ব্যাক আর্টের আরবান আওয়ার্স

home
। শিবানী কর্মকার শিলু ।

এ যেন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনমেলা। পুরো প্যালেস জুড়ে কনটেম্পরারি আর্টের এক হাট যেন। ‘রোজ গার্ডেন ভিলা’য় গত ৩ ডিসেম্বর হয়ে গেল ‘ব্যাক আর্ট’ আয়োজিত ‘আরবান আওয়ারস’ শীর্ষক শিল্প প্রদর্শনী।
পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনে অবস্থিত ‘হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি’ নামে পরিচিত প্রাচীন জমিদার বাড়ি, যা বর্তমানে রোজ গার্ডেন ভিলা নামে পরিচিত, সেখানেই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। শুভ্রতায় ছাওয়া চমৎকার দর্শন এ ভবনের সম্মুখ ভাগে খোলা লন ও বাগানের ফাঁকে ফাঁকে নানা রকম সুদৃশ্য সব ভাস্কর্য। আর পুরোটা লন, প্রাসাদের সামনের সিঁড়ির পুরোটা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় স্থান পেয়েছে ২০ জন শিল্পীর নানা মাত্রার সব শিল্পকর্ম। বিভিন্ন মাধ্যমে নির্মিত ২০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয় এই আয়োজনে। প্রদর্শনীতে মূলত সমকালীন শিল্পচর্চার অংশ হিসেবে স্থান পায় ইনস্টলেশন ও পারফরম্যান্স আর্ট।

শিল্পী একই সঙ্গে দুটো জীবন বয়ে বেড়ান। ব্যক্তিজীবন ও শিল্পীজীবন। এবং ক্রমাগত এ দুই জীবনের নানা সংঘর্ষ, টানাপোড়েন শিল্পীর ভাবনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গিও তাই আর দশটা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা মানুষের চেয়ে আলাদা হয়। শিল্পীর ভাবনার যথার্থ প্রকাশই হচ্ছে শিল্প।

২০ তরুণ শিল্পীর তিন মাসব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা, পর্যালোচনা, চিন্তার আদান-প্রদান- সব মিলিয়ে ভাবনার সফল প্রয়াস ছিল এই প্রদর্শনী। এতে অংশ নেন আব্দুল গাফফার বাবু, আলী আসগর, অর্পিতা সিংহ, অসীম হালদার সাগর, জিনাত জুলফিকার ছবি, ইমরান সোহেল, জুয়েল এ রব, জোটন চন্দ্র রায়, কেহকাশাহ সাবাহ, মাহাদি মাসুদ, মানিক বণিক, মেহেদি হাসান, রুজভেল্ট ডি রোজারিও, রেজোয়ানা সামির রিয়া, সামির এ হিমেল, সানজিদ মাহমুদ বুলবুল, শক্তি নোমান, শুভ সাহা, সৈয়দ তারেক রহমান ও তাহমিনা হাফিজ লিসা।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘ব্যাক আর্ট’-এর আয়োজনে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ প্রদর্শনী উপলক্ষে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়। তাদের ভাষায়, ‘আমাদের প্রাণের শহর ঢাকা। বহু প্রাচীন এই জনপদের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের আলাদা কদর রয়েছে সর্বত্র। তবু দিন দিন এর কদরের পাশাপাশি মন্দ দিকও উঠে আসছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকা বিশ্বের অবসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম সারির দিকে। নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা শহর আর এর নাগরিক সমাজ। ট্রাফিক জ্যাম, ফুটপাতের অভাব, অপরিচ্ছন্নতা, পয়োনিষ্কাশনের অপ্রতুলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূমি দখল, বাতাসে কার্বন আর সিসার আধিক্য, ছিনতাই-চুরি-মলম পার্টি, দুর্নীতি-রাহাজানি, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা, সড়ক অব্যবস্থাপনা, গণযোগাযোগব্যবস্থার অভাব, অপরিকল্পিত বাড়িভাড়া, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীনতাসহ হাজারো দৈনন্দিন সমস্যা। তবু প্রাণের শহর ঢাকা। স্বাভাবিকভাবেই আর সাধারণ মানুষের মতোই এর সব কটি সমস্যা ব্যক্তিশিল্পীকেও প্রভাবিত করে। আর তাই সমকালীন শিল্পচর্চার ধারাবাহিকতায় ‘আরবান আওয়ারস’ শীর্ষক এক দিনের এই প্রদর্শনী।

অন্যদিকে এ শিল্প প্রদর্শনীর দর্শক হিসেবে উপস্থিত ঢাকা চারুকলার শিক্ষক হারুন অর রসিদ টুটুল বলেন, আশি-নব্বইয়ের দিকে বেশ কিছু শিল্পী গ্রুপ করে শিল্প প্রদর্শনীর প্রচলন শুরু করেন। এই প্রদর্শনীর পেছনে তাকালে দেখা যাবে, শিল্পীরা দল বেঁধে শিল্পচর্চা, শিল্প আলোচনা, চিন্তার আদান-প্রদান এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা প্রদর্শনীর সাহস করতেন। তৎকালীন সময়ে একটা প্রদর্শনীর পদক্ষেপ নেওয়াটা বেশ সাহসের ব্যাপার ছিল। এখন প্রদর্শনী বেশ সহজ।‌‌’

বর্তমানে চারদিকে এক অস্থির সময় বিরাজ করছে। এই অস্থির সময়ে শিল্পীদের নিজেদের ভেতরেও একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। এ সময়ের শিল্পীরা অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক। দেখা যায় একটি গ্রুপ এক্সিবিশনের সময় যার যার মতো কাজ এনে পার্টিসিপেট করছে। এমনও হয় ওপেনিংয়ের দিন শিল্পীদের একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়। কিন্তু এ সময়ে এসে ‘ব্যাক আর্ট’-এর শিল্পীরা এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তারা সমসাময়িক একটি বিষয় নির্বাচন করেছেন। উপস্থাপনের মাধ্যম হিসেবে নতুন মাধ্যম বেছে নিয়েছেন। সেটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ বৈঠক, সবার সঙ্গে সবার আলোচনা অতঃপর একমতে পৌঁছানো। সর্বশেষ সফল একটি প্রদর্শনী। পুরোটা মিলিয়েই ‘ব্যাক আর্ট’ প্রকৃত অর্থেই কৃতিত্বের দাবি রাখে।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

One comment on “ব্যাক আর্টের আরবান আওয়ার্স
  1. Md.harun-ar-Rashid (Tutul) says:

    Good

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »