ক্যানভাসজুড়ে সংগ্রামী মানুষের অভিব্যক্তি

mainuddin_chitram02।অর্ঘ সেন। অসংখ্য ভঙ্গিমায় অসংখ্য বিবর্ণ মুখ। এক নারী গালে হাত দিয়ে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তার চুল এলানো চুল এসে ঠেকেছে ঘাড়ে-বুকে। তার পাশে এক পুরুষ, তারও গালে হাত রাখা। তবে এ মানুষটি যেন হাতের ওপরই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন। কেউ এক চোখ বন্ধ করে রেখেছেন। কেউ ভেঁপু বাজাচ্ছেন। উন্মুক্ত বুকের এক নারী হাত চাপড়িয়ে হাহাকার প্রকাশ করছেন। পেছনে কালো ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলেছে কয়লাচালিত রেলগাড়ি। যে ধোঁয়া আর নিত্যদিনের খেটে-খাওয়া সংগ্রামী মানুষের জীবনের আলাদা কোনো রং নেই।  একই রঙে ছুটে ছুটে শেষ গন্তব্যে থেমে যায় তাদের জীবনের রেলগাড়ি। সবার অভিব্যক্তি আলাদা হলেও একদিকে মিল, সবাই শ্রমজীবী।

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে এমনই একটি দৃশ্য নিয়ে প্রদর্শিত হচ্ছে ৭৫/৮ ফুট আয়তনের বিশাল ক্যানভাসে  ‘মানবজাতির অভিব্যক্তি’। লা গ্যালারি ও গ্যালারি জুমে শিল্পী মাঈনুদ্দিনের এটি দ্বিতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী।

২ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টায় ক্যাফে লা ভেরান্দায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিল্পী রফিকুন নবী। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শিল্পীর ২৫টি চিত্রকর্ম।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন একই অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল বারক আলভী।

সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সংগ্রাম শিল্পী মাঈনুদ্দিনের কাজের বিষয়। শিল্পী নিবিড়ভাবে খেয়াল করে দেখেন সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তারা কীভাবে মোকাবিলা করে। তিনি যেমন তাদের দেখেন পরাজয়ে ভেঙে পড়তে তেমনি দেখেন সফলতায় আনন্দিত হতে। তাই তিনি চিত্রিত করতে পারেন তাদের ভঙ্গি ও অনুভূতি।

একটি চিত্রকর্মে দেখা যায় আকাশী রঙের শাড়ি পরা এক প্রান্তিক নারীর ছবি। হলুদ ব্লাউজ পরা। সেজেছেন তার মতো করে। বেণী বেঁধেছেন। সেই বেণী বুকের ওপর আছড়ে পড়েছে। কানের পাশের চুলে গুঁজে দিয়েছেন ফুল। কপালে টিপ। হাতের ওপর আরেক হাত রেখে তাকিয়ে আছেন। কিন্তু তার ভঙ্গি এমন যেন তাকে কেউ দেখছে আর তিনিও চোখ বড় করে দেখছেন দর্শককে। আরেকটি চিত্রকর্মে দেখা যায়, ফুটপাতে হাড় জিরজিরে এক বৃদ্ধের ঘুমানোর ভঙ্গি। অসংখ্য মানুষের ভঙ্গি, অভিব্যক্তি দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন মানুষের বেদনার ইতিহাস।

১৯৮৩ সালে ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন মাঈনুদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে তিনি বিএফএ এবং এমএফএ সম্পন্ন করেন প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে। ২০১২ সালে চিত্রকলায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত সেরা পুরস্কার পান। ২০১৩ সালে মাঈনুদ্দিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

প্রদর্শনীটি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা  থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনীস্থল। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »