আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব

ছবি মেলা

chobimeela

২৩জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি অষ্টমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ছবি মেলা আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব। দুই সপ্তাহব্যাপী আলোকচিত্রের এই উৎসব উদ্বোধন করা হয় ২৩ জানুয়ারি বেলা তিনটায়। এবারের আয়োজনে ১১টি ভেন্যুতে চলছে প্রদর্শনী। ভেন্যুগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বকুলতলা, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কট, দৃক, বিউটি বোর্ডিং, বৃত্ত আর্ট, নর্থব্রুক হল এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া সেন্টার। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রিশের অধিক শিল্পী আলোকচিত্রের এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করছেন। এবারের উৎসবের নির্ধারিত থিম ‘ইন্টিমেসি’। জাতীয় শিল্পকলা একাডেমীতে এর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, লেন্স ব্লগের সম্পাদক এবং নিউইয়র্ক টাইমসের সিনিয়র স্টাফ আলোকচিত্রী জেমস এস্ট্রিন এবং গিও ম্যাগাজিনের আলোকচিত্র পরিচালক রুথ ইখর্ন। এ বছর কিংবদন্তি আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনকে বাংলাদেশের আলোকচিত্র জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বেলা তিনটায় প্রেসক্লাব থেকে শিল্পকলা একাডেমী পর্যন্ত একটি র‌্যালির আয়োজন করা হয়। দৃক, পাঠশালা ও ছবি মেলার সদস্যরা, আলোকচিত্রীরা এবং নানা পেশা ও শ্রেণির মানুষ এই উৎসবমুখর র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব পরিচালক শহিদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আলোকচিত্র একটি শক্তিশালী অস্ত্র, কিন্তু যুদ্ধ কেবল অস্ত্র দিয়েই জয় করা যায় না, যুদ্ধজয়ের জন্য লোকবলও সমানভাবে জরুরি। তাই বহু বছর আগে আমি আমার দুজন বন্ধুকে ফ্রান্সের আর্লস শহরের উৎসবে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার আরেক বন্ধু আব্বাস, যে কিনা তখন ছিল ম্যাগনামের চেয়ারম্যান, তাদের দুজনকে সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে কোনো একসময় কিংবদন্তিরা হেঁটে গিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি আয়োজনের জন্য দৃক ও পাঠশালার সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, ‘এটি কেবল শুরু, আমি নিশ্চিত, কয়েক বছর পর যখন ছবি মেলা আরও সফল হবে, তখন আমরা এই দিনটাকে স্মরণ করব এবং এই ভেবে আনন্দিত হব যে আমরা এই অসাধারণ দিনটার সাক্ষী ছিলাম। এবং আমাদের সন্তানেরা এবং তাদের সন্তানেরা আমাদের এই ভূমিকার জন্য আমাদের মনে রাখবে।’ জেমস এস্ট্রিন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী এবং তাদের কাজের প্রশংসা করেন। এবং তরুণ আলোকচিত্রীদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য দৃক এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটকে কৃতিত্ব দেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী দৃকের ২৫ বছরের প্রশংসাসূচক অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের আলোকচিত্রশিল্পকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে পাঠশালার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ছবি মেলার নান্দনিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা ছবি মেলার মাধ্যমে আগামী দুই সপ্তাহ শিল্পকলার গ্যালারির দেয়ালগুলোতে এবং ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যেই বিশ্বমানের উপস্থাপনাগুলো দেখবেন, সেগুলো যেমন নান্দনিক, তেমনি মানসম্পন্ন আর্টিস্ট টক আর কর্মশালাগুলোও। গ্যালারির বাইরের প্রদর্শনীগুলোর মূল উদ্দেশ্য কেবল একটি শ্রেণির জন্য নয়, বরং জনসাধারণের জন্য।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংস্কৃতিব্যক্তিত্ব মিতা চৌধুরী। উদ্বোধনের পর বিশেষ অতিথিরা গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং ছবিগুলোর প্রশংসা করেন। শিল্পকলা একাডেমীর গ্যালারিতে যাঁদের কাজ থাকছে তাঁরা হলেন আন্তোয়ান ব্রুই, আর্থার বন্ডার, দীনেশ অবিরাম, হাদী উদ্দীন, যানা রোমানোভা, জান্নাতুল মাওয়া, কেভিন বুব্রিস্কি, ল্যারি টাওয়েল, লরা এল-তানতাউই, ম্যালকম হাচেসন, মারিয়া কাপায়েভা, মিশেল লে বেলহোম, পাওলো পাত্রিজি, রতিমি ফ্যানি-কায়োদে, তুশিকুর রহমান ও শিরিন নিশাত। ১১টি ভেন্যুজুড়ে এই উৎসব চলবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের ছবি মেলার বিষয় হছে ‘অন্তরঙ্গ’ এবং প্রায় ২২টি দেশ থেকে ত্রিশের অধিক শিল্পীর কাজ এবারের উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। ৬টি গ্যালারি মিলিয়ে এবার রয়েছে ৩২টি প্রিন্ট প্রদর্শনী এবং একটি ভিডিও প্রজেকশন। প্রদর্শনী ছাড়াও আয়োজনের মধ্যে আরও রয়েছে লেকচার, প্যানেল ডিসকাশন, আর্টিস্ট টক, গ্যালারি ওয়াক, ওয়ার্কশপ আর পোর্টফোলিও রিভিউ। এসব আয়োজনের বেশির ভাগই বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে। শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও থাকছে এই আয়োজনে।

এই আয়োজনের সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, এ্যাম্বাসি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ঢাকা, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং গ্যেটে ইনস্টিটিউট। অ্যাসোসিয়েট পার্টনার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, বার্জার পেইন্ট ও স্কয়ার গ্রুপ। ফ্যাসিলিটেটিং পার্টনার মোহাম্মদী গ্রুপ, নভো এয়ার, বাংলা ট্র্যাক কমিউনিকেশন্স, বেক্সিমকো গ্রুপ, স্প্যানিশ এ্যাম্বাসি এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ। ইন্টারক্লাউড প্রযুক্তি সহযোগী। ক্যাটালগটি এবারের অন্যতম আকর্ষণ; যেটি করতে আমাদের সহায়তা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ফ্লোরা, দ্য এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং টাইগার মিডিয়া আতিথেয়তায় সহযোগিতা করেছে।

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »