বেহালার মোহনীয় সন্ধ্যা

bhayolinistasa_chitram।আরিকা মাইশা। কখনো কখনো বাণী স্তব্দ হয়ে গেলেও সুর থাকে চলমান। সুরের আবেশ আছে, কিন্তু শিল্পীর কণ্ঠ নেই। আর​ সেই সুরই কথা বলে। এমনি সুরেই গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে দর্শক-শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছেন বেহালায় রাগ-রাগিনীর বাদন। বেহালায় এমনি সুরের ঝংকার তুলেছেন চট্টগ্রামের বেহালা বাদকদের গ্রুপ ভায়োলিনিস্টস চট্টগ্রাম। সংগঠনটির পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বেহালা বাদন ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান।

সুরেলা এ বাদ্যযন্ত্রের বর্ণিল অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত শিল্পীদের আড়ানা মল্লার ও দূর্গা খাম্বাজ রাগ বাদনের সুরে মঞ্চের পর্দা উন্মোচিত হয়। এরপরে সংগঠনের শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন বেহালায় সমবেত ও একক রাগ। চিরচেনা গান‍- কখনো রবীন্দ্রসংগীত, কখনো আধুনিক কিংবা দেশাত্ববোধক। এর পাশাপাশি বাংলা গানের বিভিন্ন ধারা নিয়ে চলে উপস্থাপন। এভাবে এগিয়ে চলতে থাকা অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে যন্ত্র সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামের গিটার শিল্পী শ্রী বাবুল কান্তি দে কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

বেহালার সুরে মুগ্ধতা জাগানিয়া অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল বৃন্দ বাদন। এরপর শয়ন চন্দ্র দাস রাগ শিবরঞ্জনী, হোমায়রা আফরাঈম রাগ মালকোষ ও সন্দীপন দাস রাগ পাহাড়ি বাজিয়ে শোনান। তিনটি একক রাগ পরিবেশনের পর ছিল রবীন্দ্রসংগীত ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’-এর সমবেত বাদন। এই পরিবেশনার পর নাবিলা নুসরাত ‘জাগরণে যায় বিভাবরী’, পর্ণা বড়ুয়া ‘আমার প্রাণের মানুষ’, তন্ময় সরকার ‘এই করেছ ভালো নিঠুর হে’, স্বরবীথি বড়ুয়া ‘কতবার ভেবেছিনু’, শুভ্রা বর্মন ‘দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার’ ও পরাগ মুৎসুদ্দী ‘বিরহ মধুর হলো আজি’ বাজিয়ে শোনান। অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে লোক সংগীত ‘বিহুরে লগন মধুরে লগন, অকাশে বাতাসে লাগিল রে চম্পা ফুটিছে চামলী ফুটিছে’ বেহলা বাদনের এই সুরে নাচ পরিবেশন করেন ফাল্গুনী বর্মন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল বাংলা আধুনিক গানের পরিবেশনা। এই পর্বে অংশ নেন রওনাক ইবতিসামা চৌধুরী ‘ওরে নীল দরিয়া’, আনিলা নওশীন ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ’, শাকিলা পারভীন ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’ ও রাহেলা রিজওয়ানা চৌধুরী ‘আকাশ এতো মেঘলা’ এই জনপ্রিয় গানগুলি। সব শেষে সমবেতভাবে রাগ হাম্বির পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের আন্দোলিত করেছে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামের শ্রোতাদের কাছে এবারই প্রথম নয় গত চার বছরধরে তারা বেহলায় তুলছেন সুরের ঝংকার। শিল্পীদের এই বাজনার মধ্য দিয়ে শীতের রাতে এক সুরের আবেশে ছড়িয়ে পড়ে টি আই সি মিলনায়তনে। একারণে হয়তো সুরের সাগরে ভাসতে ভাসতে কখন যে দুই ঘন্টা পার হয়ে গেল তা টেরই পাওয়া গেল না।

বেহালা বাদন অনুষ্ঠানের প্রথম পরিবেশনার পর লেখক সমর কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় কথামালা। এতে অংশ নেন লেখিকা ফেরদৌস আরা আলীম, সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিষদ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক স্বর্ণময় চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রের পরিচালক শৈবাল চৌধুরী ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রবীর পাল ও সঞ্চিতা বড়ুয়া। আয়োজনে শিল্পীদের তবলায় আসাদুজ্জামান খান ও ত্রিদীপ বৈদ্য, কি বোর্ডে সালাউদ্দিন মো. রুবায়েদ, অক্টোপেডে গোলাম সাফা মিঠু এবং স্প্যানিস গিটারে পরাগ বড়ুয়া সহযোগিতা করেন।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »