ক্যানভাসে আলো-আঁধারের খেলা

haven-garden_chitram
শুধু ঢাকাতেই নয়, বিয়ের অনুষ্ঠানে টগবগ ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বর-বধূর নগর পরিভ্রমণশেষে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে শহরতলিতে। মুখে লাগাম নিয়ে ধীরলয়ের ঘৌড়দৌড় দেখেও নগরবাসীরা তৃপ্ত হন। রাস্তায় ভিড় জমে। এ ছবি সে দৃশ্যও বর্ণনা করে না। দুটো ঘোড়া স্থির হয়ে আছে। ঘোড়ারথে যাত্রীও নেই। ঘোড়া দুটোও মাটির দিকে তাকিয়ে। যেন এ ভার বহনে ক্লান্ত তারা। বুকের কয়েকটি হাড় স্পষ্ট। এমন নির্লিপ্ত ও সাদামাটা ভঙ্গির ঘোড়ার দিকেই নজর চিত্রদর্শকদের।

বলা হচ্ছে ‘অনুভূত আলো আঁধার’ শিরোনামের দ্বিতীয় যৌথ প্রদর্শনীর কথা। কয়েকদিন আগে রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে উদ্বোধন করা হয় এ প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীর বেশ কয়েকটি শিল্পকর্মই স্বস্তি দেয় দর্শনার্থীকে, নিয়ে যায় অন্য বোধের জগতে। সমসাময়িক চিন্তার কূটাভাসও লক্ষ্যণীয় ছবিগুলোয়। প্রদর্শনীতে ২৫টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে।

প্রদর্শনীটি অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে প্রাকৃতিক আলো ও আঁধারের মাধ্যমে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে সুখ-দুঃখ প্রকাশ করে। এই শিল্পকর্মে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা আলো এবং অন্ধকারের মৈৗলিক প্রকৃতি চমৎকার শৈলী এবং নকশার ব্যবহার করে এটিকে একটি সুষম চিত্রকর্মে রূপ দিয়েছে। আলো ও অন্ধকারের দৃঢ় ভারসম্যেও মাধ্যমে এই চিত্রকর্মগুলোতে আলো এবং অন্ধকার পরস্পরের উপর নির্ভর উপাদান হয়ে উঠে যা আবেগীয় এবং এটি চিত্রকলার উপাদান সমূহের মধ্যে নিহিত।

এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পী রশিদুল আলমের কিছু চিত্রকর্ম তার নিজস্ব চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করে। প্রায়শই তিনি ভালবাসা, স্নেহ এবং সুখে আবদ্ধ হন, যা তার শৈশবকে দোলা দেয়। শৈশবের মধুর স্মৃতি তাকে বারবার জাগিয়ে দেয়, আর তা থেকে কিছু উঠে আসে ক্যানভাসে।

আল-আখির সরকার তার আঁকা চিত্রকর্মে চিরাচরিত বাঙালির অনুভূতিগুলোকে স্থান দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত এবং ভেতরের অনুভূতিকে মুছে ফেলতে চেয়েছেন, যেখানে ঐতিহ্য, অনুভূতি, ধর্মীয় আচরণ, চিন্তা, স্বপ্ন এবং সমগ্র বাংলার ছবি বিদ্যমান।

আজমল হোসেনের চিত্রকর্মগুলো তুলে ধরে মানুষেল বহুরৈখিক সংগ্রামের খবর। আমরা আমাদের প্রয়োজন এবং স্বপ্ন সম্পর্কে গল্প সৃষ্টি করি, যা কখনও কখনও আমাদের খুশি করে এবং কখনও কখনও বিপর্যস্ত করে। সেসব গল্পই তার চিত্রকর্মে দৃশ্যমান।

ব্যক্তির অন্বেষণ সৈয়দ ফিদা হোসেনের কাজের একটি অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র। আমরা সবসময় আমাদের দৈনন্দিন হতাশার যান্ত্রিক জীবনের কাছে আবদ্ধ এবং আমরা আমাদের ভেতরের অস্তিত্ব হারিয়ে কখনও কখনও অবচেতন মনে নিজেদেরকে খুঁজি। এটা মানুষের অস্তিত্বেও একটি রহস্যময় যাত্রা যা শিল্পী ফিদার কথায় ‘মানবতা’। ফিদা যেন নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে আবিষ্কার করে অপরকে। তার ছবিতে আত্ম-পর মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

সুলতান ইশতিয়াকের চিত্রকর্মের বিষয় হলো প্রকৃতির সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে সমাজের কঠোর বাস্তবতা, বিকৃত বাড়িঘর, ঐতিহাসিকভবন, বুড়িগঙ্গা নদীর বড় বড় জাহাজ, উজ্জ্বল আলোমাঝি, নিপীড়িত মানুষ এবং তাদের নিয়মিত জীবনের কাজ, উজ্জ্বল আলো মাঝির অপেক্ষা, ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম এবং ধসে যাওয়া বাড়ির আহত মানুষ। তার প্রতিটি চিত্রকর্মই দেশীয় চেতনার উদ্ভাসিত। নগরের নান্দনিক সৌন্দর্যের ধসে যাওয়া অপরূপ দেখাতে সিদ্ধহস্ত তিনি।

২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। সম্মানিত  অতিথি ছিলেন শিল্প সমালোচক সামসুল ওয়ারেস। আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ব্রুনো প্লাস অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রদর্শনীটি চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

৮ম কাহাল আন্তর্জাতিক আর্ট ফেয়ারে নিবন্ধন করতে ক্লিক করুন http://kahalbd.com/8th-kahal-international-art-fair-2016/ এই লিংকে     Read More »