প্রয়াণের ৪০ বছর পর চিত্রশিল্পী মবিনুল আজিম…

mobinul-azim_chitram

(ডান থেকে) বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত, চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর, শিল্পী মবিনুল আজিমের সহধর্মিণী মমতা আজিম

।চিত্রম প্রতিবেদক। ‘মবিনুল আজিমের সাথে আমার পরিচয় ১৯৬৫ সালে। খুবই ভালো লাগছে ৪০ বছর পর তার জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি চমৎকার বই প্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে সে অতটা পরিচিত ছিল না। কিন্তু তার ছবি ছিল একটু ভিন্ন ধরনের। ছবি দেখে নানা ধরনের অনুভূতি হতো। মনে হতো ছবি কখনও হাসছে, আবার কখনও কাঁদছে। মহৎ সব সৃষ্টি।’

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের চিত্রশিল্পী বন্ধু মবিনুল আজিম এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কথাগুলো বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শিল্পীর প্রয়াণের চল্লিশ বছর পর প্রথমবারের মতো তাকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ ‘কালারস অ্যান্ড গ্রিন’ প্রকাশ হলো।

২৮ ডিসেম্বর পৌষের সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এই স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত।

এ সময় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, প্রবীণ চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর, শিল্পীর সহধর্মিণী মমতা আজিম ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

পরে মবিনুল আজিমের শিল্পকর্ম ও তার জীবনাচরণ নিয়ে আলোচনা করেন স্বজন-সুহৃদরা। তাদের মধ্যে ছিলেন বিটিভির সাবেক চিত্রগ্রাহক গোলাম মোস্তফা, যিনি এই শিল্পীর কাজ দেখেছেন খুব কাছে থেকে। স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বেঙ্গল পাবলিকেশন্স-এর নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসনাত।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চিত্রসাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে শিল্পরসিকদের মন যুগিয়েছিলেন শিল্পী মবিনুল আজিম। তার ছিল অসাধারণ শিল্পমন ও ব্যতিক্রমী শিল্পদৃষ্টি। চারপাশ অবলোকন করেছেন গভীরভাবে। তার সেই দেখা ফুটিয়ে তুলতেন সাদা ক্যানভাসে অবলীলাক্রমে যা প্রাণোচ্ছল হয়ে ধরা দিত।

তারা আরও বলেন, ঢাকায় দু’একটি প্রদর্শনীও করেন তিনি। কিন্তু মাত্র ৪০ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটে এই শিল্পীর। বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে যা ছিল অপূরণীয় ক্ষতি। লাল ও কালো রঙ তার প্রিয় ছিল। আঁকা বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মানুষ ও জনপদ, বাংলার প্রকৃতি ও ঋতুবৈচিত্র। মাধ্যম হিসেবে জলরং বেছে নিয়েছিলেন। তবে তৈলচিত্র ও কালি-কলমেও ছবি এঁকেছেন। বাস্তবধর্মী ছবি আঁকার প্রেরণায় জেলে ও মেথরদের সঙ্গে বসবাসও করেছেন তিনি।

মমতা আজিম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত্যুর এত বছর পর স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ হওয়া আমি অত্যন্ত খুশি। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন বহু কষ্ট করে তাকে নিয়ে এ রকম একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।’

স্বামীর চিত্রকর্মের মূল্যায়ন করে বলেন, ‘অসম্ভব ঝোঁক ছিল চিত্রকর্মের প্রতি। যখনই তিনি করাচি থেকে দেশের ফিরতেন, তখন দূর গ্রামে চলে যেতেন ছবি আঁকার জন্য।’

১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর প্রয়াত হন চিত্রশিল্পী মবিনুল আজিম। অনুষ্ঠানে শিল্পীকে নিয়ে দুই মিনিটের একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়, যেখানে ছিল মবিনুল আজিমের আঁকা কয়েকটি দুর্লভ চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »