হিন্দি সিনেমার প্রদর্শন ও আমাদের অবিকশিত সৃজনশীলতা

bmdb

।স্বকৃত নোমান।

কদিন আগে আমাদের চলচ্চিত্রের বড় বড় অভিনেতা, অভিনেত্রী, প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, কলাকুশলীরা কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নামলেন হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানাতে। একই সঙ্গে আমার পরিচিত-অপরিচিত বেশ কজন বুদ্ধিজীবী বা উঠতি বুদ্ধিজীবী রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ করলেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। আমন্ত্রণ পেয়ে আমিও ওই প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলাম। না, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য নয়, গিয়েছিলাম তাদের যুক্তিগুলো বোঝার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। পত্রপত্রিকাতেও কম লেখালেখি হয়নি। অধিকাংশেরই একমত, কোনোভাবেই হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন উচিত নয়।

কাফনের কাপড় পরে মিছিল দেখে এবং প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যগুলো শুনে, ফেসবুকে নানা প্রতিক্রিয়া পড়ে হাসির উদ্রেক হয়েছিল। শুধু উদ্রেক নয়, হেসেছিও বটে। কেন? এই জন্য যে, একুশ শতকের প্রাযুক্তিক উৎকর্ষের এই সময়ে এসে এক দেশের সিনেমা আরেক দেশের প্রেক্ষাগৃহে চালানো যাবে না, এমন শিশুসুলভ প্রতিবাদ বা গোঁ বা আবদার দেখে না হেসেই আসলে উপায় থাকে না।

আমার বাড়ি ফেনী জেলায়। আমার কৈশোর-তারুণ্যে জেলা শহরে চারটি সিনেমা হল ছিল। হয়তো এখনো আছে। আমি বহুবার এসব হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছি। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি সিনেমাও দেখেছি অনেক। একটি ইংরেজি সিনেমার কথা এখনো মনে আছে, ‘টারমিনেটর টু’ বা এজাতীয় কিছু একটা নাম। সিনেমাটি বাংলাদেশে নির্মিত নয়, এটি ইংরেজি ভাষার অর্থাৎ এটি একটি বিদেশি সিনেমা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় একবার করে হলগুলোতে ইংরেজি সিনেমা প্রদর্শিত হতো। সম্ভবত এখনো হচ্ছে। আমি জানি না তখন, আমার সেই কৈশোর-তারুণ্যের দিনগুলোতে কিংবা এখন বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাংলাদেশি সিনেমা হলে এই ইংরেজি সিনেমা প্রদর্শনের বিরোধিতা করে মিছিল-মিটিং করেছিলেন বা করছেন কি না।

ইংরেজি সিনেমা তো হলে দেখতে পারতাম, কিন্তু হিন্দি সিনেমা? হলে তো হিন্দি সিনেমা প্রদর্শিত হয় না। কীভাবে দেখব? উপায় কী? গ্রামে তো ডিশ নেই যে টিভিতে দেখব! তারও একটা উপায় আবিষ্কার করলাম একদিন। আমাদের উপজেলা সদর পরশুরামের কাঁচাবাজারে একটা দোকান আবিষ্কার করলাম। একসময় দোকানটিতে চা-পরোটা বিক্রি হতো, এটা এখন একধরনের সিনেমা হলে রূপান্তরিত হয়েছে। কেমন? আঠারো ইঞ্চি একটা রঙিন টেলিভিশনে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শিত হয় মাত্র পাঁচ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে। তখন পাঁচ টাকা দিয়ে কত হিন্দি সিনেমা যে দেখেছি তার কোনো গোনাগুনতি ছিল না। শুধু ছেলেরা কেন, বড়রাও ভিড় করত হিন্দি সিনেমা দেখতে। তিন ঘণ্টা পর পর শো হতো। প্রতি শোতে কম করে হলেও বিশ-পঁচিশ জন দর্শক থাকত। গ্রাম্য কাটমোল্লাদের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে দর্শকেরা চিত্তবিনোদনের জন্য এসব ‘মিনি হলে’ হিন্দি সিনেমা দেখতে ভিড় করত।

গ্রাম-গঞ্জে এখনো হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের এই বিকল্প পদ্ধতিটি জারি আছে। নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের এই বিকল্প পদ্ধতিটি আমি সাম্প্রতিক কালেও দেখেছি। কিন্তু কই, এর বিরুদ্ধে তো কেউ প্রতিবাদ করছে না, কেউ সভা-সমাবেশ করছে না, কেউ কাফনের কাপড় পরে মিছিল করছে না। তাহলে একই হিন্দি সিনেমা দেশের প্রেক্ষাগৃহসমূহে প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কেন প্রতিবাদ মিছিল করতে হবে? কেন প্রতিবাদ সমাবেশ করতে হবে? কেন কাপনের কাপড় পরে মিছিল করতে হবে? হিন্দি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন বন্ধের প্রতিবাদের আগে তো সেসব ‘মিনি হলে’ প্রদর্শনের বিরোধিতা করা উচিত। সাধারণ বিবেক তো তাই বলে।

অপরদিকে, আমি পাঠক। আমাকে প্রচুর বই পড়তে হয়। কোন ভাষার, কোন দেশের তা আমার বিবেচ্য নয়। পড়ার মতো বই হলেই বইটির অনুবাদ আমি কিনে পড়ি। এসব বই কিনতে পাওয়া যায় শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে বা কনকর্ড টাওয়ারের বই বিপণিবিতানগুলোতে। এ দুটি মার্কেট থেকে কেনা বইগুলোর অধিকাংশই কলকাতার বই। যেমন ধরা যাক বাংলা ভাষায় অনূদিত রাশিয়ান বা আমেরিকান বা ল্যাটিন আমেরিকান একটা উপন্যাস কিনব আমি। উপন্যাসটির অনুবাদ বাংলাদেশেও পাওয়া যায়, বাংলাদেশের কোনো অনুবাদক উপন্যাসটির অনুবাদ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশি অনুবাদটির চেয়ে কলকাতার অনুবাদটি অনেক বেশি ভালো। তাহলে আমি কোনটি কিনব? টাকা খরচ করে তো আর খারাপ অনুবাদটি কিনব না। স্বাভাবিক কারণেই আমাকে কলকাতার অনুবাদটি কিনতে হয়। আমার মতো হাজারো পাঠক তাই করেন।

সিনেমা হলে সিনেমা প্রদর্শিত হয়, সেই সিনেমা দর্শক দেখে। একইভাবে লাইব্রেরিতে বই প্রদর্শিত হয়, সেই বই পাঠক কিনে ও পড়ে। এখন যদি কেউ প্রতিবাদ করে, বাংলাদেশের লাইব্রেরিতে কলকাতার বই বা ইংরেজি বা পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষার বই প্রদর্শন করা যাবে না। বিদেশি বই কোনো বাঙালির পড়া উচিত নয়। পড়লে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে, আমাদের প্রকাশকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তার এই যুক্তিটি কি মানার মতো? অবশ্যই না। জ্ঞানের কোনো দেশ-বিদেশ নেই। দেশ থেকে একটা ভালো বই প্রকাশিত হলে যেমন আমি পড়ব, তেমনি বিদেশি বইটিও আমি পড়ব। হাসান আজিজুল হক বা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বা সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা বা গল্প কি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়নি? বিদেশের পাঠকেরা কি পড়ছেন না?

একইভাবে বাংলাদেশের বাজারে প্রতিদিন প্রচুর ভারতীয় পণ্য বা বিদেশি পণ্য বিক্রি হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কই, আমরা তো বিদেশি পণ্য বাংলাদেশের বাজার থেকে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিবাদ করি না। বিদেশি বলে বরং বেশি টাকা দিয়ে কিনি। তাহলে কেন আমাদের সিনেমা হলে সিনেমা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে? সিনেমা কি পণ্য নয়? পণ্য না হলে কেন ‘বাণিজ্যিক সিনেমা’ কথাটি ব্যবহার করা হয়? কেন বলা হয় হিন্দি সিনেমা দেশের হলে প্রদর্শিত হলে দেশের সিনেমা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা। তা-ও আবার কোনো ধরনের যৌথ প্রযোজনা ছাড়াই। ৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ের রতœগিরি এলাকার আনন্দ চিত্রা মন্দির প্রেক্ষাগৃহে চলছে অ্যাডাম দৌলা পরিচালিত ‘বৈষম্য’। সিনেমাটি স্টার সিনেপ্লেক্সের শো-মোশন লিমিটেডের মাধ্যমে ভারতের বিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রদর্শনের জন্য রপ্তানি করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় ছবিটি ভারতে মুক্তি পায়। কই, ভারতের দর্শকেরা তো এ নিয়ে টু-শব্দটি পর্যন্ত করল না। তারা তো বলেনি বাংলাদেশি সিনেমা আমাদের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা যাবে না! না, তারা বলবে না। কারণ তারা আমাদের মতো অতটা কূপমন্ডূক নয়, অতটা অসৃজনশীল নয়।

বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে এখন যেসব দেশীয় সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে, হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া তার অধিকাংশই মুম্বাই বা কলকাতা বা তামিল সিনেমার হুবহু নকল। সাম্প্রতিক কালে মুক্তি পাওয়া অন্তত অর্ধশত তথাকথিত বাণিজ্যিক ছবির নাম দিতে পারব, যেগুলো হুবহু হিন্দি বা কলকাতার সিনেমার নকল। দেশীয় সিনেমা সংশ্লিষ্টদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা দিনের পর দিন হিন্দি সিনেমা নকল করবেন, নকলকৃত মানহীন বস্তাপচা ছবি দর্শকদের দেখতে বাধ্য করবেন, দর্শকদের সঙ্গে দিনের পর দিন প্রতারণা করে যাবেন, তাতে কোনো বাধা নেই, বাধা শুধু সেই আসল সিনেমাটা, অর্থাৎ হিন্দি সিনেমটা হলে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে? কেন এই স্ববিরোধিতা? এটা তো লজ্জার ব্যাপার। ন্যূনতম লজ্জা থাকলে তো হিন্দি সিনেমা নকল করে বাংলা করতেন না, নকল সিনেমায় অভিনয় করতেন না, নকল সিনেমার প্রযোজক-পরিচালক-কুশীলব হতেন না, নকল সিনেমা বাজারজাত করে দর্শকদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন না। দর্শকেরা যদি এখন আপনাদের এই প্রতারণার প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তখন কী জবাব দেবেন? আপনাদের মুখগুলো কোথায় ঢাকবেন?

যদি এমন একটা জরিপ চালানো হয়, বাংলাদেশের যেসব এলাকায় এখন ডিশলাইন পৌঁছেছে সেসব এলাকার দর্শকেরা সবচেয়ে কোন চ্যানেলটি বেশি দেখেন? নিশ্চিতভাবেই উঠে আসবে ‘জি বাংলা’, ‘স্টার জলসা’ ও ‘স্টার প্লাস’-এর নাম। বাংলাদেশের কোটি কোটি নারী দর্শক এসব চ্যানেলের দর্শক, ভক্ত। কেন? বাংলাদেশে কি চ্যানেলের অভাব? না, অভাব নেই। অনেক চ্যানেল। কিন্তু দেখার মতো কটি চ্যানেল? ঘণ্টায় ঘণ্টায় সংবাদ, বিজ্ঞাপনের জোয়ার এবং বিরক্তিকর টক শোর কারণে দর্শকেরা বিরক্ত হয়ে দেশীয় চ্যানেলগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বিদেশি তথা ইন্ডিয়ান চ্যানেলের। এটা দর্শকের দোষ মোটেই নয়, দোষ চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের। তারা দর্শকের রুচি বোঝেন না, দর্শক যা চায় তা দিতে পারেন না, দর্শকদের সন্তুষ্ট করতে পারেন না। একটা ভালো নাটক, একটা ভালো অনুষ্ঠান তারা উপহার দিতে পারেন না। নিজেদের ব্যর্থতার দোষ চাপিয়ে দেন দর্শকদের ঘাড়ে।

আবার, আমাদের দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে যেসব অনুষ্ঠান প্রচারিত তার অধিকাংশই কি কলকাতা বা ইন্ডিয়ান চ্যানেলের অনুকরণ নয়? একেবারে হুবহু নকল। ইদানীং আবার ‘জি বাংলা’য় যেসব বাজে নাটক প্রচারিত হয়, সেগুলোর হুবহু অনুকরণে বাংলাদেশের বেশ কটি চ্যানেলে নাটক প্রচারিত হচ্ছে। এটা একধরনের অপরাধও বটে। এই হুবহু নকলের বিরুদ্ধে, এই আইডিয়া চুরির বিরুদ্ধে কেউ কি কখনো প্রতিবাদ করেছেন? করেননি। তাহলে হিন্দি সিনেমা হলে প্রদর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কেন? কোন যুক্তিতে? কোন মুখে?

আন্দোলনকারীদের কেউ যুক্তি দিতে পারেন, হিন্দি সিনেমা আমাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে, তাই এই সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, ‘জি বাংলা’ বা ‘স্টার জলসা’ বা ‘স্টার প্লাস’ বা ‘পিস টিভি’ বা ‘জি সিনেমা’ কি সংস্কৃতি ধ্বংস করছে না? তা ছাড়া সংস্কৃতি কি তাসের ঘর যে সামান্য ঝড়েই ধ্বংস হয়ে যাবে? সংস্কৃতি কি ধ্বংস হওয়ার জিনিস? মোটেই না। সংস্কৃতি নদীর মতো। সংস্কৃতি অনেক কিছু গ্রহণ করবে, বর্জন করবে। গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি নিজের গতিতে নদীর মতো নিজের পথে চালিত হবে। সংস্কৃতি ধ্বংস হওয়ার জিনিস নয়। অখ-, অপরিবর্তিত সংস্কৃতি বলতে কিছু নেই। সংস্কৃতি সব সময় গতিপথ পরিবর্তন করে। হিন্দি সিনেমা সংস্কৃতি ধ্বংস করলে তো একইভাবে ইংরেজি সিনেমাও ধ্বংস করার কথা। কিন্তু কই, ইংরেজি সিনেমা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তো কোনো প্রতিবাদ নেই। এসব কথা আসলে আমাদের সাংস্কৃতিক কূপমন্ডূকতা ছাড়া আর কিছু নয়।

বস্তুত, একুশ শতকের এই কালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। ঘরে বসে আমি টিভি চালু করে আমেরিকার বা লন্ডনের বা রাশিয়ার বা সৌদি আরবের যেকোনো চ্যানেল দেখতে পাচ্ছি। সেসব চ্যানেলে প্রদর্শিত সিনেমা দেখতে পাচ্ছি। দেখতে ভালো না লাগলে আমি অন্য চ্যানেলে ঢুকে পড়ছি। এটা প্রতিযোগিতার বাজার। যার পণ্য যত বেশি উৎকৃষ্ট, ভোক্তা শ্রেণি তার পণ্যই কিনবে। একটা চ্যানেলে যে অনুষ্ঠান দেখতে ভালো লাগবে দর্শক সেই অনুষ্ঠানই দেখবে। সিনেমা হলে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ করবেন, কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় যে ‘মিনি হিন্দি সিনেমা হল’ রয়েছে, সেগুলো কীভাবে বন্ধ করবেন? ইন্ডিয়ান টিভি চ্যানেলগুলো কীভাবে বন্ধ করবেন?

সুতরাং সংস্কৃতি ধ্বংসের দোহাই দেবেন না দয়া করে। বাণিজ্যের দোহাই দিয়েও লাভ হবে না। হিন্দি সিনেমার এই নকলকৃত বাণিজ্য আমরা দেখতে চাই না। এফডিসি প্রতিষ্ঠার চল্লিশের বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, এতটা বছর আপনারা কী করলেন? কেন পারলেন না বাংলাদেশের সিনেমাকে বিশ্বদর্শকের কাছে নিয়ে যেতে? এটা কি আপনাদের ব্যর্থতা নয়? সফলতার জন্য আর কত দিন সময় দিতে হবে আপনাদের? কত বছর? কত যুগ? আপনারা আগে সৎ হোন। মারিং-কাটিং তথা নকলবাজি বন্ধ করুন। হিন্দি সিনেমা হুবহু নকল করে হলে প্রদর্শন করে দর্শকের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করুন। নিজেরা আগে সৃজনশীল হোন। আপনাদের সৃজনশীলতা দিয়ে বিশ্বজয় করুন। দেখবেন, একদিন আপনাদের সিনেমা কলকাতার হলে, দিল্লির হলে, আজমির, বেনারস, গুজরাট, অমৃতসরের প্রেক্ষাগৃহে কিংবা আমেরিকা, লন্ডন, চীন, রাশিয়ার প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সিনেমার নাম বিশ্বদর্শকদের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। যেমন উচ্চারিত হচ্ছে হিন্দি সিনেমার কথা। সেদিন দর্শকেরাই আমাদের প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে হিন্দি সিনেমাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে। সৃজনশীলতার বিকাশ না ঘটিয়ে সংস্কৃতির এই আদান-প্রদানকে জবরদস্তি মূলকভাবে বন্ধ করতে চাইলে জাতি হিসেবে আমরা কূপমন্ডূক হয়ে পড়ব। বিশ্ব আমাদের চিহ্নিত করবে একটি কূপমন্ডূক জাতি হিসেবে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

FacebookTwitterGoogle+Google GmailPinterestLinkedIn

One comment on “হিন্দি সিনেমার প্রদর্শন ও আমাদের অবিকশিত সৃজনশীলতা
  1. Skdas says:

    এই কথাগুলোই এতোদিন আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিলো! সেই পাকিস্তান আমলেও আমাদের ঢাকার ছবিগুলো ( বেহুলা, আগুন নিয়ে খেলা,সুতরাং,চান্দা,তালাশ, রূপবান…..) সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে চলতো যার অধিকাংশই আজ বন্ধ হয়ে গেছে অথবা মার্কেটে রূপান্তরিত হয়েছে। আর এই শিল্পের সাথে জড়িত বহুলোক বেকার হয়ে গেছে। তাই সেই সোনালী দিনের নায়করাজকেও যখন দেখি বিরুধী মিছিলে সামিল হতে তখন তো হাসি পাবেই। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ফেসবুকে চিত্রম

সর্বশেষ সংবাদ

মাসিক আর্কাইভ

নিউজলেটার পেতে সাবসক্রাইব করুন

     Read More »