চারুকলার আন্তর্জাতিক আসর

কুষ্টিয়ায় ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প

10923409_10152769787139930_2873268832316129931_o

। ফরিদা ইয়াসমিন রত্না ।

নিরবধি কাল মর্ত্যলোকের সীমা যথাসম্ভব ভাঙতে চায়, নিজত্বকে প্রকাশ করে অমর করে রাখতে চায় সৃষ্টিশীল সত্তা। শাশ্বতবাদ অক্ষুণœ রেখে শাশ্বত শিল্পীসত্তা বেঁচে রয়। শিল্পীর অভিজ্ঞতা জীবনের বৃহত্তর বৃত্তের সঙ্গে সংঘাতে, সংস্পর্শে কিছুটা ভাঙে, আবার গড়ে আত্মপ্রত্যয়ের পথ ধরে; যা দৃঢ়তর ও সমৃদ্ধতর হয় কালের প্রেক্ষাপটে। প্রচলিত শিল্প-সৃষ্টির ধারা, রীতি, বিষয়বস্তু ভেঙে জিজ্ঞাসার ঢেউ লাগে শিল্প-মানসে। গতির স্পন্দন তীব্রতর হয় নিরীক্ষামূলক শিল্প সৃষ্টিতে। শিল্পী তাঁর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনেন। শিল্পী বিশ্বাস করেন, পরিবর্তন ছাড়া সৃষ্টি হয় না। সৃষ্টির প্রেরণা এই পরিবর্তনের জন্য কখনো জনক, কখনো সহায়ক। শিল্পী সৃষ্টির আকুতিতে সৃষ্টি করেন। শিল্পের সম্ভাবনার কপাট উন্মুক্ত করেন। ক্র্যাক সেই সম্ভাবনার বিপুলতায় সমৃদ্ধ ও ঋদ্ধ করে শিল্পসত্তাকে। অসাধারণ শিল্প উপাদান এবং প্রকাশক্ষমতার প্রাচুর্যের কারণে ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প একটি সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম। যেখানে অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার আয়ত্তে শিল্পীসত্তা তার উপলব্ধির একান্ত নির্জনতায় নিজেকে Explore (আবিষ্কার) করতে পারেন নিয়ত। সৃষ্টির মূর্তিময়তা, সম্ভাবনা, উদ্ভাবনা, নিগূঢ় অর্থবহতা, যথাযথ কিউরেটিং এবং যথাযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ক্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ক্যাম্প হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ের শিল্প বিশ্বের খোলা জানালা।

কুষ্টিয়ায় রহিমপুরে ঢাকা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে স্মরণ মৎস্য বীজ খামারে অনুষ্ঠিত হলো চারুকলার আন্তর্জাতিক আসর অষ্টম ক্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ক্যাম্প ২০১৪। গত ২৫-৩০ ডিসেম্বর ২০১৪ এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬টি দেশের ৩০ জন শিল্পী এই আর্ট ক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন। কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভারতের শিল্পী নীলাঞ্জনা নন্দী। বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ব্রাজিলের শিল্পীরা এই ক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন- অনুপম সিং, কাসিলদা এসপিনদোলা, চিরন্তন মুখার্জি, গোপা রায়, জিনাল সাঙ্গই, মুরারি ঝা, রাম মহার্জন, রাজিয়া রেজাই, রিতি মহার্জন, সুজন ডাঙ্গল, জিনাল প্যাটেল, শতুদ্রু শোভন, দীনেশ সুরাঙ্গা, দেলোয়ার হোসেন, অনন্ত কুমার দাস, অনাদি কুমার বৈরাগী, কনক আদিত্য, মেহেদী মাসুদ, তাহমিনা হাফিজ লিসা, পলাশ চৌধুরী, অনার্য তাপস, শক্তি নোমান, শাহীন মাহমুদ রেজা রাজন, তানজিম আহমেদ বিজয়, রোকসানা আমিন, তাসনুভা কালাম তন্নী, সাদিকা স্বর্না, রায়হান রাফি ও শাওন আকন্দ।

২০০৭ সাল থেকে এই মাল্টিডিসিপ্লিনারি আর্ট ক্যাম্পটি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কুষ্টিয়ায় এই আর্ট ক্যাম্পটির সূচনা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে; শিল্পী ও গবেষক শাওন আকন্দের নেতৃত্বে এবং শিল্পী দেলোয়ার হোসেনের আন্তরিক সহযোগিতায়। এই ক্যাম্পে শিল্পীরা প্রধানত সাইট স্পেসিফিক ও কনসেপচুয়াল আর্টওয়ার্ক নিয়ে কাজ করেছেন। শিল্প নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে স্থানীয় বিবিধ উপাদান ও পারিপার্শ্বিক প্রতিবেশ। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে শিল্পচর্চার ধারাকে এগিয়ে নিতে ক্যাম্পের শিল্পীরা কাজ করেছেন। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ী, লালনের ছেঁউড়িয়া, গোপীনাথ জিউ মন্দির, মোহিনী মিল ইত্যাদি) ঘুরে দেখেছেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন আর্ট উপকরণ সংগ্রহ করেছেন তাঁদের শিল্পকর্মের জন্য। এবারের আর্ট ক্যাম্পের কিউরেটরিয়ান থিম: ‘ট্যাপেস্ট্রি অব স্টোরিজ’-এর আলোকে শিল্পীরা তাঁদের শিল্পকর্ম নির্মাণ করেন।

ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তাঁদের আপন অভিজ্ঞতার কথা, তাঁদের শিল্প-ভাবনার কথা, সাইট-স্পেসিফিক ও কনসেপচুয়াল আর্টওয়ার্ক (ট্যাপেস্ট্রি অব স্টোরিজ) নিয়ে তাঁদের কথা-ভাবনা শেয়ার করেন।

‘বাংলাদেশের কনটেক্সটে এ রকম কোনো ক্যাম্প হয় না। আমরা অনেক দিন একসঙ্গে কাজ করছি। শিল্পসাধনার মাধ্যমে আমাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া (Interaction) হচ্ছে। পারস্পরিক মতবিনিময় আমাদের এই আর্ট ক্যাম্পের মূল উপজীব্য। আমরা অনেক বেশি প্রকাশিত একে অপরের সঙ্গে। এটা এই ক্যাম্পের মূল জায়গা, মূল মজা। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জায়গা থেকে একটি মানুষ একদমই আলাদা। কিন্তু এখানে বিদেশি শিল্পীরা এসে একদম মিশে যাচ্ছেন। আমাদের একজন হয়ে যাচ্ছে। এটা এই ক্যাম্পের একটি ভিন্নতা। শিল্পসত্তাই অনেক বেশি প্রাধান্য পায় এখানে। বহু আর্ট ক্যাম্পে আমি দেখেছি, ছেলে-মেয়ে কোথায় ঘুমাবে, এসব Gender sensitive বিষয় নিয়ে একটা বড় রকম সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু এখানে এসব বিষয় কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় না। শিল্পীসত্তাই এখানে মূল। আমরা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। পারস্পরিক নির্ভরশীলতা-ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পের মূল শক্তি। আমরা কোনো করপোরেট স্পন্সরশিপে যাই না। আমরা কোনো দাসত্বে নেই। আমরা মুক্ত। আমরা বিশ্বাস করি, কারও নিয়ন্ত্রণে এ রকম ক্যাম্প তার নিজস্বতা হারায়। মানুষের সমাজে গিয়ে আমি যদি নিজেকে হারিয়ে ফেলি, তাহলে তা সময়ের কালক্ষেপণ। অনেকগুলো মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হচ্ছে। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন জাতির লোক দূরদূরান্ত থেকে এখানে এসেছে। কিন্তু এই ক্যাম্পে কখনো মনে হয়নি আমার আলাদা প্রান্তের কেউ। আমরা সবাই এক। বিশ্বায়নের এ যুগে বিশ্বায়নের শক্তি নিয়ে ফাইট করা, পরস্পরকে চেনা- এটা এ ক্যাম্পের মূল শক্তি। আর্টওয়ার্ক যেমনই হোক না কেন, কোনো এসথেটিক না থাকুক সেখানে। কিন্তু পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এ ক্যাম্পের ভিন্ন মাত্রা।‘- বললেন ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পের পুরোনো সদস্য পলাশ চৌধুরী।

‘ক্যাম্পে যারা আসে তারাই ক্যাম্পের মূল সৌন্দর্য, চালিকাশক্তি, ধারক-বাহক। এই ক্যাম্প হচ্ছে একটি বাড়ি। শিল্পীর নিজের বাড়ি। অন্যান্য আর্ট ক্যাম্প গৎবাঁধা নিয়মের মধ্যে বাঁধা থাকে। এই ক্যাম্প কোনো নিয়মের মধ্যে চলে না। এই ক্যাম্প খোলা অক্সিজেন, খোলা মাঠ, খোলা জানালা। বাউল ও শিল্পীদের এক জায়গায় বসার একটা স্পেস এই ক্যাম্প। শিল্পী তাঁর তুলিতে নির্মাণ করে আর বাউল তাঁর গানে, বাণীতে, ভাষায়। লালন দর্শন শিল্পীদের মধ্যে বিস্তার করানোর অভিপ্রায় নিয়ে আমাদের এই ক্যাম্পের আয়োজন। এখন জানি না ভবিষ্যতে কে কবে সেটা করতে পারবে, সেই দর্শনকে নিজের মধ্যে আয়ত্তে রাখতে, আত্মস্থ করতে। এই ক্যাম্পের ধরনকে অনুসরণ করে ইতোমধ্যে অনেকে দেশে-বিদেশে আর্ট ক্যাম্প করছে। ২০০৭ সাল থেকে এই ক্যাম্প করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃষ্টিশীল কর্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের পাগলামিকে উপস্থাপন করা অর্থাৎ পাগলের কারখানা এই ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প। ক্যাম্পের সৌন্দর্যবর্ধনের মূল জায়গা বা দাবিদার আমি মনে করি শিল্পী ভাস্কর নিরূপম অধিকারী। আমি এই আর্ট ক্যাম্পে বিপন্ন বাউল (Threatened) থিম নিয়ে কাজ করেছি। খড় দিয়ে একটি ঘর বানিয়েছি এবং সন্ধ্যার পর সেই ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছি। আমাদের দেশে বাউলশিল্পীরা আজ বিপন্ন। তাঁদের চুল-দাড়ি কেটে দেওয়া হয়, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সমাজের এই নিষ্ঠুরতা আমাকে ভাবায়, কষ্ট দেয়।’- কুষ্টিয়ার শিল্পী দেলোয়ার হোসেন বললেন তাঁর শিল্পভাবনার কথা, বাউলদর্শনের কথা।

শিল্পী, গবেষক এবং ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পের মূল উদ্যোক্তা শাওন আকন্দ ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে বলেন, ‘ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে অনেকেই ভালো কাজ করেছেন, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও ভালো কাজ করবেন। সেই জায়গা থেকে আমি বলব, ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প সফল। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে সবার সঙ্গে সবার বিস্তর আলাপ-বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে শিল্পীদের সঙ্গে শিল্পীদের একটা নেটওয়ার্ক থাকবে সব সময়। চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ক্র্যাক সমৃদ্ধ হচ্ছে, নতুন চেহারা পাচ্ছে। এগুলোই ক্র্যাকের জন্য পাওয়া। ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে আমরা কোনো করপোরেট সাহায্য নেই না। কোনো রকম করপোরেট নিয়ন্ত্রণের বাইরে যে এ রকম একটি ক্যাম্প ৮ বছর ধরে বেঁচে আছে, এটাও ক্র্যাকের সফলতার জায়গা আমি বলব। আমি বিশ্বাস করি, ভাব বিনিময়ের জন্য কোনো করপোরেট সাহায্য দরকার হয় না। ক্র্যাক সেই ভাব বিনিময়েরই একটি প্ল্যাটফর্ম। ক্র্যাকের যে মূল চরিত্র, সেটা থেকে ক্র্যাক কখনো বিচ্যুত হবে না। ক্র্যাক নিজেই একটা শক্তি। এই শক্তির জোরেই ক্র্যাক বেঁচে থাকবে। একটা ভালো গুণগত আর্ট ক্যাম্পের পরিষ্কার ভিত্তি থাকতে হয়। সমমনা মানুষদের নিয়ে আমি কাজ করতে বেশি আগ্রহী। তাতে করে পারস্পরিক সংযোগটা ভালো ঘটে। যারা শিল্পকলার নতুন পথ খুঁজতে আগ্রহী, যারা একটি পরিবেশবান্ধব পরিবেশে কাজ করতে আগ্রহী, ক্র্যাক তাদের সঙ্গে কাজ করছে এবং আগামীতেও করবে।’

শিল্পী অনাদি বৈরাগী ছবি আঁকার পাশাপাশি বাউলগান করেন। বাউলদের রীতিনীতি, আচার-প্রথা তিনি সব সময় দেখেছেন অনেক কাছ থেকে। এই রীতিনীতি, ভাবধারাকে আত্মস্থ ও পরিশীলিত করেছেন নিজের জীবনচর্চায়। অষ্টম ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলেন এভাবে, ‘যেকোনো শিল্পের নিগূঢ় নির্মাণে দরকার শ্রম ও সাধনা। সাধনা সাপেক্ষে যেকোনো শিল্পের শাখা-প্রশাখা পরিপূর্ণতা পায়। আমি বিশ্বাস করি, একজন শিল্পী শুধু শিল্পীই নন; শিল্পী একজন সাধকও বটে। সৃষ্টিশীল কাজে প্রথাবদ্ধ নিয়মের অধীনে থাকা সব সময় মানানসই, চলনশীল নয়। জীবনের বাঁকে বাঁকে নিয়ত পরিবর্তনশীল আমাদের জীবনবোধ। আর জীবন বোধের প্রকান্ড এক দিগন্তরেখা আমাদের এই শিল্পের ভুবন ক্র্যাক। এই শিল্পের ভুবনে রয়েছে ভিন্নভাবে ভাবার স্বাধীনতা। ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে যখন আমি নিজের সৃষ্টি নিয়ে ভাবি, তখন নিজের ভেতর স্বকীয়তা অনুভব করি। এই স্বকীয়তা একজন শিল্পীকে চিহ্নিত করতে পারে তার সহজিয়া প্রকাশে। এই ক্যাম্পে আমার প্রজেক্টের থিম ছিল ‘Self-Entity’ (আপন সত্তা)। গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতি, জীবনপ্রণালি, গ্রামীণ ঐতিহ্য আমি ভালোবাসি এবং তা ধারণ করি। তাই আমার প্রজেক্টে দেশজ উপাদানের সমন্বয় ঘটিয়েছি। কড়ি, গামছা, মাদুলি, একতারা, মন্দিরাÑ এসব উপাদান দিয়ে কাজ করেছি। আমার জীবনাচরণে আমি যা ধারণ করি, পোষণ করি তারই প্রতিবিম্ব ‘Self-Entity’ (আপন সত্তা)। আপন সত্তার তালাশ ‘Self-Entity’। আপন সংস্কৃতি, আপন মানুষদের খুঁজে পাই ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে। ক্যাম্পের শেষ দিনের প্রদর্শনীতে আমার প্রজেক্টের সঙ্গে স্থানীয় গ্রাম-বাংলা মানুষদের যে ইন্টারয়্যাকশন দেখেছি, তা ভালো লেগেছে। সবাই যেমন খুশি তেমন বাউল সাজল, ছবি তুলল। আমি বা আমার অন্য শিল্পী বন্ধুরা যা সৃষ্টি করল, অর্থাৎ শিল্পীর ক্রিয়েশনে গ্রামীণ জনপদের মানুষদের যে অভূতপূর্ব সাড়া আমরা পেয়েছি, তা কখনোই ভুলবার নয়। এটাই শিল্পীর সার্থকতা, ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পের সার্থকতা।’

অষ্টম ক্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ক্যাম্প ২০১৪, কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন ভারতের শিল্পী নীলাঞ্জনা নন্দী। এই আর্ট ক্যাম্প নিয়ে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন এভাবে, ‘ক্যাম্প হচ্ছে গল্পের জায়গা, শেয়ারিংয়ের জায়গা, যোগাযোগের জায়গা। এবারের আর্ট ক্যাম্পের কিউরেটিয়াল থিম ‘ট্যাপেস্ট্রি অব স্টোরিজ’, কনসেপ্টের সঙ্গে পুরোপুরি আমরা সবাই মিশতে পেরেছি, কমিউনিকেট করতে পেরেছি, এটাই এই ক্যাম্পের মূল সাকসেস। একসঙ্গে আনন্দ করে, কাজ করে একটি টোটাল ক্রিয়েশন করতে পেরেছি- এটাই অনেক বড় বিষয়। এই প্রথমবার আমি ক্যাম্প কিউরেট করেছি। প্রচুর লোকের Application, প্রচুর কাজের theme code uncode করতে পেরেছি। আমি আমার কিউরেটেরিয়াল Venture ভীষণভাবে এনজয় করেছি। কিউরেটেরিয়াল জায়গাটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। অনেক বেশি বিশ্লেষণধর্মী আলাপ-আলোচনা হয়েছে এ ক্যাম্পে; যা একটি বড় ক্রিয়েশনে জরুরি। আমি বলব, ক্র্যাক শেয়ারিংয়ের একটি স্পেস। এই সাইটের ল্যান্ডস্কেপগুলো খুব সহায়ক শিল্পীদের জন্য। বাউল ফিলোসফি এক্সপ্লোর করতে পেরেছি আমরা এই ক্যাম্পে, যা এই ক্যাম্পের একটি মুখ্য দিক। পুরো ক্যাম্পের কাজগুলো সাকসেসফুল মনে হয়েছে আমার কাছে। একে অপরের স্টোরিগুলো প্রকাশ করতে পেরেছে। Indirectly Local Community-র মধ্যে শিল্পীদের কাজগুলো ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভালো দিক এই ক্যাম্পের। একটা Connectivity তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে। আর্ট কমিউনিটি তৈরি হচ্ছে এই স্পেসের মধ্য দিয়ে। এই ক্যাম্পে আমার কাজের বিষয়বস্তু ছিল ‘A Herd of Stories’ (গল্পগুচ্ছ)। ব্যাগের সঙ্গে অনেকগুলো শব্দের প্রয়োগ করেছি। ব্যাগ হলো একজন মানুষের আইডেনটিটি। ক্যাম্পে ৭ দিনের অনেকগুলো শব্দ আমি Perceive করেছি। সেই শব্দগুলোকে কাজে লাগিয়েছি আমার কাজের বিষয়বস্তুতে।’

স্টুডিও অধ্যয়ন থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারা মাধ্যমে কাজ অনুশীলনের একটি মাধ্যম এই আর্ট ক্যাম্প। আমার কাছে মনে হয় এটি একটি Alternative Art Practice Space। সাংবাদিক, সংগীতশিল্পী, চিত্রকর, অভিনেতা, অভিনেত্রী, ফটোসাংবাদিক অর্থাৎ যাঁরা সৃজনশীল কাজে রয়েছেন তাঁদের সবার সঙ্গে এক ছাদের নিচে সবার ধারণা নিয়ে কাজ করার একটি ছাদ এই আর্ট ক্যম্প। ইমপ্রেশিওনিস্ট সময়ে শিল্পীরা সন্ধ্যায় আড্ডার মাধ্যমে নিজেদের আইডিয়া, কনসেপ্ট শেয়ার করতেন। এই ক্যাম্পও তাই। পারস্পরিক আলাপচারিতার মাধ্যমে শিল্পীরা তাঁদের সৃষ্টি সম্বন্ধে আলোচনা করছেন। প্রতিদিনকার মিটিংয়ে নিজেদের বিষয়বস্তু শেয়ার করছেন। ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প একটি Open Space যে Space-এ স্বাধীনভাবে নিজের মতো করে কাজ করা যায়। নতুন অভিরচনার একটি জায়গা এটি। যে দর্শকেরা কখনই কোনো আর্ট দেখেননি, তাঁরা আর্ট দেখতে পারছেন। এটাই এ ক্যাম্পের মূল মজা। একটি Viewer ship তৈরি হচ্ছে এর মাধ্যমে। আমার কাছে মনে হয়, প্রতিটি ক্যাম্পই আলাদা। প্রতিবারই তার চেহারাটা আলাদা থাকে। নতুন আনন্দ, নতুন চেহারায় ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প Mature হচ্ছে। ভারতীয় শিল্পী শতদ্রু শোভন ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে শুরু থেকেই কাজ করছেন। মোটামুটি সব কটি ক্যাম্পেই তিনি কাজ করছেন। এবারের আর্ট ক্যাম্পে তিনি দুটি বিষয়ে কাজ করেছেন। শোভনের কাজের থিম ছিল: ‘Socio Cultural Fossil এবং Spike to extremity’. সম্পর্ক বুননের মাধ্যমে, সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়া- শতদ্রু শোভনের কাজের বিষয়বস্তু। তিনি বলেন, ‘ক্র্যাক একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। And tomorrow it will be a Global. অনেকগুলো শহরে ক্র্যাক তার জায়গা তৈরি করুক, ক্র্যাক বেঁচে থাকুক। এটাই আমার চাওয়া।’

ভারতের শিল্পী গোপা রায় ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে তাঁর সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার কথা বলেন। ‘আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু এখানে এসে এক ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই ক্যাম্পের লোকাল মানুষজন, তাদের জীবনযাপন, সবুজ পরিবেশ, উর্বর ভূমি, গ্রাম্য পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই স্পেসের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পেরেছি, যা ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। আর্ট ক্যাম্পের প্রতিদিনের সন্ধ্যার পর মিটিং, আলোচনা, পারস্পরিক মতবিনিময়, নিজের প্রবলেম এবং সেই প্রবলেমের একটি সমাধান বের হয়ে আসাÑ সবকিছুই বেশ ভালো লেগেছে; যা অন্য কোনো আর্ট ক্যাম্পে আমি দেখিনি। Rural environment, rural people, rural objects, কৃষকের জীবনযাপন, সবুজ ধানক্ষেত, কৃষিজাত উপাদানÑ আমি এসব বিষয় নিয়েই কাজ করি। সবুজ ধানক্ষেত, কাস্তে আমার কাজের উপাদান। আমার কাজের থিম হচ্ছে Saving Greenery. কাস্তের শেপ, ফর্ম নিয়ে কাজ করেছি এখানে। কৃষকের জীবনযাপন আমাকে বরাবরই টানে। তাই আমার কাজে কৃষিজাত উপাদান নিয়ে আমি গবেষণা করি। কাস্তে উপাদানটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছি আমি; যা একজন কৃষকের শক্তি। মানসিক সাহস। সমৃদ্ধির বাহন। কাস্তে দিয়ে কৃষক তার জমির ফসল কাটে। কৃষকের জীবনের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির পথ আবিষ্কারের একটি শক্তিশালী প্রতীক এই কাস্তে। তাই ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে আমি আমার প্রজেক্ট সাজিয়েছি কাস্তে দিয়ে। লোকাল কৃষি উপাদান খড় দিয়ে আমি কাস্তেগুলো বানিয়েছি। এই কাজে আমাকে ক্যাম্পের অন্যান্য শিল্পী, বিশেষ করে শিল্পী দেলোয়ার হোসেন ও শিল্পী অনাদি বৈরাগী দাদা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষজনের সঙ্গে আমার ইন্টারয়্যাকশন হয়েছে; যা আমি খুবই এনজয় করেছি। আমার খুব ইচ্ছা আছে ক্র্যাকের সঙ্গে আরও কাজ করার। এটা ভালো জায়গা একজন শিল্পীর কাজের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে।’

ব্রাজিলের জুয়েলারি ডিজাইনার কাসিলদা এসপিনদোলা ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এভাবে: ÔI am very very happy, It’s very surprising to me to visit Bangladesh first time. I am feeling very very happy. I am learning a lot here through their different process. This is my very first time in this art camp. And its a wonderful Art Camp I think. ‘Childrens & women’ my artwork theme in this art Camp’.

বাংলাদেশের গানের দল জলের গানের অন্যতম প্রধান ভোকাল ও শিল্পী কনক আদিত্য ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে বলেন। ‘ক্র্যাকের সঙ্গে শুরু থেকেই আমার যোগাযোগটা প্রবল। এবং এ যোগাযোগটা কোনো না কোনোভাবে আমি রাখি। সুযোগ পেলে নিজেও কাজ করি এই ক্যাম্প। অনেক দেশি-বিদেশি বন্ধু তৈরি করতে পেরেছি ক্র্যাকের মাধ্যমে। ক্র্যাক স্পেসের মজা হচ্ছে, এটি একটি ভালো মডেল। এই ধারায় সচরাচর কোনো আর্ট ক্যাম্প হয় না। অনুকরণীয় একটি মডেল এই ক্র্যাক। অর্থের সম্পর্ক এখানে কম। যা আছে, তা দিয়েই ক্যাম্পের কাজ হচ্ছে; যা স্বকীয়তা এই ক্র্যাকের। এই ক্যাম্পের আরও একটি মজার জায়গা হচ্ছে, লোকালয়ের অধিবাসী, স্থানীয় লোকজন ক্যাম্পের শেষ দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা খুব এনজয় করে। Art Camp একটি Art Fair-এ পরিণত হয়। বেশ একটি উৎসব উৎসব ঢং দেখা যায়। বারবার আসতে চাই এ রকম ভিন্ন একটি স্পেসে। মনের টানে, প্রাণের স্পন্দনে।

আফগানিস্তানের অধিবাসী রাজিয়া রেজাই বাংলাদেশে বসবাস করছেন এবং চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। শিল্পী না হলেও ফটোগ্রাফিতে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এভাবে: I have participated some photography exhibitions before time. But this is my first time Art Camp. And this is the most beautiful & effective art camp experience to me’.

‘বাংলাদেশে প্রথম আসা এবং সে সূত্রে ক্র্যাকেও প্রথম আমি। অষ্টম ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে আসার আগে আমি ক্র্যাক ক্যাম্প সম্বন্ধে জেনেছি আমার বন্ধুদের কাছ থেকে। কারণ, আমার অনেক বন্ধু ক্র্যাকে কাজ করছে নানাভাবে। ভারতের শিল্পী চিরন্তন মুখার্জি ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প সম্বন্ধে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এভাবেই। তিনি বলেন, ‘আগে আমি যত আর্ট ক্যাম্প করেছি তা শহরকেন্দ্রিক। কিন্তু এবারই প্রথম আমি শহর-নগর ভাবনার বাইরে থেকে বের হয়ে কিছু করার চেষ্টা করেছি। তাই ক্র্যাক আমার সেই প্ল্যাটফর্ম, যা নগরের বাইরে, শহরের বাইরে। আমাকে দুটো জিনিস ভাবিয়েছে এই ক্যাম্পের। প্রথমত খুব আত্মিক একটি চর্চা রয়েছে এখানে। আর দ্বিতীয়ত বাংলাদেশি খাবার। মুখরোচক খাবারের স্বাদ নিতে পেরেছি আমি এই ক্যাম্পে। Local urban structure নিয়ে কাজ হয়েছে এখানে; যা আমার ভালো লেগেছে। কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক উপাদান নিয়ে এত সুন্দর করে যে কাজ করা যায়, তা খুবই অবিশ্বাস্য এবং মুগ্ধ করার মতো। গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে আমরা কনক্রিট স্ট্রাকচার নিয়ে খুব বড় বড় কথা বলি। সেখানে এই আর্ট ক্যাম্পে নেপালের দুই শিল্পী কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক উপাদান দিয়ে লোকাল স্ট্রাকচার দাঁড় করিয়েছে; যা ভালো লাগার, যা সম্ভাবনা জাগায়। ক্র্যাক সম্ভাবনার কথা বলে। পুঁজিবাদী ধারা থেকে বের হয়ে ক্র্যাক কাজ করে যাচ্ছে, যা ভিন্নতা। শুধু শিল্পকলার সম্ভাবনা ক্র্যাক ক্যাম্প নয়। বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাকে প্রবল করে ক্র্যাক ক্যাম্প। আমার কাজ সাধারণত পারফরম্যান্স রিলেটেড। এই ক্যাম্পে আমি দুটি পারফরম্যান্স করেছি নদীর মধ্যে। আমার কাজের শিরোনাম ‘Waiting এবং Extended my waiting’ ক্র্যাক আমার কাছে শুধু ক্যাম্প নয়। এটা আমার নিজের ঘরের মতো। নিজের ঘর কিন্তু একটু বড় করে দেখা। অর্থাৎ ক্র্যাক আমার কাছে আমার পরিবারের মতো। তাই এখানে আমি বারবার আসব, কাজ করব সবুজের কাছে, নিসর্গের কাছে।

নেপালের শিল্পী সুজন ডাঙ্গল। ক্র্যাক ক্যাম্পে এবারই প্রথম তিনি। ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে সুজন তার অভিজ্ঞতার কথা বলেন এভাবে: ‘Art Camp in CRACK is very interesting as well as very important to develop south Asian Artist Network, as well as world Art too. In the Camp Artists around the world can experience local products like foods, materials as well as music which is very much important to me. May be this is the reason why I am here in kushtia, CRACK. About the art work concept, Sheba Ghar, (‡mev Ni) as well as materials I mostly like the thing is, first visiting the local market & understand the materials and then use local materials in art work, which is also some kind of promotion to local products. As well as I can would like to visit again in CRACK Camp. And it would be really great. If the artists from Bangladesh also come to Nepal and I could serve them as well’.

‘শিল্পীর জন্য যে স্বাধীনতা দরকার সেটা পুরোপুরি এ ক্যাম্পে ছিল। ক্যাম্পের কিউরেটরে ধৈর্য দেখে আমি অভিভূত। কিউরেটিং ব্যাপারটা আমি খুব উপভোগ করেছি। কিউরেটর শিল্পীকে বুঝে তিনি তার আলোচনা করেছেন এই ক্যাম্পে। শিল্প মানুষের গভীরেই থাকে। এটাকে প্রকাশিত করার জন্য দরকার হয় একটি স্পেস। ক্র্যাক সেই উপযুক্ত স্পেস। লালন দর্শনের প্রতিফলন এই ক্যাম্পে পাওয়া যায়। ক্র্যাকের ভিন্ন রকম চর্চার জায়গাটা বাংলাদেশের আর কোনো ক্যাম্পে দেখা যায় না। শিল্পী যেভাবে চায় সেভাবেই সে তার চিন্তার কাজের প্রতিফলন ঘটাতে পারে এই ক্যাম্পে। এক আত্মা, পানিতে মিশে যাওয়া, সবুজে মিশে যাওয়া, প্রকৃতিতে মিশে যাওয়া। সবকিছু মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে, অবশিষ্ট আর কিছু থাকবে না। বাংলাদেশের শিল্পী মেহেদী মাসুদ ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্পে তাঁর কাজের বিষয়বস্তু ‘Space, Time, Person’ (স্থান, কাল, পাত্র) এভাবেই তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাউলিয়ানা চরিত্রটা ক্র্যাকের মধ্যে আমি পেয়েছি, যা একজন শিল্পীর জন্য প্রয়োজনীয়।’

শ্রীলঙ্কার শিল্পী দিনেশ সুরাঙ্গা ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এভাবে: ‘This is the best Art Camp & my first Art Camp. I love the total atmosphere of this art camp CRACK. And CRACK belongs to a very conceptual art arena in the world’.

বাংলাদেশের তাসনুভা কালাম ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এভাবে: ‘একটি আর্ট ক্যাম্প যে এত বেশি Connected হতে পারে, তা আমার ধারণা ছিল না। ভীষণ ভিন্ন রকম একটি স্পেস ক্র্যাক। Friendly Environment পেয়েছি এখানে, যা খুব ভালো লেগেছে। এই রকম আর্ট ক্যাম্প অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুবই নতুন। ক্র্যাক অনেক বেশি Organized, যা ভালো লেগেছে।’

‘The Place I was born, CRACK is so much like that means it’s my home. I feel very much connection. I learn lot. This is International Art Camp. This is the big learning platform. Here I made friends. They are friendly, polite. These are the things I love. I am exploring the ideas about inside & outside. I am watching my society, Family. CRACK is a wonderful creation Platform. There are lots of Interactions, we exchanges. CRACK is crossing 10 years ahead. It’s a big achievement I think’ ভারতের শিল্পী মুরারি ঝা অষ্টম ক্র্যাক আর্ট ক্যাম্প নিয়ে এভাবেই তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »