শিল্পকর্মের বাজারটা ‘ভীতিকর’ বললেন গেরহার্ড

2015-05-06-gerhard-richter

জর্মান চিত্রশিল্পী গেরহার্ড রিখটার

।নূসরাত জাহান। বাজার বিষয়টা একজন শিল্পীর বোঝার কথা নয়। তবে কেউ কেউ বলবেন এই বাজারই তো শিল্পের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তাদের মতে শিল্পকর্মের দাম দেখে কিছুটা হলেও অনুধাবন করা যায় এর অন্তর্নিহীত তাৎপর্যটা। কিন্তু বাজারমূল্যের ইউরোপের সবচেয়ে দামি শিল্পী গেরহার্ড রিখটার বললেন অন্য কথা। জার্মান ম্যাগাজিন ডাই জেইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রীতিমতো একহাত দেখে নিলেন ছবির বাজারকে। ৮৩ বছর বয়সী এ শিল্পী বললেন, বাজারে যে ভাবে সমকালীন শিল্পীদের ছবি আকাশচুম্বী দামে বিকোয় তা নিতান্তই পাগলামী।

নিজের স্বাক্ষর করা পোস্টকার্ডকে অস্বাভাবিক দামে বিকোতে দেখে গেরহার্ড বললেন, এটাকে যদি উন্নতি বলতে হয় তবে তা শিল্প জগতের জন্য ‘ভীতিকর উন্নতি’।

২০১৫ সালে গেরহার্ড রিখটারের আঁকা ‘অ্যাবসট্রাকটিস বাইল্ড (১৯৮৩)’ বিক্রি হয়েছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলারে। আর ওটার কারণেই গেরহার্ড হয়ে গিয়েছিলেন ইউরোপের সবচেয়ে দামি শিল্পী।

তবে সম্ভবত শিল্পবোদ্ধা ও গণমাধ্যমে ঘন ঘন তাকে টাকার বিচারেই মাপা হয় বলে বাজার নিয়ে ক্ষুব্ধ গেরহার্ড। তাই অনেকটা ব্যাঙ্গ করেই বললেন, ‘রেকর্ড পরিমাণ দামের কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। যদিও এটা ভালো, সুসংবাদ, তবে সংখ্যাটা আসলেই খুব ধাক্কা লাগার মতো। আপনি জেনে থাকবেন যে গোটা চিত্রশিল্পের বাজারটাই অসহায়রকম চওড়া হয়ে গেছে। এটা ঠিক বোধগম্য নয়। আমার কাছে এটা অনেকটা চাইনিজ আর পদার্থবিজ্ঞানের মতোই।’

ছবির গুণগত মান আর দামের মাঝে যে বিশাল ফারাক সেটা বোঝাতে তিনি উদাহরণ টানলেন নিজেরই একটা ছবির- ১৯৬৮ সালে আঁকা ডোমপ্লাৎজ মেইনল্যান্ড নামের ছবিটি বিক্রি হয়েছিল ৩ কোটি ১৭ লাখ ডলারে।

‘আমার কাছে এটা অস্বাভাবিক ঠেকেছে। আমি মনে করি না ওই ছবিটা অত বড় কিছু। এটা হতে পারে আমার একটা অনুপ্রেরণা- আরও অনেক শহরের ছবি আঁকার জন্য। তবে বিক্রির খবরটা শোনার পর আমার মনে হয়েছে ছবিটাকে অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে।’

শিল্পের বাজারের জন্য ইদানীংকার নিলামের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াটাকেও ঠিক ধর্তব্যে আনতে পারেন না গেরহার্ড। তার মতে, ক্যাটালগগুলো দেখলেই বোঝা যায় ননসেন্সগুলোকে কী পরিমাণ মূল্য দেওয়া হচ্ছে।

তবে গেরহার্ডের এমন চাঁছাছোলা কথা শুনে রাগ করতে পারেন অনেক শিল্পী। তবে চিন্তার খোরাক যে আছে তাও স্পষ্ট। শিল্পকর্মকে দাম দিয়ে বিচারের প্রবণতা আখেরে শিল্পীকে ছোট করে। আর এমন মন্তব্য করে নিজের আসল ‘শ্রেষ্ঠত্ব’টারই কিন্তু প্রমাণ দিলেন রিখটার।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »