রফিকুন নবী : চিত্রকলার প্রাণপুরুষ

nabi url
শিল্পী রফিকুন নবী, বাংলাদেশের চিত্রকলার এক প্রাণপুরুষ। জন্মেছিলেন ১৯৪৩ সালে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে। শৈশব থেকেই আছেন ঢাকায়। বাংলাদেশের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে ঊষালগ্ন থেকে দেখছেন, থেকেছেন। হেঁটেছেন বাংলাদেশের সঙ্গেই। রফিকুন নবীর চিত্রকলায় তাই উঠে এসেছে বাংলাদেশের কথা, দেশের মানুষের কথা।

ষাটের দশকে চারুকলায় পড়াশোনা শেষে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন চারু ও কারুকলা কলেজে। অবসর নিয়েছেন বর্তমান চারুকলা অনুষদের ডিন হিসেবে। সম্প্রতি আমজাদ আকাশের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শিল্পী রফিকুন নবী বলেছেন তাঁর জীবনের না-বলা অনেক কথা

আকাশ: আপনার শৈশব নিয়ে জানতে চাই। এই বয়সে এসে শৈশব নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
রফিকুন নবী:
এত দিনে এসে শৈশবের কথা মনেই পড়ে না। আমার শৈশব শুধু এক জায়গায়ই কাটেনি। বায়ান্ন সালের পর থেকেই আমি ঢাকা শহরে রয়েছি। কিন্তু ঢাকার আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় বাবার চাকরির সুবাদে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুধু শৈশবটাই, সেখানে মাঝেমধ্যে যাওয়া হতো। পারিবারিকভাবে যেতাম, এক মাস-দুমাস থাকতাম। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই কেটেছে ঢাকায়।

আকাশ: আপনার স্কুল…
রফিকুন নবী:
পুরান ঢাকায় পগোস হাইস্কুল। ওই সময় স্কুলটি নামিদামি ছিল। সেখানে যারা পড়েছেন, পরবর্তীকালে তাদের অনেকেই নামিদামি হয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় নামটিই যদি বলি, সেটি হলো কবি শামসুর রাহমান। আমাদেরও অনেক বছর আগে উনি সেখানে লেখাপড়া করেছেন। তখন ইস্ট পাকিস্তান, চিফ মিনিস্টার ছিলেন আতাউর রহমান। আইয়ুব খান আসার আগের কথা। এ রকম অনেকেই ছিলেন, নাম মনে নেই। নামকরা হিন্দু ছাত্র ছিলেন, কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। নামগুলো তো চট করেই মনে পড়বে না। কিন্তু অনেক বড় বড় ছিল সেসব নাম। পগোস স্কুল ভালো ছিল, এখানে মাইকেল মধুসূধন দত্ত ঢাকায় এসে পগোস স্কুলে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এসব অবশ্য শোনা কথা। সেই সময় বড় স্কুল অনেকগুলোই ছিল, শুধু পগোস স্কুল নয়। ম্যাট্রিকের রেজাল্টের দিক দিয়ে, অনেক গভর্মেন্ট স্কুল ছিল খুব ভালো। যেমন মুসলিম হাইস্কুল, কলেজিয়েট হাইস্কুল, নবাবপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল ছিল।

আকাশ: কিবরিয়া স্যার কি নবাবপুর হাইস্কুলের টিচার ছিলেন?
রফিকুন নবী:
উনি প্রথমে নবাবপুর হাইস্কুলের টিচার ছিলেন। পরবর্তীকালে কাজী আব্দুল বাসেদ স্যার ছিলেন, মোর্তুজা বশির স্যারও ছিলেন ওই স্কুলের টিচার। আবদুল মতিন ছিলেন। একটা সময় মোস্তফা আজিজ ছিলেন। এ রকম আরও অনেকেই ছিলেন।

আকাশ: স্কুলের শিক্ষাজীবন কেমন ছিল?
রফিকুন নবী:
জেনারেল লাইনের লেখাপড়া যা ছিল। টিচারেরা চান্স পেলে তো মারতেনই। এটা তখন আমাদের গায়ে লাগত না।

আকাশ: কখনো মার খেয়েছেন?
রফিকুন নবী:
হ্যাঁ, অবশ্যই। মার তো খেয়েছিই। এমন কোনো ছাত্র তখন থাকত না যে, টিচারের হাতে মার খায়নি। অনেক কারণেই মার খেতে হতো। স্যারদের সেই মারের পেছনে যে কাজটি হতো, শুভবুদ্ধি যাতে হয় ছাত্রদের। লেখাপড়া তো আছেই, এমনিতে বুদ্ধিসুদ্ধি যাতে বাড়ে, একটু দুষ্টুমিটুষ্টুমি করলে বিরক্তিকর চরিত্র যাতে না হয়। চরিত্র গঠনের দিকে বেশি মনোযোগ থাকত স্যারদের। যে, ভালো মানুষ হও। লেখাপড়া শিখলেই কেবল হয় না, সঙ্গে নিজেকেও তৈরি করতে হয়। সেই ব্যাপারস্যাপার আগে স্কুলে ছিল। তবে মারের যে মাত্রা, সেটি মাঝেমধ্যে যে বেশি হতো না, তা না। বেশিও হতো।

আকাশ: আপনি যখন শিক্ষক হয়েছেন তখন কি ইচ্ছে হয়েছে বেয়ারা ছাত্রদের মার দেয়ার ইচ্ছে হয়েছে কখনো?
রফিকুন নবী:
না না, আমি তো কলেজের মাস্টার। কলেজে গিয়ে তো মারপিট হয় না। চারুকলার মাস্টারেরা মোটামুটি, কোনোরকম। চারুকলার লেখাপড়া এমন লেখাপড়া, তখন তো ম্যাট্রিক পাস করে আমরা ঢুকতাম, কেউ ইচ্ছে করলে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেও আসতে পারত। আমি ম্যাট্রিক পাস করেই ঢুকেছিলাম। আমি তখন একদম নতুন একটা বিষয়ের মধ্যে ঢুকলাম। কারণ যা কিছু পড়ানো হয়, যা কিছু আঁকানো হয় এগুলোর প্র্যাকটিস তো কখনো স্কুলে ছিল না। স্কুলে যে ছবি আঁকতাম ছোটবেলায়, সেসব তো নিজে নিজে। আর্ট কলেজ আছে, আর্ট কলেজ হয় এ রকমটিও জানতাম না একটা সময় পর্যন্ত।ক্লাসে, স্কুলে ড্রয়িং ক্লাস করতাম। ড্রয়িং ক্লাসে যে স্যারেরা ক্লাস নিতেন, তারা তো শিল্পী ছিলেন না। কিংবা শিল্পী মনে মনে হলেও শৈল্পিক যে গুণাবলি সেগুলো থাকলেও উনারা আর্ট কলেজে কিংবা এ রকম কোথাও লেখাপড়া করেননি। কিন্তু তারা খুব ভালো মাস্টার ছিলেন। ছবি আঁকারই একমাত্র ক্লাস যেখানে কখনো মার খেতে হতো না। যার যার মতো করে ছবি আঁকা হতো। এইখানে আমার মনে আছে, ওই স্যারদের কথা ভুলি না। বেশ মজার মজার গল্প করতেন আর ছবি আঁকাতেন।

আকাশ: এমন কোনো শিক্ষক কি রয়েছেন, যিনি আর্স্টিট হতে আপনাকে উৎসাহিত করেছেন?
রফিকুন নবী:
হ্যাঁ, অবশ্যই আছেন। একজন ছিলেন মনিন্দ্র চন্দ্র পাল। উনি উৎসাহ দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলোÑ আমাদের স্কুলের আরবি ও উর্দু পড়ানোর জন্য যে মৌলভি স্যাররা ছিলেন, তার মধ্যে ছোট মৌলভি যিনি ছিলেন তার নাম বোধ হয় ছিল শাহাবুদ্দিন। উনি আমাদের ড্রয়িং ক্লাস নিতেন। উনি উৎসাহিতও করতেন। যারা ক্লাসে ছবি আঁকতাম, আমি যে একাই আঁকতাম কিংবা একাই ভালো আঁকতাম তা নয়। আরও অনেক ক্লাসমেট ছিল যারা ভালো আঁকত। সবাইকেই তিনি উৎসাহিত করতেন। আমাদের হেডমাস্টার ছিলেন মনিন্দ্র ভট্টাচার্য, কড়া হেডমাস্টার। তার ইংরেজির অনেক বইপত্র ছিল, গ্রামারটামার ছিল। উনিও যখন জানতে পেরেছিলেন, দেয়াল পত্রিকা, এইটা-সেইটা কিছু করতে হতো সেসব যখন তিনি জানতে পেরেছিলেন তখন আমাদের উৎসাহিত করেছিলেন। বলেছিলেন, আর্ট কলেজ টলেজ পেলে ভর্তি হয়ে যাস। আর্ট কলেজে লেখাপড়া করলে ভালো করবি। ওয়াহেদ স্যার নামে একজন ছিলেন উনি আমাদের ড্রয়িং ক্লাস নিতেন। তিনজন আমাদের ড্রয়িং ক্লাস নিতেন। ওয়াহেদ স্যার ছিলেন আমাদের স্কুলের স্কাউট টিচারও। অন্য বিষয়ে পড়ানোর পাশাপাশি তিনি আমাদের স্কাউট করাতেন। আমি ক্লাস এইট, নাইন, টেন এই তিন বছর ওই স্কাউটের ট্রুপ লিডার ছিলাম। আমাদের ট্রুপের নাম ছিল টুয়েন্টিফোর ট্রুপ। প্রতিটি স্কুলের আলাদা নাম্বার থাকত। আমরা হলাম টুয়েন্টিফোর। এসব অভিজ্ঞতা ছিল স্কুল লাইফে। আমাদের স্কুল লাইফ খুব মজার ছিল। ফ্রি যাওয়া-আসা করতাম তো, এখনকার মতো বাবা-মা বসে থাকত না স্কুলের মাঠে। একা একা বা পাড়ায় আর যারা থাকত, সবাই মিলে হৈ-হুল্লোড় করতে করতে স্কুলে যেতাম। স্কুলের খেলাধুলা শেষ করে একেবারে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতাম। বেশ একটা স্বাধীনতা ছিল। সেই সব এখন আর নেই। এখনকার ছেলেমেয়েদের সব সময় চোখে চোখে রাখার ব্যাপার থাকে অভিভাবকদের মধ্যে। আমরাও আমাদের বাড়ির ছেলেমেয়েদের চোখে চোখে রাখি। আমরা অনেক ভালো একটা সময় কাটিয়ে এসেছি ছোটবেলায়। কিন্তু সাতচল্লিশের পর থেকে কন্টিনিউয়াস একটার পর একটা আন্দোলন হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনÑ এভাবে এভাবে আন্দোলন চলল। স্কুল লাইফে দেখেছি ভাষা আন্দোলন, তখন তো ভাষা আন্দোলনই সবচেয়ে বড় পাওয়াফুল আন্দোলন। যে আন্দোলন শেষে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ পর্যন্ত ইনস্পায়ার করেছে। এই সব আন্দোলন দেখেছি। পরবর্তীকালে কলেজে আসার পর অনেক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের পরবর্তীকালের জীবন তৈরির ব্যাপারে খুব সহায়ক ছিল। আমি এখনো মনে করি ঢাকায় থাকা, ঢাকায় লেখাপড়া করা, এনলাইটেন্ট লোকজনের কাছাকাছি যাওয়ার, ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পাওয়াÑ অনেক কিছুই। কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্রের মানুষ, সাংবাদিক নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে পরিচিতি হওয়া, ওঠাবসা করা, একসঙ্গে পরবর্তী সময়ে কাজ করা। যেসব আন্দোলন ছিল তখন তাতে যুক্ত থাকাÑ এগুলো একটা বিরাট ব্যাপার ছিল। ষাট দশকের শুরু থেকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যেসব সমালোচনামূলক ব্যাপার ছিল, সেইগুলোর প্রতিবাদে আন্দোলন তৈরি হয়েছিল। সবকিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এসব খুব কাজে লেগেছে বলে আমার মনে হয়।

আকাশ: আপনার ম্যাট্রিকুলেশন কত সালে?
রফিকুন নবী:
ফিফনি নাইনে আমি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেছি। রেজাল্ট আউটের পরই আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম, সেটি খুব সম্ভব আগস্ট মাসে।

আকাশ: আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজনরা বিরোধীরা করেননি?
রফিকুন নবী:
এই জায়গায় আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলেনি। আমার বাবা নিজে ছবি আঁকতেন। ছবি আঁকার ওপর তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তবে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজে পরীক্ষা দিয়েছিলেন আমাদের আবেদিন স্যারদের সঙ্গে। পাস করেছিলেন। ভর্তি হবেন, হঠাৎ দাদা মরে যাওয়ায় সাংসারিক কারণে আর আর্ট কলেজে পড়া হয়নি। কিন্তু ওই একটা ঘটনায় উনার জীবনটা বদলে যায়। উনি আর শিল্পী হতে পারেননি। তবে ছবি আঁকতেন। বড় বড় শিল্পীর ছবি আঁকা দেখেছেন। দেশ-বিদেশের আর্টের ওপর যারা পড়াশোনা করেছেন তাদের বইপত্র দেখতেন। পড়তেন। আমি যতটা না ইচ্ছে প্রকাশ করেছি, তারচেয়ে আমার বাবা বেশি আগ্রহী ছিলেন আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে। আর্ট কলেজে যেতে আমার কোনো অসুবিধে হয়নি।

আকাশ: আর্ট কলেজের ভর্তির পরের সময়টা আপনার কেমন কেটেছে …
রফিকুন নবী:
ভর্তি পরীক্ষায় অবশ্যই পাস করতে হয়েছিল। আমাদের সময়ে ভর্তি পরীক্ষা এমন ছিল যে, আগের যেকোনো সময়ের আঁকা দুটি ছবি জমা দিতে হতো ফরমের সঙ্গে। ভর্তি পরীক্ষার সময় আবার কিছু একটা আঁকতে দিবে। তখন দেখা হতো যে ভর্তি পরীক্ষায় যা আঁকলাম, আর যেটি ফরমের সঙ্গে জমা দিলাম তার কোন মিল আছে কি না। ড্রয়িং বেশি করতে হতো লাইট এন্ড শেড দিয়ে…। আমাদের আঁকতে দিয়েছিল একটা কলসি, বোঝাতে হবে এটা যে গোল। ভেতরে আবার ড্রয়িং ছিল। বেশ কঠিন।

আকাশ: ভর্তি হওয়ার আগে এ রকম কোনো প্রস্তুতি কি ছিল?
রফিকুন নবী:
ক্লাস নাইনের আগে আমি জানতামই না যে আর্ট কলেজ আছে। এমনি বলাবলি হতো, বাবা বলতেন দরকার হলে কলকাতায় গিয়ে পড়বি। না হয় বিলেত-টিলেত পাঠিয়ে দেব। বাবার মুখেই একদিন শুনলাম যে ঢাকায় আর্ট কলেজ রয়েছে জয়নুল আবেদিন সাহেবদের, সেখানেই তো ভর্তি হতে পারিস। আর্ট কলেজ তো তখন রমরমা অবস্থা। পুরো পাকিস্তানের নামকরা শিল্পী যারা, এর মধ্যে সাতচল্লিশের আগেই যারা নামকরা ছিলেন। জয়নুল আবেদিন স্যার, সফিউদ্দিন স্যার, কামরুল হাসান, আনোয়ারুল হক। সবাই পুরুস্কারপ্রাপ্ত। এবং আবেদিন স্যার তো তখন অবিভক্ত ভারতেই বিরাট শিল্পী। খুব ভালো ছাত্র হিসেবে নাম ছিল। লেখাপড়া করতে করতেই উনি শিক্ষক হয়ে গেলেন- এমন প্রতিভাধর। সর্বভারতীয় পর্যায়ে পুরুস্কার তো পাচ্ছিলেনই। এই মানুষদেরই আমি পেয়েছিলাম আর্ট কলেজে। জয়নুল আবেদিন স্যার ছিলেন অধ্যক্ষ। সফিউদ্দিন স্যার বাইরে ছিলেন, আমরা ভর্তি হয়ে তাকে দেখলাম উনি ফিরে এসেছেন। কামরুল হাসান স্যার বছর দুয়েক পরে চলে গেলেন ডিজাইন সেন্টারে। আনোয়ার স্যার ছিলেন একেবারে সরাসরি ড্রয়িং পেইন্টিংয়ে। তাদের ছাত্ররা আবার টিচার ছিলেন, যারা পরবর্তীকালে দেশের বিরাট শিল্পী।

আকাশ: আপনার সঙ্গে, ওই ব্যাচে আর কারা কারা ভর্তি হলেন, সে রকম কারও নাম কি মনে আছে?
রফিকুন নবী:
টেলিভিশনে ছিলেন আনোয়ার হোসেন। উনি কিছু ছবিটবি আঁকেন মাঝেমধ্যে। এক্সিবিশনও করেন। কেরামত মওলা আছেন, সে নাটকে। আর্টিস্ট হিসেবে আর কেউ সেভাবে এগিয়ে আসেনি। আঁকে সবাই, তবে নিজে নিজে। আমাদের টিচার ছিলেন যারা, মোহাম্মদ কিবরিয়া ছিলেন, কাজী আবদুল বাসেদ ছিলেন, আবদুর রাজ্জাক ছিলেন, আমিনুল ইসলাম ছিলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন, রশিদ চৌধুরী ছিলেন। দেশের সবচেয়ে বড় যে শিল্পীরা রয়েছেন, শিল্পকলার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখে গেছেন, তারা প্রত্যেকেই আমার শিক্ষক ছিলেন। সেই দিক দিয়ে লাভবান হয়েছি খুব। তবে তাদের মতো বিশাল কিছু হতে পারা, সেটি বড়ই কঠিন।

আকাশ: আপনি তো আপনার শিক্ষকদেরও ছাড়িয়ে গেছেন…
রফিকুন নবী:
সেটি আপেক্ষিক ব্যাপার। একেকজন একেক দিয়ে বিচার করে। শিল্পীদের ক্ষেত্রে এ ঘটনাটি ঘটে। কেউ প্রিন্ট বিষয়ে বিশাল, মিডিয়ায় কেউ বিশাল। সব মিলিয়ে আমি খুব লাভবান হয়েছি বলেই মনে করি। তাদের সান্নিধ্য পাওয়া, একসময় তাদের সহকর্মীও হতে পেরেছিলাম। সেখানেও অনেক কিছু শিখেছি। কী করে ছাত্রদের পড়ানো হয়, কী শেখানো হয়, ছাত্রদের জন্য কতটা কী ভালো হবে এসব আমি শিখতে পেরেছি। সেটি শিখতে পেরেছিলাম বলেই প্রায় সাড়ে ছিচল্লিশ বছর এই শিক্ষকতা করেছি। প্রথম দিকে খুবই বিরুক্তিকর মনে হতো। তখন ছাত্রদের মতনই আমি, যখন মাস্টার আমি। কাছাকাছি বয়স। তাদেরকে তো আমাকে পড়াতে হবে। এটি খুব কঠিন ছিল। পরবর্তীকালে আস্তে আস্তে ঠিক হলো, সিনিয়র মাস্টার হলাম। মাথার ওপরে থাকা ছাদগুলো আস্তে আস্তে সরে গেল। আমাকেই তখন ছাদ হতে হলো। এভাবে সময় কেটেছে। অনেক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে আমার। এখন চট করে কেউ আসলে সবাইকে চিনতেও পারি না। যেমন তোমাকেও চিনতে পারলাম না।

আকাশ: তখনকার আর এখনকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পার্থক্য কী?
রফিকুন নবী:
ছাত্র ছাত্রই। তবে বিহেভিয়ার তো সেভাবে বিচার করিনি। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত চারুকলায় থাকতাম স্যারদের আন্ডারে, বাইরের লোক চারুকলায় ঢুকতে পারত না। আমাদের বন্ধুবান্ধব তো নয়, স্যারদের বন্ধুবান্ধব আসলে আগে থেকেই জানিয়ে রাখা হতো। হৈ হুল্লোড় ছিলই না। আর্ট কলেজে এত ছাত্র পড়ে, কেউ বুঝতে পারত না। সাড়ে চারটে সময় ছুটি হলে পাঁচটার মধ্যে সবাইকে বের হয়ে যেতে হতো। থাকা যেত না, যারা দারোয়ান ছিলেন তারা খুঁজে খুঁজে বের করতেন। আমরা নিজেরাই বাহির হয়ে যেতাম। এখন যেভাবে ভেতরেও আড্ডা দেয় সে রকম কিছু তখন ছিল না। ছাত্র-ছাত্রী পড়ত। যেহেতু ছাত্রী পড়ত সেহেতু কড়াকড়িটা একটু বেশি ছিল। কারণ সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তো করা হয়েছিল, কোনো রকম যাতে বহিরাগত কেউ না আসে, ছাত্র-মাস্টারেরাও যাতে কোনো করম ঝামেলা না করে, সবকিছু মিলিয়ে নিয়মটা খুব ভালো ছিল। এখন ভুলেই গেছি এ রকম একটা সময় ছিল।

আকাশ: এখন ছাত্র-শিক্ষকেরা নানা দলে বিভক্তির কথা আমরা শুনি। তখন কি এ রকম রাজনৈতিক কোনো বিভক্তি ছিল ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে?
রফিকুন নবী:
সেটি ছিল। তখনও ছিল। একটা ছিল ছাত্র ইউনিয়ন, একটা ছিল ছাত্রলীগ, আর ছিল আইয়ুব খানের তৈরি ছাত্রগোষ্ঠী এনএসএফ। ছাত্র ইউনিয়ন ছিল কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। ছাত্রলীগ ছিল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন। তবে এখনকার মতো মারামারি, দা-ছুরি নিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করত না। তবে শুরু হতে যাচ্ছিল এনএসএফ যারা করত তাদের দিয়ে। তাদেরকে যেহেতু সেন্ট্রাল সরাসরি প্রমোট করত, সে কারণে পাওয়ার দেখানোর চেষ্টা হতো। তার পরেও এই সময়ের মতো সে রকম কিছু ছিল না। আমাদের চারুকলা ছিল। মোটামুটি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিল আমাদের ছাত্ররা। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল যে রাজনীতি সেটির মধ্যে চারুকলা ঢুকেনি। এটি ঢুকল এই যে তিরাশি সালে। এর আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যাপারস্যাপারগুলো একান্ত ব্যক্তিগত। চারুকলাভিত্তিক। চারুকলার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনা তখন ঘটেনি। যে যেই পার্টিই করুক, চারুকলার পরিবেশ, চারুকলার শিক্ষাদীক্ষা ব্যাহত হয় এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আকাশ: ওই সময় চারুকলায় যে শিক্ষক নিয়োগ হতো, তা কি সরাসরি আবেদিন স্যার ডিল করতেন?
রফিকুন নবী:
না। এটি টিচারদের একটি কমিটি ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের স্যাররা খুব নজরে রাখতেন। থার্ড ইয়ার থেকে শুরু হতো তাদের এই নজর, যে প্রয়োজনে কে মাস্টার হতে পারবে পরবর্তীকালে। সেই রকম একটি বাছাই তাঁরা মনে মনে করে রাখতেন। ছাত্ররা জানতাম না কেউ। পাস করার পরে যদি কেউ ফার্স্ট ক্লাস পেত, তখন তার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হতো। তবে ফার্স্ট ক্লাস পেলেই হতো না, তার যদি কোনো চারিত্রিক দাগ থেকে থাকে, অন্য ছাত্রদের সঙ্গে কেমন ওঠাবসা করেছে- অনেক কিছু তারা বিচার করত। যখন মাস্টার হিসেবে নেওয়া হতো, তখন সেসব ক্রাইটেরিয়া মিলিয়েটিলিয়ে দেখে তার পরই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতেন। যারা মাস্টার হতেন স্বভাবতই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করতেন। কারণ তিন-চার বছর ধরে পরীক্ষার মধ্যে ছিলাম, লেখাপড়া পরীক্ষার বাইরে। লেখাপড়া যে পরীক্ষা সেটির বাইরেও নজরদারির পরীক্ষাও পাস করতে হতো। সেভাবে মাস্টার নেওয়া হতো। তারপর পাবলিক সার্ভিস কমিশন আসল।

আকাশ: শিল্পী মানেই তো সার্টিফিকেটসর্বস্ব কিছু নয় স্যার…
রফিকুন নবী:
শিল্পী মানে বিশাল ব্যাপার একটা। আরও ছবি আঁকার শিল্পী। যারা ক্লাসিক্যাল গায়, ইন্সট্রুমেন্টাল বাজায় ও ছবি আঁকার শিল্পীরা হলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এমনিতে যে গান, শ্র“তিমধুর গান, শুনতে ভালো লাগবে সেগুলোও ক্রিয়েটিভ। কিন্তু সেখানে সহায়ক ভূমিকায় অনেকগুলো থাকে। সুরকার থাকেন, গীতিকার থাকেন, কন্ডাক্টর থাকেন- কত কিছু থাকেন। কিন্তু শিল্পকলার একজন শিল্পী যখন তার ক্যানভাসে বসে তখন সহায়তা দেওয়ার জন্য কেউ থাকে না বা নেই। এখানে একক একটা রাজত্বের মধ্যে থাকতে হয়। একক চেষ্টায় সমাধান করতে হয়। তুলি, রং, ক্যানভাস, ভাবনা, দক্ষতাটাও নিজের। একটা বিশাল ঘটনা। এটি হলো একটু অন্য ধরনের ব্যাপার। এখানে হারিয়ে যাওয়ার অনেক রকম দরজা খোলা থাকে। তেমনি উপরে ওঠারও অনেকগুলো দরজা থাকে। নিজেকে নিজের কাজ দিয়ে, মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে- সবকিছু মিলিয়ে তাকে উঠতে হয়। সবকিছু নিয়ে নিজেকে তৈরি করতে হবে। তাহলেই কেবল নিজের একটা পিঁড়ি পাবে।

আকাশ: চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু এ দেশে?
রফিকুন নবী:
এই সরকার যখন আগেরবার (৯৬) এলো, তখন আমি বলেছিলাম আমাদের চারুকলার যে অবস্থা, দেশে-বিদেশে তার যে গ্রহণযোগ্যতা, এত কলেজ হয়েছে, পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে চারুকলা খোলা হচ্ছে। সবকিছুকে নিয়ে, টুকরো টুকরো করে না করে একটা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারত। এ রকম একটি সাজেশন আমরা দিয়েছিলাম সেটি নিয়ে আর এগোনো হয়নি। আমার এখনো ধারণা, এটি করলে খুব ভালো হবে। একটা সময় আসবে এটি দিতে হবে। ফাইন আর্ট ইউনিভার্সিটি। জাপান, থাইল্যান্ড, কোরিয়াসহ অনেক দেশেই এ রকম ইউনিভার্সিটি রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে কিছু টিচার রয়েছে চারুকলা সম্পর্কে আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু লার্জস্কেলে যখন বলে কি করেন ভাই আপনারা, এই দুটি দাগ দেন, একটু রং লেপেটেপে দিলেন, দিয়েই পিএইচডি পর্যন্ত চলে যাচ্ছেন। এসবের যে কত উত্তর দিতে হয়েছে। এটি কোনো খারাপ ধারণার জন্য যে বলেন তা নয়। এটি একধরনের অজ্ঞতা। যারা আর্ট এর ওপরে বই পত্র পড়েছে, গ্যালারি দেখেছে, তারা এটির মর্ম বোঝে। কিন্তু অধিকাংশকেই এটির মর্ম বোঝানো কঠিন। এ যে শুধু আমাদের দেশেই তা নয়, আমি ইন্ডিয়াতেও দেখেছি। এমএ পাস করলে কোথাও একটা চাকরি হতে পারে, এখানে কী হবে? এমনও শোনা যায়, মাঝেমধ্যে দু-একজন নামটাম করলে সেটি দিয়ে কি সবকিছু হবে? এগুলো ফেনোমেনা। তার সুরাহা আছে বলে আমার মনে হয় না।

আকাশ: স্কুল লেবেলে আর্ট সংযোজন করা হচ্ছে। এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
রফিকুন নবী:
স্কুলে এখন চালু হয়েছে। আর্ট কলেজ থেকে পাস করে তারা টিচার হবে। এখানেও একটা গোলমাল রয়েছে। একজন এমএ পাস করেছেন। টিচার ট্রেনিং থেকে বিটি করেছেন। তাদের কেউ বা করেনিই হয়তো। একজন বিএ পাস, এমএ পাস টিচার তারা…। ড্রয়িং টিচার তো নয়, চারুকলার টিচার তাদেরকে কোনো মানুষটানুষ মনে করা হয় না।

আকাশ: আর্ট কলেজে ভর্তি হলেন ’৫৯ সালে। পাস করলেন চার বছর পর। পাস করেই কি গ্রিসে গিয়েছিলেন?
রফিকুন নবী:
না। গ্রিসে গিয়েছি তিয়াত্তর সালে। ছিয়াত্তরের শেষে ফিরে এলাম।

আকাশ: গ্রিসের ওই ব্যাপার নিয়ে কিছু বলুন…
রফিকুন নবী:
গ্রিসে যাওয়ার আগে যতটুকু জানতাম প্রাচীন গ্রিস। পুরো গ্রিসের ব্যাপারটাই ছিল প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন। সারা পৃথিবীকে নানা কিছু শিখিয়েছে। সেটিই মাথায় ছিল। গ্রিস কী রকম সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানা ছিল না। জানতেন আমাদের কিবরিয়া স্যাররা। সেখানে বড় বড় সব শিল্পী রয়েছেন। আধুনিক মানুষ। আধুনিক শিল্পচর্চা। আধুনিকতা নিয়ে কাজ করছে। এখানে আমরা যা শিখি, যা শেখাই সারা বিশ্বে কিন্তু একই ঘটনা ঘটে। এখন এই মুহূর্তে ইন্টারনেটের যুগে নানা রকম ব্যাপার রয়েছে সেগুলো অন্য রকম। ওভারঅল আমরা যা কিছু করি, সর্বত্র একই প্র্যাকটিস হয়। আমার তো একটা গ্রহণযোগ্যতা লাগবে, ওই গ্রহণযোগ্যতা হলো এই কারণে যে আমি যা করি সেটি তাদের কাছে ভালো লেগেছে। আমি তো পেইন্টিংসয়ের। সেখানে আমার প্রফেসর, øাতক পাস করা আরও শিক্ষকও ছিলেন, যারা উডকাঠ করতেন। খুব উন্নত একটা ব্যাপারস্যাপার, সেটি আমার মনে হলো আমি উডকাটে ট্রান্সফার হয়ে যাই। কঠিন ছিল।

আকাশ: উডকাঠ করার অভিজ্ঞতা কি আগে থেকে ছিল আপনাদের?
রফিকুন নবী:
সেটি আগেই ছিল। আমাদের সময় সাবসিডিয়ারি নিতে হতো। সেখানে উডকাঠ, এচিং, লিথোগ্রাফি সবই আমরা করেছি। সেই জ্ঞান ছিল। এক্সপেরিমেন্টের ওপর যাওয়া তো, ঝোঁক সবকিছু মিলিয়ে একটা দিকে যাওয়া। উডকাঠ

আকাশ: উডকাঠের যে টেকনিক্যাল ব্যাপার, উডকাঠের আর্টিস্টিক ভ্যালু সেটিকে কীভাবে পেইন্টিংয়ের সঙ্গে…
রফিকুন নবী:
তুমি ছবি করবে। একটা ছবি দাঁড় করাবে। সেই ছবিটা টেকনিক্যালি, ভাবগত দিক, করণকৌশলগত দিক সবকিছু মিলিয়ে ওটাকে তোমাকে দাঁড় করাতে হবে। এই জিনিসগুলো তুমি পেইন্টিংয়ে করো, উডকাঠে করো, যেকোনো মাধ্যমেই করো সেটি তোমার থাকতে হবে। তুমি একজন আর্টিস্ট, তোমার হাত দিয়ে যা হবে, যা বেরোবে ছবির যা যা প্রয়োজন সেসব থাকতে হবে। আমি যখন অ্যাক্রিলিকে কাজ করছি, অ্যাক্রিলিকের যে স্বভাব সেটি কতখানি রাখা যায় এটি যখন ভাবি, যখন অয়েলে করি যে ঘটনা ঘটানো যায় সেগুলো থাকা উচিত। উডকাঠেও তাই। যেকোনো শিল্পীর নিজস্ব একটা ধরন থাকে, বৈশিষ্ট্য থাকে, যখন যেভাবেই কাজ করুক সেটি তো আসবেই।

আকাশ: কোন মিডিয়াতে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
রফিকুন নবী:
এটি ওইভাবে বলা যাবে না। বলা যায় না। যখন যেই মিডিয়াতে কাজ করি, সেটিই ভালো লাগে। অ্যাক্রিলিক হাতের কাছে অ্যাক্রিলিকেই কাজ করি। অয়েল হলে অয়েলেই কাজ করি। তবে উডকাঠ করতে গেলে আলাদা করে সাজসজ্জা করে নামতে হয়। এটা আলাদা একটা মিডিয়া। কাঠ আনতে হবে, কিনতে হবে, প্রিপেয়ার করতে হবে, কাটতে হবে, প্রিন্ট করতে হবে। বেশ লম্বা প্রক্রিয়া। সেটির জন্য আলাদা সাজসজ্জা। আমি মেশিনে প্রিন্ট করি না, হাতে প্রিন্ট করি। এটি বেশ খাটনিসাপেক্ষ। হাতের একটা আলাদা মজা আছে। আমি যখন রং দিই হাতে ঘষলে কতটা রেজাল্ট পাব সেটি আমি জানি। হাতে কাটার পেছনে কারণ হলো আমি তো অনেক বড় বড় উডকাঠ করেছি, এখানে শুরু করলাম অনেক বড়। এখন তো অনেক বড় হয়, সবাই করে। বড় বড় করলে মেশিন তো আর এত বড় নেই। মেশিনের বেড এত বড় নয়। হাতে করলে সুবিধা আছে। অসুবিধেও আছে। কোথায় কতখানি রঙ দেব, কত ওজন দেব এই ব্যাপারগুলো হাতে করতে গেলে ভালো। হাতে করলে উঠিয়ে দেখতে পারি, মেশিনে দিলাম চলে গেল দেখার সুযোগ নেই।

আকাশ: বিচিত্রায় টোকাই দিয়ে কার্টুন শুরু করলেন। ধারণাটা কিভাবে এলো?
রফিকুন নবী:
টোকাইর নাম দিয়ে কাজ করতাম। এগুলো অনেক বলেছি। একটা ক্যারেক্টর দাঁড় করাতে হবে। একটা ছেলে ধরলাম যে ছোট মুখে বড় কথা বলবে। কথাগুলো ডেফিনেটলি আমার হাত দিয়ে যাবে। কিন্তু বলছে ও। এটি যাতে মানানসই করে বলা যায় সেইভাবেই তৈরি করা। এটি অনেক আগে থেকেই আঁকতাম আমি। ছুটছাট।

আকাশ: কার্টুনের দিকে আগ্রহী হলেন কেন?
রফিকুন নবী:
এগুলো বলেছি অনেক। মজা হবে না। আন্দোলন। এত বলা হয়েছে মুখস্থ হয়ে গেছে পাঠকের। সবাই জানে। আমাদের যে আন্দোলনগুলো হতো ষাটের দশকে, আমাদেরকে পোস্টার আঁকতে হতো। এখনকার মতো পোস্টার ছাপানো কঠিন ছিল। আমরা সেই পোস্টারগুলো হাতে আঁকতাম। হাতের আঁকার একটা মজা ছিল। হাতে রিয়েলিস্টিকেলি প্রথমে আঁকা শুরু হয়েছিল আমাদের। পরবর্তী সময়ে এমন সব রাজনৈতিক ঘটনা, নানা ধরনের বিষয় আসতে শুরু করল সেগুলো ব্যঙ্গাত্মক হলে ভালো হয়, তখন কার্টুন আঁকা শুরু করলাম। এমনিতেই ছোটবেলা থেকেই একটা ঝোঁক থাকে। আমারও ছিল। বাইরের যে ইলাস্ট্রেটর পত্রিকা আসত, অনেক কার্টুন দেখতাম স্কুল লাইফ থেকেই। সেখান থেকে একটা ইন্টারেস্ট ছিল। পত্রপত্রিকায় তখন এত কার্টুন বের হতো না, এখন মুড়িমুড়কি মতো বের হয়। অত্যন্ত ভালোও করে। তখন হাস্যরস ছাড়া, রাজনৈতিক কার্টুন করা কঠিন ছিল। কোনো পত্রিকা ছাপতে চাইত না। ছাপত শুধু ইন্ডিয়ান পলিসিকে খোঁচা মেরে কিছু করলে। পাকিস্তান বনাম ইন্ডিয়া। পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে ওইটা করা। সেগুলোতে আমরা যেতাম না।

আকাশ: ষাটের দশকের আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধ চিত্রকলাকে কীভাবে প্রভাবিত করল?
রফিকুন নবী:
এখানে দুটি ভাগ। পাকিস্তান আমলে না ঢুকলে বোঝা যাবে না সময়টি কেমন ছিল। চিত্রকলার মধ্যে রাজনীতি ঢোকানো কঠিন ছিল। পলিটিক্যালি কঠিন ছিল। প্রশাসনিকভাবে কঠিন ছিল। ছবি জগতে বেশি রাজনীতি ঢোকাতাম না। ঢোকালেও খুব প্রচ্ছন্ন কিছু। যা কিছু রাজনৈতিক কথাবার্তা বলতে হবে, যা কিছু সংস্কারের কথা বলতে হবে সব ছিল পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার এই সবের মধ্যে।

আকাশ: আপনার ছবিতে অনেক বেশি ফিগারের প্রাধান্য দেখা যায়।
রফিকুন নবী:
প্রতিজনের আলাদা আলাদা ধরন থাকে, একেকটা স্টাইল অব এক্সিকিউশন। তোমার ভাবনা চিন্তা যা কিছু লাগে মিলিয়ে তোমার এক্সকিউট করবে। তুমি স্টিললাইফ একরকম ভাবতে পারো, সিগারস দিলে আরেক রকম ভাবতে হচ্ছে। ওইভাবেই হয়। ইদানীং কেন যেন মনে হচ্ছে মানুষ নিয়ে কাজ করি। এই ভিড়, একটার সঙ্গে সবকিছু মিলে। সেটি করতে গেলে অন্য রকম ভাবনাও ওর মধ্যে জুড়ে যায়। ভেবে করি, না ভেবে করি।

আকাশ: সব সময় দেখি যে আপনার ছবির মধ্যে একধরনের স্টোরি ক্রিয়েট হয় …
রফিকুন নবী:
স্টোরি ঠিক এভাবে বলব না। প্লেসমেন্ট অব ফিগার, কমপ্লিমেন্ট কীভাবে তৈরি হয়। এখন তুমি দুটি খেটে খাওয়া মানুষের অবয়ব আঁকলা, এটি তো আর স্টোরি হলো না। খেটে খাওয়া মানুষ। এখানে তো কোনো স্টোরি নেই। স্টোরি হলো সেটিই যখন তুমি একটি বক্তব্য পেশ করো। একেবারে… আর্টও হতে পারে।

আকাশ: এমন কি চিন্তা করেছেন ফিগারেটিভ বাদ দিয়ে…
রফিকুন নবী:
একটা সময় তো অ্যাবস্ট্রাক্ট করেছি আমি। করে তারপরে ফিগারে চলে এসেছি। আজ ফিগার করছি, কাল যে আবার মডার্নে চলে যাব না এমন কোনো কথা নেই। চলেও যেতে পারি। এই মুহূর্তে এভাবে কাজ করতে ভালো লাগছে, ভালো লাগাটাই হলো আসল। একটা সময় বেশ খাটাখাটনি করে করছি।

আকাশ: শিল্পী না হলে কী হতে চাইতেন?
রফিকুন নবী:
এটি কখনো ভাবিনি। এটি পারিবারিকভাবে জেনে এসেছি। ছবি আঁকাটাই মাথায় ঢুকেছে। আর কিছু হওয়ার মতো কিছু ভাবিনী। যদিও অনেক কিছু আছে। আমি যদি ম্যাট্রিকে অঙ্কে আর বিশ-বাইশ মার্ক বেশি পাই তাহলে ফার্স্ট ডিভিশন হয়। ফার্স্ট ডিভিশন হলে পারিবারিকভাবে সবাই হয় নটর ডেম, না হয় ঢাকা কলেজে ভর্তি করত। বাবা বললেও হয়তো তখন শুনত না।

আকাশ: কোন সময়ে কাজ করতে পছন্দ করেন?
রফিকুন নবী:
রিটায়ার্ড তো, সকাল নয়টায় বসি। দুপুরে আবার নিচে নামি। দুপুরের খাবারের জন্য। আবার তিনটায় উপরে উঠে আসি। একদম চলল রাত নয়-দশটা পর্যন্ত। দশটার দিকে নেমে যাই। যতি দেখা যায় কোনো পেইন্টিংয়ে অনেক বেশি ইনভলভ হয়ে গেছি, গান শুনতে গিয়ে খুব ইনভলভ হয়ে গেলাম তখন সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তো নামি না। এটিকে সাধারণ মানুষ মনে করে আপনভোলা লোক। আর্টিস্টিরা আপনভোলা নয়। মহাশেয়ানা। আর্টিস্টরা নিজের কাজের বেলায় সাংঘাতিক সচেতন। যথেষ্ট ভাবনা চিন্তা করি নিজেদের বেলায়। কী করে একটা ছবি আঁকব, কী দাঁড়াবে, কেমন হবে, এমনকি সংসার কেমন করে চলবে। দেশের কথা যদিও চিন্তা, একবার সংসারের কথাও চিন্তা করি, বাইরের মতো বোহেমিয়ান হওয়া তো আমাদের পোষায় না।

আকাশ: সংসারের দিকে মনোযোগী হলে কাজের ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কি কোনো অসুবিধে হয়?
রফিকুন নবী:
আমি কোনো দিন বাজারে যাইনি। বাজারে যাওয়ার সুযোগ হয় না। গেলে উল্টাপাল্টা হয় বলে বাসা থেকে অ্যালাউ করে না। অধিকাংশ আর্টিস্ট সবটাই করে। তার পরেও অধিকাংশ সময় ছবিতেও দেয়। একজন আর্টিস্টের টাকাপয়সার দরকার আছে। কার্টুনে আসাও সেই চিন্তা করেই। সেখান থেকে যদি কিছু পয়সা আসে। কার্টুনিস্ট ভাব দিয়ে বিনে পয়সায় ছাপিয়ে গেলাম সেটি কেউ করবে না। আজকাল তো তা নেই। খুবই প্রফেশনাল। যখন আমরা বুঝলাম প্রফেশনাল না হলে উপায় নেই, তখন সিরিয়াস হই। ছবি কবে বিক্রি হবে তার জন্য বসে থাকলে চলবে না। ওয়াটার কালার হতো, তখনো বিক্রি হতো কিছু। আবেদিন স্যারদের গুলো তখনকার পয়সায়ই ভালো দামে বিক্রি হতো। আমাদের গুলো ছিল একরকম।

আকাশ: ছবির তখন কী রকম প্রাইস ছিল?
রফিকুন নবী:
আবেদিন স্যারদের ছবি একসময় পাঁচ হাজার ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, সেটি ষাটের দশকে। আমাদের হতো পাঁচ শ, ছয় শ করে ছাত্রদের। আমার প্রথম ছবি বিক্রি হয় ফার্স্ট ইয়ারে যখন পড়ি এনুয়েল এক্সিবিশনে সুযোগ পেলাম তখন। পনেরো টাকায়। দুটি বিক্রি হয়েছিল। পনেরো পনেরো তিরিশ টাকা। তাতেই খুশি আমরা। ছবি যে বিক্রি হয় এটিই আমরা জানতাম না। কেউ কিনবে কেন, এটি ভেবেই আমরা অস্থির। আমার ছবি কিনে করবে কিÑ এই প্রশ্ন করতাম। আমার ও হাশেম খানের একটি এক্সিবিশন হয়েছিল সিক্সটি এইটে। সেখানে বেশির ভাগ ছবিই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। নয় শ সাড়ে নয় শ, আট শ-সাত শ টাকায় ছবি বিক্রি হলো। আমরা তখন সোনায় সোহাগা। এত পয়সা রাখি কোথায়?

আকাশ: চারুকলায় কত টাকা বেতনে জয়েন করেছিলেন?
রফিকুন নবী:
১৮০ টাকা বেতনে চারুকলায় জয়েন করি।

আকাশ: এখনকার আর্ট মার্কেট নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী, কেমন দেখছেন?
রফিকুন নবী:
আর্ট মার্কেট বলে তো আমাদের এখানে এখনো কিছু হয়ে ওঠেনি, বিদেশে যে রকম কিছু ঘটনা ঘটে সে রকম কিছু নেই। এখানে একই বায়ার, তারাই ঘুরে ফিরে ছবিটবি কিনে। কখনো কিনে, কখনো কিনে না। কালেক্টরস যে কেনাবেচা সেইটা তো এখনো আমাদের এখানে জোরালোভাবে গড়ে ওঠেনি। একদল আছে তারা চুপেচাপে কালেকশনে থাকে। তাদের বড় বড় কালেকশন আছে। কিন্তু লার্জস্কেলে সেটি হয় না। আমি যত দূর জানি ডেভেলপারদের যে বাড়িঘর উঠছে, যারা ফ্ল্যাটগুলো কিনে তারা মানানসই করে থাকতে গিয়ে তখন গিয়ে ছবি কিনে। যার যে রকম টেস্ট সে রকমভাবে। একবার কিনে ফেলল ব্যস লাইফ টাইম। আর কিনে না। তার কালেকশনের দরকার নেই, ঘর সৌন্দর্যের ব্যাপার সে মাথায় রাখে। সেই ক্ষেত্রে বেশির ভাগই কম পয়সায় ছাত্রদের কাছ থেকে ল্যান্ডস্কেপ কিনে। আরেকটু বেটার অবস্থা হলে তারা তখন রুচি অনুযায়ী দামি কিনে। কালেকটর যারা জয়নুল আবেদিনের একটা ছবি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে ফেলে। এটি আচমকা, হঠাৎ হঠাৎ ঘটে। এটি বাজার বলা যাবে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অবনতির সঙ্গে সবই তো জড়িত থাকে। ছবির ব্যাপারেও সে রকমই।

আকাশ: দীর্ঘ কথোপকথনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ স্যার।
রফিকুন নবী:
তোমাকেও ধন্যবাদ।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

3 comments on “রফিকুন নবী : চিত্রকলার প্রাণপুরুষ
  1. আকাশ: ছবির তখন কী রকম প্রাইস ছিল?
    রফিকুন নবী:…পনেরো টাকায়। দুটি বিক্রি হয়েছিল। পনেরো পনেরো তিরিশ টাকা। তাতেই খুশি আমরা। ছবি যে বিক্রি হয় এটিই আমরা জানতাম না…

    এই যে পেশা সর্ম্পকে অজ্ঞতা, নিজের সর্ম্পকে অজ্ঞতা সেটার ফলাফল কি?
    গতকাল আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ এক অনুষ্ঠানে বলছিলেন ‘টাকা শিল্পীর শিল্প নস্ট করে দেয়’
    হ্যাঁ বাংলাদেশ বা অনুরূপ সমাজে যেখানে সাঈদ বা নবীর মত গুরুজনেরা টাকা ও সমাজের সর্ম্পক (পেশা) বিষয়ে অজ্ঞ, যেখানে টাকাকে পাপের প্রতিনিধী হিসেবে প্রচার করা হয়। সেখানে এই গুরুজনেরা প্রয়োজনের কারনেই যখন টাকার কুমিরে পরিনত হন তখন কি সমস্যা দেখা দেয়? তাঁদের মুখের কথা ও কর্ম এক থাকে না। তাঁদের প্রতিভার কারনে তাঁরা হয়তো তাঁদের লোভাতুর চোখকে লুকিয়ে রাখতে পারেন কিন্তু পুরো সমাজ?
    লোভে পাপে ডুবে যেতে থাকে…
    বাংলা ভাষার একটি প্রবাদ… ‘টাকার জন্য ভাই ভাইকে খুন করে’। আমরা যত তাড়াতাড়ী বুঝবো ততোই মঙ্গল।

    (সেই অজ্ঞতার বর্তমান রূপ—এখনকার আর্ট মার্কেট নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী, কেমন দেখছেন?
    রফিকুন নবী: আর্ট মার্কেট বলে তো আমাদের এখানে এখনো কিছু হয়ে ওঠেনি, বিদেশে যে রকম কিছু ঘটনা ঘটে সে রকম কিছু নেই। এখানে একই বায়ার, তারাই ঘুরে ফিরে ছবিটবি কিনে। কখনো কিনে, কখনো কিনে না। কালেক্টরস যে কেনাবেচা সেইটা তো এখনো আমাদের এখানে জোরালোভাবে গড়ে ওঠেনি…)

  2. আকাশ: এমন কি চিন্তা করেছেন ফিগারেটিভ বাদ দিয়ে…
    রফিকুন নবী: একটা সময় তো অ্যাবস্ট্রাক্ট করেছি আমি। করে তারপরে ফিগারে চলে এসেছি। আজ ফিগার করছি, কাল যে আবার মডার্নে চলে যাব না এমন কোনো কথা নেই…

    মন্তব্য: চিত্রকলার ছাত্রেরা সাবধান, ফিগারেটিভ কিন্তু আধুনিক নয়…

  3. আকাশ: ছবির তখন কী রকম প্রাইস ছিল?
    রফিকুন নবী: …পনেরো পনেরো তিরিশ টাকা। তাতেই খুশি আমরা। ছবি যে বিক্রি হয় এটিই আমরা জানতাম না। কেউ কিনবে কেন, এটি ভেবেই আমরা অস্থির। আমার ছবি কিনে করবে কিÑ এই প্রশ্ন করতাম। আমার ও হাশেম খানের একটি এক্সিবিশন হয়েছিল সিক্সটি এইটে। সেখানে বেশির ভাগ ছবিই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। নয় শ সাড়ে নয় শ, আট শ-সাত শ টাকায় ছবি বিক্রি হলো। আমরা তখন সোনায় সোহাগা। এত পয়সা রাখি কোথায়?রফিকুন নবী: আবেদিন স্যারদের ছবি একসময় পাঁচ হাজার ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, সেটি ষাটের দশকে। আমাদের হতো পাঁচ শ, ছয় শ করে ছাত্রদের। আমার প্রথম ছবি বিক্রি হয় ফার্স্ট ইয়ারে যখন পড়ি এনুয়েল এক্সিবিশনে সুযোগ পেলাম তখন। পনেরো টাকায়। দুটি বিক্রি হয়েছিল। পনেরো পনেরো তিরিশ টাকা। তাতেই খুশি আমরা। ছবি যে বিক্রি হয় এটিই আমরা জানতাম না। কেউ কিনবে কেন, এটি ভেবেই আমরা অস্থির। আমার ছবি কিনে করবে কি এই প্রশ্ন করতাম। …আমরা তখন সোনায় সোহাগা। এত পয়সা রাখি কোথায়?

    মন্তব্য: এই যে পেশা সর্ম্পকে অজ্ঞতা, নিজের সর্ম্পকে অজ্ঞতা সেটার ফলাফল কি?
    গতকাল আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ এক অনুষ্ঠানে বলছিলেন ‘টাকা শিল্পীর শিল্প নস্ট করে দেয়’
    হ্যাঁ বাংলাদেশ বা অনুরূপ সমাজে যেখানে সাঈদ বা নবীর এর মত গুরু জনেরা টাকা ও সমাজের সর্ম্পক বিষয়ে অজ্ঞ, যেখানে টাকাকে পাপের প্রতিনিধী হিসেবে প্রচার করা হয়। সেখানে এই গুরুজনেরা প্রয়োজনের কারনেই যখন টাকার কুমিরে পরিনত হন তখন কি সমস্যা দেখা দেয়? তাঁদের মুখের কথা ও কর্ম এক থাকে না। তাঁদের প্রতিভার কারনে তাঁরা হয়তো তাঁদের লোভাতুর চোখকে লুকিয়ে রাখতে পারেন কিন্তু পুরো সমাজ?
    লোভে পাপে ডুবে যেতে থাকে…
    বাংলা ভাষার একটি প্রবাদ… ‘টাকার জন্য ভাই ভাইকে খুন করে’। আমরা যত তাড়াতাড়ী বুঝবো ততোই মঙ্গল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »