চীনা শিল্পকলায় বিমোহিত দর্শক

chaina-fest_chitram।চিত্রম প্রতিবেদক। মুখের ভাষা ভিন্ন হলেও শিল্পের ভাষা প্রায় অভিন্ন। শিল্পের দেশ-কাল নেই। ভাষা না বুঝলেও শিল্পকলা এমনই এক মাধ্যম যার মাঝে স্পষ্ট হয়ে ওঠে মনের অভিব্যক্তি। চীনের তিয়াজজিন সাংস্কৃতিক দলের বিভিন্ন পরিবেশনায় ১৭ জানুয়ারি শ্রোতা-দর্শকদের বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করেছে এ বিষয়কেই।

চীনা শুভ নববর্ষ ও বসন্ত উৎসব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা শুরু হয়েছে রোববার। বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, ঢাকার চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে রোববার মার্শাল আর্ট, অ্যাক্রোবেটিক, একক সংগীত, সমবেত সংগীত, যন্ত্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন চীনের শিল্পীরা, যা শিল্পরসিকদের মন ভরিয়েছে।

আলোচনা পর্বের শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। চীনা সভ্যতার ঐতিহ্যের স্মারক মার্শাল আর্ট প্রদর্শিত হয় ‘ফিস্ট অব লিজেন্ড’ শিরোনামে। এর পর ছিল অ্যাক্রোবেটিক পরিবেশনা ‘রোটেড স্নানকেট’। চীনের অপেরা শিল্পী, যারা হুয়াড্যান্স নামে পরিচিত, তারা কম্বল দিয়ে ভিন্ন রকম কসরত প্রদর্শন করেন। যন্ত্রশিল্পীদের সুরের মূর্ছনা শেষে ‘ওড টু লোটাস’ পর্বে মেয়েরা পদ্মফুলের মতোই নেচে নেচে বিমোহিত করেন দর্শকদের। সাইকেলে চড়ে হাতে পায়ে বল নিয়ে বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন শিল্পীরা।

চীনের ঐতিহ্যবাহী বক্সিং আদলে উপস্থাপিত হয় মার্শাল আর্ট। ‘দ্য সিল্ক রোড ক্যামেল’ নামের একটি যন্ত্রসংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর ছিল নৃত্য। এতে লোকসংগীতের সঙ্গে ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মুগ্ধতা প্রকাশ পায় নৃত্যের ছন্দে। ‘জিজিটসু’ নামের অ্যাক্রোবেটে জটিল সব শারীরিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শারীরিক সক্ষমতার প্রকাশ ঘটে। চীনা ভাষায় এটিকে বলা হয় থি চি। এই প্রাচীন নৃত্যঢঙে উঠে এসেছে শান্তি ও সৌহার্দ্যরে বাণী।

অনুষ্ঠানের একটি পর্ব ছিল চীনা শিল্পীদের কণ্ঠে বাংলাদেশের লোকসংগীতের পরিবেশনা। বসন্তভিত্তিক চীনের লোকগানের যন্ত্রসংগীত পরিবেশনাটি মাতিয়েছে মিলনায়তনের সবাইকে। এরপর বেশ কিছু চ্যালেঞ্জিং অ্যাক্রোবেটিক ও মার্শাল আর্ট পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজন। আজ একই স্থানে একই সময়ে হবে উৎসবের দ্বিতীয় দিনের পরিবেশনা।

উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং। স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী ও বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন।

মা মিং চিয়াং বলেন, ‘অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সূচকে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। সোনার বাংলা নির্মাণে চীন সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান, বড় পর্দায় সেটি দর্শকদের দেখানো হয়। আজ ১৮ জানুয়ারি একই মিলনায়তনে হবে দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে এ আয়োজন।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »