মিতুর ক্যারিকেচার প্রদর্শনী মিট দ্য ফেইসেস

10507010_669222569843776_4400283433966399591_o

। সুমিমা ইয়াসমিন ।

এতো সব বিখ্যাত মানুষ জড়ো হয়েছেন এক গ্যালারিতে! না, সশরীরে নন, ফ্রেমে বন্দী ক্যারিকেচার হয়ে। একেকটি পরিচিত মুখ দারুণ মজার ইমেজ এবং আমেজে ফ্রেমবন্দী! দেশের ও বিদেশের বিখ্যাত মানুষের ক্যারিকেচার নিয়ে সম্প্রতি আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে আয়েজিত হলো ‘মিট দ্য ফেইসেস’ শীর্ষক প্রদর্শনী। কার্টুনিস্ট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া শিল্পী নাসরীন সুলতানা মিতুর করা প্রায় ৩০টি ক্যারিকেচার ঠাঁই পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।
ক্যারিকেচারের যথার্থ বাংলা প্রতিশব্দ নেই। তবে ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করা হয় প্রতিশব্দ হিসেবে, যেটি কিনা কার্টুনেরও বাংলা প্রতিশব্দ। ক্যারিকেচার বলতে সাধারণত কোনো মানুষের অতিরঞ্জিত পোর্ট্রেটকেই বোঝায়। অতিরঞ্জন হবে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি বিকৃতি হবে না। ক্যারিকেচারে মানুষটি দেখতে কেমন তার থেকে বেশি দেখানোর চেষ্টা করা হয় মানুষটির স্বভাব কেমন। শুধু মানুষের নয়, যেকোনো বস্তু বা প্রাণীর ক্যারিকেচার হতে পারে। ক্যারিকেচারে অতিরঞ্জন করে কোনো চিত্রকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়, সেটা একেবারে রিয়েলিস্টিক থাকে না। তবে সেই অবস্থাতেও চেনা যায়। চেনা যাওয়াটা এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ষোড়শ শতকে ইতালিয়ান চিত্রকর আনিবেল কারাচচি সর্বপ্রথম ক্যারিকেচার শুরু করেন বলে জানা যায়। ক্যারিকেচারের ইতিহাসে কারাচচির সঙ্গে আরও দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়, একজন স্বয়ং কারাচচির ভাই আগস্তিনো কারাচচি, আরেকজন বার্নিনি। বার্নিনি তিন চার টানে মানুষের ক্যারিকেচার করে ফেলতেন। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিও ক্যারিকেচার করতেন মানুষের ভেতরের দোষ-গুণ ছবিতে তুলে আনতে।

নাসরিন সুলতানা মিতুর একক এই প্রদর্শনীর সবগুলো ক্যারিকেচারই ডিজিটাল মিডিয়ায় করা। মিতু বললেন, ক্যারিকেচার করতে গেলে আসলে ফোকাস কাজ করে ওই ব্যক্তির ওপর। সেটা শুধুই তার মুখাবয়ব নয়, বরং তার মুড, ব্যক্তিত্ব, পেশা, বিশেষত্বÑ সবকিছুই মাথায় থাকে। আর প্রতিটি মানুষের যেকোনো একটা ইউনিক দিক থাকে, সেই দিকটিকে প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করি। এখানে প্রধানত ২০১৩ আর ২০১৪ সালে করা কাজ বেশি, তবে ২০১১-১২ সালেরও কিছু কাজ আছে।

গত ৫ ডিসেম্বর পক্ষকালব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্যাটায়ার ম্যাগাজিন উন্মাদের সম্পাদক আহসান হাবীব। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী এবং আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ব্রুনো প্লাস।
পেশাদারি কার্টুনিস্ট হিসেবে নাসরীন সুলতানা মিতুর যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে, উন্মাদ ম্যাগাজিনে কাজ করার সুবাদে। বর্তমানে এই স্যাটায়ার ম্যাগাজিনে যুক্ত আছেন আঁকাআঁকি বিভাগে সহকারী সম্পাদক হিসেবে। মিতু রাজনৈতিক কার্টুন শুরু করেন ২০১০ সালে ‘ডেইলি নিউ এইজ’ পত্রিকায় যোগদানের পর থেকে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর তার একটি কার্টুন (ডেনিম জিনসের প্রাইস ট্যাগে টাকার অঙ্কের বদলে রক্তের ছোপ) অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে। দেশে-বিদেশে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালগুলো থেকে এক লাখেরও বেশি শেয়ার করা হয় এই কার্টুন। মিতু ক্যারিকেচারে মনোযোগ দিতে শুরু করেন ২০১১ সালের দিকে। সম্পূর্ণ নিজস্ব স্টাইলে মানুষের চেহারা এবং ব্যক্তিত্বের ভিন্নধর্মী উপস্থাপন খুব অল্প সময়েই তাকে কার্টুন-অনুরাগীদের নজরে নিয়ে আসে।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »