১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৪

বিশ্ব চারুশিল্পের মিলনমেলা

IMG_9957

। ফরিদা ইয়াসমিন রত্না ।

বাংলাদেশ শিল্পানুরাগী জনগণের সুজলা সুফলা একটি নদীমাতৃক দেশ। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য এ দেশের মানুষের প্রাচীনকাল থেকে বিমোহিত করে আসছে। তাই তারা স্বভাবতই সত্য, সুন্দর ও শান্তির পথ অন্বেষণ করেন। শিল্প, সাহিত্য এবং সঙ্গীতের অনুরাগী হয়ে গভীর সাংস্কৃতিক কর্মকুশলতায় উজ্জীবিত। সংস্কৃতি একটি দেশের মনস্তাত্ত্বিক নেপথ্যের মূল চালিকাশক্তি। শিল্পকলা ও ভাস্কর্য এর অন্যতম। বাংলাদেশ সব সময় এই নন্দনশিল্পের চর্চা, ব্যবহার, সংরক্ষণ, প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত চারুকলাবিষয়ক সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী হলো দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ অনন্য প্রদর্শনী ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় আয়োজিত হলো মাসব্যাপী ‘১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-২০১৪’।

১ ডিসেম্বর ২০১৪ বেলা ১১টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় প্রধান মিলনায়তনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রদর্শনী ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সবাই স্মরণ করেন দেশবরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে। বক্তারা বলেন, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন একজন আপাদমস্তক বাঙালি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর অকস্মাৎ প্রয়াণে আমরা একজন অগ্রনায়ক যোদ্ধাকে হারিয়েছি। হারিয়েছি এশিয়ান বিয়েনালের একজন অন্যতম উপদেষ্টা ও পথপ্রদর্শককে।

১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-২০১৪ এ মোট ৩০টি দেশ তাদের অংশগ্রহণ করে। দেশগুলো হলো: আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ভুটান, ব্র“নাই, চীন, পূর্ব তিমুর, ভারত ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, জাপান, কুয়েত, কাজাকিস্তান, লেবানন, মিয়ানমার, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের ১০৪ জন শিল্পীর ২০৪টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে ৫৫ জন শিল্পী/ শিল্প সমালোচক এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।

এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের ৫১৮ জন শিল্পী তাঁদের শিল্পকর্ম জমা দেন। এসব শিল্পকর্ম থেকে নির্বাচন কমিটি যাচাই বাছাই করে ২০৯ জন শিল্পীর ২২৮টি শিল্পকর্ম নির্বাচন করেন; যা এখানে প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের শিল্পীদের শিল্পকর্ম নির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি শিল্পকর্ম নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, শিল্পী মনিরুল ইসলাম, শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, শিল্পী মনসুর উল করিম ও শিল্পী ড. ফরিদা জামান।

এ প্রদর্শনীতে Contemporary New Media Practices শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারের বিষয়বস্তু Key Note Paper উপস্থাপন করেন শিল্পসমালোচক জিয়াউল করিম এবং এর ওপর আলোচনা করেন শিল্পী মোস্তফা জামান মিঠু, শিল্পী হাসান আশিক ও শিল্প সমালোচক মাহমুদুল হোসেন।

১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-২০১৪ উপলক্ষে তুরস্ক থেকে Uguracan Akyuz, ভারত থেকে Ranabir Singh Kaleka ও চীন থেকে Gao Pehg বাংলাদেশ আসেন। বাংলাদেশ থেকে জুরি হিসেবে ছিলেন শিল্পী হাশেম খান ও স্থপতি রবিউল হোসেন।

শিল্পের সর্ববৃহৎ মিলনমেলা এশিয়ান বিয়েনাল। শিল্পী তাঁর শিল্প সাধনার সর্বোচ্চ শিল্প প্রয়াস দেখাতে চান এই বিয়েনালে। কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল। শিল্পী তাঁর শিল্পের সমৃদ্ধি, বিকাশ, মেধা, স্বাতন্ত্র্যের উজ্জ্বল উপস্থাপন শৈলী উন্মুক্ত করেন এই আন্তর্জাতিক বিয়েনাল পরিসরে। প্রতিনিয়ত নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তিগত উৎকর্ষ, একাগ্রতা, স্বাতন্ত্র্যতা, আশ্চর্যময়তার কঠিন সাধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টির পূর্ণতার স্বাক্ষর শিল্পীর শিল্প নির্মাণ। বিয়েনালের মাধ্যমে শিল্পী তাঁর নিজস্ব শিল্পধারা উন্মোচন করেন। এটি একটি উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম। শিল্পকলা বিকাশের গতিধারায় এশিয়ান বিয়েনাল এক অনন্য ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, গাম্ভীর্যে এবারের বিয়েনালের রয়েছে এক নতুন মাত্রা। আর সেটি হচ্ছে পারফরম্যান্স আর্ট। আয়োজকমন্ডলীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এবারের ১৬তম বিয়েনাল আর্ট অভিন্ন অনন্য। চারুকলাবিষয়ক নানা চর্চার মধ্যে একটি বৃহৎ পরিমন্ডল এখন পারফরম্যান্স আর্ট। শিল্পের আধুনিকায়নে পারফরম্যান্স আর্ট শিল্পের অন্যান্য শাখার মধ্যে একটি বিশাল জায়গা করে নিয়েছে। এবারের বিয়েনালে তাই পারফরম্যান্স আর্ট যুক্ত হয়েছে বিশাল কলেবরে, যা ১৬তম বিয়েনালের প্রজ্ঞা, ভাব-গাম্ভীর্যে এনেছে এক নতুন মাত্রা, ভিন্ন আস্বাদন। শিল্পের গতিমান ধারায় গতিশীল একটি আখ্যান পারফরম্যান্স আর্ট। ১৬তম বিয়েনালে পারফরম্যান্স আর্টের সাবলীল উপস্থাপন এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। বিগত ১৫টি বিয়েনালে পারফরম্যান্স আর্টের অনুপস্থিতি বিয়েনালের উজ্জ্বলতায়, জৌলুশতায়, প্রাণময়তায় একটি বড় শূন্যতা ছিল বলে বিয়েনাল আয়োজকমন্ডলী মনে করেন।

দ্বিবার্ষিক এই আয়োজন বর্তমান সময়ের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের শিল্পের এক বিশেষ সম্মিলনস্থল। শিল্পকলার আন্তআঞ্চলিক তৎপরতা ও বিকাশের এক প্রামাণ্য ছবি গড়ে তোলে এই দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনী। বর্তমান প্রদর্শনীতে নতুন মাধ্যমের গুণে নব নব ভাষার প্রতি শিল্পীদের উৎসাহের স্বাক্ষর মিলবে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীলতা ও নবতর ভাবনার উন্মেষের চর্চায় উৎসুক। পরিবর্তনের হাওয়া সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় বিভিন্ন মাধ্যমে কলাবৃত্তির উপস্থাপনায়। দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী শিল্পী, শিল্পানুরাগী, শিল্প সংগ্রাহক, ইতিহাসবিদ ও সমালোচক- সবারই মিলনমেলাই পরিণত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপির।

‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যেহেতু বিয়েনাল আর্ট ফেস্টিভ্যাল হয়ে থাকে, তাই এ রকম অনুষ্ঠানে বাড়তি চমক, ঝলকানি, চাকচিক্য কম প্রতীয়মান হয়। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন শিল্পবিষয়ক অন্যান্য উৎসব যেমন ঢাকা আর্ট সামিট ব্যক্তিমালিকানায় হয়ে থাকে। বড় বাজেট নিয়ে তাঁরা উৎসবের আয়োজন করেন। তাঁরা স্বাধীনভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু বিয়েনালের ক্ষেত্রে আমরা আয়োজকমন্ডলীরা নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এগুলো ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন কিছু প্রতিবন্ধকতা বিয়েনাল আয়োজনের ক্ষেত্রে। আমরা এসব বাধাকে পেছনে ফেলে ১৬তম এশিয়ান আর্ট বিয়েনালের সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি’- বললেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ১৬ম বিয়েনাল আয়োজন কমিটির সদস্যবৃন্দ।

‘বাংলাদেশের শিল্পীরা এক পরিবর্তনশীল ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। তাঁরা উপমহাদেশের তথা বৃহত্তর এশিয়া, এমনকি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিল্পীরা আমাদের আত্মপরিচয় সুদৃঢ় করেছেন এবং বিশ্বের দরবারে আমাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে সাহায্য করেছে। এমন একটি দ্বিবার্ষিক আয়োজন দেশের শিল্পরসিকদের জন্য দেশীয় শিল্পমেধার বিকাশের পাশাপাশি অপরাপর দেশসমূহের সৃষ্টিকর্ম দেখার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। অন্যদিকে এটি সমগ্র মানবগোষ্ঠীর মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনসমূহ সুদৃঢ় করে। জাতিসমূহের সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও নান্দনিকতার সর্বজনীনতার সূত্রে সৌহার্দ্যরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মানবীয় সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থাপনার সঙ্গে কাল্পনিক সৃষ্টির সংযোগ সাধন করে জীবন স্রোতে নতুন মাত্রা প্রদান করে’- ১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী নিয়ে এমনটাই বলেন শিল্পী হাশেম খান, যিনি এবারের বিয়েনালে বাংলাদেশ থেকে জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী নিয়ে শিল্পী ড. ফরিদা জামান বলেন- ‘সময়ের পরিক্রমায় এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী একটি বৈশ্বিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের সমকালীন শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর পাশাপাশি এ সকল দেশের মানুষ এবং সংস্কৃতির মধ্যে সম্প্রীতির নিবিড় বন্ধন রচনায় এই প্রদর্শনীর একটি সফল মাত্রা রয়েছে। যা প্রশংসার দাবিদার।’

সমকালীন শিল্পীদের নানা রকম প্রবণতা, ধ্যান-ধারণা, ভাবনার মিশ্রণ ঘটে এই ১৬তম বিয়েনালে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের কাজে। সুন্দরের আরাধনাই পরিস্ফুটিত হয় প্রতিটি শিল্পকর্মে। সব মিলিয়ে এ সময়ের নানা বিষয় আশয়, সমকালীন চিন্তাশৈলীর অবগাহন মাসব্যাপী ১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৪।

‘বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সহস্রাব্দপ্রাচীন। আমরা আমাদের আবহমান এ সংস্কৃতিকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। দ্বিবার্ষিক এ চারুকলা প্রদর্শনী একটি আন্তর্জাতিক কার্যক্রম এবং চারুকলা বিষয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ আয়োজন। চারুকলা বিষয়ে পৃথিবীর অন্যান্য আয়োজনের মধ্যেও এটি অন্যতম। এ দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনীতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অংশগ্রহণ করে। এর মাধ্যমে তাদের শিল্প সংস্কৃতি সম্পর্কে আমরা সম্যক ধারণা পেয়ে থাকি, যা আমাদের শিল্প সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের শিল্পীগণ আমাদের শিল্পসংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তা স্ব স্ব দেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন। এর ফলে আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক নিবিড় সাংস্কৃতিক যোগাযোগ। যা দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা মনে করি, এ আয়োজনের মাধ্যমে একটি সংস্কৃতিমনা জাতি হিসেবে আমাদেরকে বিশ্বসভায় তুলে ধরতে পারব। এবং এর ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। মোট কথা, একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার প্রয়াসে এ রকম একটি উদ্যোগ। আগামী বিয়েনালে ফটোগ্রাফি বিষয়কে এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা আছে আমাদের। এশীয় অঞ্চল থেকে এখন বিশ্বের সকলকে যুক্ত করার জন্য আমরা প্রস্তুত। সুন্দর-সফল একটি আয়োজনের পেছনে থাকে স্বপ্ন, কিছু মানুষের ত্যাগ ও উদয়াস্ত শ্রম। বিরাট এ আয়োজনের লক্ষ্য ছিল এশীয় তথা বিশ্ব শিল্পের আঙিনায় বাংলাদেশের শিল্পীদের পৌনঃপুনিক সাফল্যের উজ্জীবন। দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ আমাদের শিল্পীদের সেই স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্র, সেই আশাজাগানিয়া প্লাটফর্ম’- বললেন ১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৪-এর মুখ্য সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

‘১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৪’ তে গ্রান্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন: শিল্পী গুলশান হোসেন (বাংলাদেশ), শিল্পী আব্দুল মোমেন মিল্টন (বাংলাদেশ) ও শিল্পী হেসা আহম্মেদ কাল্লা (কাতার)। অনারেবল মেনসন্স পুরস্কার পেয়েছেন: শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন (বাংলাদেশ), শিল্পী বিশ্বজিৎ গোস্বামী (বাংলাদেশ), শিল্পী নুরুল আমীন (বাংলাদেশ), শিল্পী মইনুল ইসলাম পল (বাংলাদেশ), শিল্পী হামেদ আল জাবীর (ওমান) এবং শিল্পী ড. ফকরিয়া আল ইহাহিয়াল (ওমান)।

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীরা পুরস্কার প্রাপ্তির পর তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এভাবে: ‘যেকোনো পুরস্কার কাজের স্বীকৃতি। পুরস্কার পেয়ে ভীষন আনন্দিত আমি’ (শিল্পী গুলশান হোসেন, বাংলাদেশ)। ‘তরুণদের মধ্যে নিরীক্ষামূলক কাজের পরিধি বেড়েছে। বিয়েনালের মতো বড় বড় আর্ট ইভেন্ট সহায়তামূলক আমার কাছে মনে হয়’ (মোহাম্মদ আব্দুল মোমিন মিল্টন, বাংলাদেশ)। ‘পুরস্কার প্রাপ্তির অর্থ হচ্ছে নিজের অবস্থানকে আরও উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া। বিয়েনালে এবারই প্রথম পুরস্কার পেলাম। এটা ভিন্নমাত্রা আমার জীবনে’ (শিল্পী মইনুল ইসলাম পল, বাংলাদেশ)। “The total arrangement of Biennale, generally it’s good. But it should be more focus internationally” (শিল্পী হামেদ আল জাবরী, ওমান)। ‘সমাজের প্রতি কিছু কমিটমেন্ট শিল্পীর থাকে। বিয়েনালের পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে সে সামাজিক দায়বদ্ধতা বেড়েছে বলে মনে করছি’ (শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন, বাংলাদেশ)।
“It’s feels amazing. This is first time I visit Bangladesh & received grand award. Biennale exposition in Bangladesh just incredible” (শিল্পী হেসা আহম্মেদ কাল্লা, কাতার)।

পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিল্প-সংস্কৃতির আদান-প্রদান এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ রকম প্রদর্শনী একটি কার্যকর-প্লাটফর্ম। এ ধরনের একটি বড় প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা দেশি-বিদেশি শিল্পীদের শিল্প মেধা দেখতে পারি। যা আমাদের মতো শিল্পরসিক, আমরা যারা শিল্প-সাহিত্য-কৃষ্টি-সভ্যতা লালন করি, ভালোবাসি, তাদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমকালীন শিল্পকর্ম, শিল্পকর্মের ভেতরকার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য, যোগসূত্র সম্বন্ধে অবহিত হতে পারি। স্থাপনাশিল্প, ভিডি আর্ট, আর্টিস্ট পারফরম্যান্স প্রভৃতি নতুন নতুন শিল্পমাধ্যম সম্বন্ধে আমরা তারা অবহিত হতে পারছি। এশিয়ান আর্ট বিয়েনালে প্রদর্শনী দেখে আমাদের ভালো লাগছে। নন্দনশিল্পের এ মহাযাত্রা অব্যাহত থাকুক আমাদের ধমনিতে। মাসব্যাপী ১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৪ দেখতে আসা দর্শক ও শিল্পানুরাগীরা এমনটাই প্রত্যাশা করেন।

শিল্পের নিত্যনতুন কলাকৌশল রপ্ত করে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আমাদের চারুশিল্পীরা দেশের সমকালীন চারুশিল্পকে অন্য এক উচ্চতায় আসীন করেছেন। শিল্পীদের মতবিনিময়ের জানালা হিসেবে দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ সমগ্র এশীয় এবং আশপাশের দেশসমূহের শিল্পী ও সমঝদারদের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে। আর এখানেই এ আয়োজনের মাহাত্ম্য প্রতিফলিত। আবার ষোড়শ এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন হয়েছে বাংলাদেশের চারুশিল্পের প্রাণপুরুষ-শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবর্ষে। তাঁর সমগ্র জীবনের কর্মপ্রয়াস ছিল মানুষের রুচির দুর্ভিক্ষ দূর করে একটি প্রাণবান ও সৃজনশীল সমাজ গড়ে তোলা। তাঁর চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। উৎকর্ষে দিন দিন সমৃদ্ধ হোক এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল। শিল্পকলার নান্দনিকতা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বপ্রাণে ছড়িয়ে পড়ুক।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »