচারীর শিল্পীরা গানের তালে নাচবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ থাকবে খায়রুল আনাম শাকিলের একক গানের পরিবেশনা ‘বিপ্লবের রক্তরাঙা’।

অনুষ্ঠানে খোলা গলায় চার হাজার শিল্পী গাইবেন ৭টি দেশাত্মবোধক সম্মেলক গান। মঞ্চ ঘিরে মাইক্রোফোনে নেতৃত্ব দেবে ছায়ানটের ৪০ খুদে শিল্পী এবং নবীন শিক্ষক। প্রতিটি সম্মেলকের সঙ্গে মঞ্চের উপর আলাদা আলাদা দলের নৃত্য পরিবেশন থাকবে।

অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ ও মাঠের অঙ্গসজ্জার পরিকল্পনাও করা হয়েছে ভিন্নভাবে। মাঠের মাঝখানে থাকবে ২৪ বাই ২৪ ফুটের বর্গাকার মূল মঞ্চ। মঞ্চের মাঝখানে থাকবে পতাকা স্তম্ভ। চার ধার ঘিরে মাটিতে বিপরীত দিকে তাকিয়ে মাইক্রোফোনে থাকবেন পরিবেশনকারী সম্মেলক শিল্পী। সম্মেলক শিল্পীদের সামনে পুব ও পশ্চিম প্রান্তে প্রধান ও বিশেষ অতিথি, যন্ত্রশিল্পী, নৃত্যশিল্পীদের জন্য থাকবে অনধিক ছয়টি নিচু আসন। পুরো বৃত্ত লাল কাপড়ে মোড়া থাকবে আর উপস্থিত সকলের পোশাক হবে লাল। লাল বৃত্ত ঘিরে তিন হাজারের বেশি সম্মেলক গায়কের সারি, যাদের সকলেই পরবেন জলপাই রঙের পোশাক। সবাই বসবেন মাটিতে। থাকবে লাল বৃত্তের চারপাশের সবুজ দিয়ে জাতীয় পতাকার আদল দেয়ার প্রয়াস।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জাতীয় পতাকার গাঢ় সবুজ রং ছাড়া অন্য রঙের পোশাকে মাঠে প্রবেশ করা যাবে না। ছেলেদেও পড়তে হবে ফতুয়া বা পাঞ্জাবি, মেয়েদের জন্য শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজ। নিরাপত্তার স্বার্থে বড় ব্যাগ আনা যাবে না। মাঠে বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশপথ দোয়েল চত্বর সুইমিং পুল গেট।

এ ছাড়া, যারা গানের বাণী সংগ্রহ করতে চান তাদের ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের ৬ তলার সংস্কৃতি সম্ভার অথবা ১ তলার তথ্য কেন্দ্র যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ছায়ানট ভবনের প্রধান মিলনায়তনে নতুন এই আয়োজনের কথা জানাতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন, সাধারন সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল ও ছায়ানটের প্রধান নির্বাহী সিদ্দিক বেলাল।

ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন বললেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার আন্দোলন ছিল বাঙালিত্বের পথে যাত্রা। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের যে চেতনায় আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল সেই চেতনা এখন মানুষের মাঝে নেই। আমরা তা ভুলে গেছি। আমরা নষ্ট হয়ে গেছি। পাকিস্তান আমলে পহেলা বৈশাখে যে প্রত্যয়ে আমরা বর্ষবরণের আয়োজন শুরু করেছিলাম আজ সেই প্রত্যয় নিয়েই আমরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শুরু করতে যাচ্ছি।

তিনি দুঃখ করে বলেন, সংস্কৃতিহীনতার কারণেই আজ বাংলাদেশের এই সংকটকালীন পরিস্থিতি। কারণ রাজনীতিবিদদের মধ্যেই সংস্কৃতির চর্চাবোধ নেই। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা কি সংস্কৃতি বোঝেন? তারা তো বাঙালি সংস্কৃতি কাকে বলে সেটাই বোঝেন না।’

সনজীদা খাতুন আরো বলেন, ২০০১ সালে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণের পর আমরা উপলব্ধি করেছিলাম সব মানুষের কাছে আমরা পৌঁছাতে পারিনি। এখন সারা দেশে যে সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে, মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, এ থেকে বোঝা যায় সবাইকে সংস্কৃতির পথে আনা সম্ভব হয়নি। অথচ ছায়ানট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সংস্কৃতির বোধ জাগরণের জন্য। সে কারণেই আবারো আমরা ভবন থেকে বের হয়ে আসছি নতুন আয়োজন নিয়ে।

সিদ্দিক বেলাল জানালেন, গান শোনানোর নয়, ছায়ানট বিজয় দিবসে আয়োজন করতে যাচ্ছে গান গাইবার অনুষ্ঠান। মানুষকে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করে তুলতে নতুন আয়োজন নিয়ে আসছে ছায়ানট। এর আগে বেশ কিছু গানের মহড়া চলে, গানের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীদের নাচের মহড়া দেখানো হয়।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »