শিল্পকলায় জমজমাট পিঠা উৎসব

pitha_chitram
।চিত্রম প্রতিবেদক। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মাঠের পাশে কফি হাউজের সামনে জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪২২ এর মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বিকেল থেকেই শোনা যাচ্ছিল ঢোল তাল আর বাঁশির সুর। শিল্পীরা একসময় ‘সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী’ গানের সুর ধরেছে। শিল্পকলার মাঠজুুড়ে হাজারো উৎসাহী মানুষের ভিড়। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো পিঠা উৎসবের উদ্বোধনী পর্ব।

শুক্রবার ঢাকের তালে তালে বেলুন আর শান্তির পায়রা উড়িয়ে আট দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন উৎসবের উদ্বোধক শিল্পী রফিকুন নবী। তার সঙ্গে এই আয়োজনের বিশেষ অতিথি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজাদ রহমান, রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহম্মদ সামাদ, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ্ আলম উপস্থিত ছিলেন।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি কাজী রোজী এমপি ও অভিনেতা আব্দুল আজিজ। এই আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন  নাট্যজন ম. হামিদ। আয়োজনে শুরুতেই সদ্যপ্রয়াত বিশিষ্ট সুরকার খোন্দকার নুরুল আলমের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নুতন প্রজন্ম পিঠা চেনে না, চেনে পিৎজা। মাছ কোথায় থাকে বললে উত্তর দেয় ফ্রিজে থাকে। এই অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ দরকার। পিঠা আামাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই এতিহ্য ধরে রাখতে হবে। সেই ধরে রাখার প্রত্যয়ে আয়োজিত হচ্ছে এই জাতীয় পিঠা উৎসব।’

রফিকুন নবী বলেন, ‘প্যারিসের মিউজিয়ামে বাংলাদেশের ঐতিহ্য হিসেবে যেটি স্থান পেয়েছে সেটি হচ্ছে আমাদের নকশি পিঠা। আমি নিজে সেটা দেখে এসেছি। পিঠা এমনই এক শিল্প যে এটি আমাদের চিত্রকলা ও লোকজ গল্পেও স্থান পেয়েছে। পিঠা শুধু খাওয়া নয় এটি তৈরিও একটি কলাও আছে। এদেশের প্রতিটি নারী আসলে শিল্পী। আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় পিঠা তৈরির মাধ্যমে।’

সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব আজাদ রহমান বলেন, ‘সাংস্কৃতিক চেতনার মধ্য দিয়েই জানোয়ার আর মানুষের পার্থক্য হয়। সেই সংস্কৃতির একটি মাধ্যম খাবার তথা এই পিঠা। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পিঠা যে আমাদের সংস্কৃতিরই একটি অংশ সেটি বার বার উঠে এসেছে।’

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ খাবার। বর্তমানে শহর ও গ্রামের ব্যাবধান কমে এসেছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের অনেক ঐতিহ্যবাহী বিয়য়, পিঠা তার মধ্যে অন্যতম। এগুলো যেন আবার আমাদের মাঝে নতুন করে ফিরে আসে সে চেষ্টাতেই কাজ করে যাচ্ছেন অনেকে।’

আট দিনব্যাপী এই উৎসবের ৩৩টি স্টলে ১৬৮টি ধরনের পিঠা থাকছে। এছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণের কফি হাউসের উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত থাকছে নাচ, গান, আবৃত্তি ও পথনাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ২৯ জানুয়ারি শেষ হবে এই পিঠা উৎসব। আর সমাপনী দিনে সেরা পিঠা শিল্পীদেরকে পুরস্কার প্রদান করবে জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদ।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »